সাফ নিয়ে বড় স্বপ্ন বাংলাদেশের

Printed Edition
khela-2
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে কর্মকর্তা ও অতিথিরা : বাফুফে

ক্রীড়া প্রতিবেদক

দীর্ঘ ২৩ বছরের শিরোপা খরা ঘোচানোর মঞ্চ এবার তৈরি হয়েছে ঘরের মাঠেই। নভেম্বরে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে বসতে যাওয়া সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে বড় স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। নতুন প্রধান কোচ টমাস ডুলি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, তার দলের একমাত্র লক্ষ্য শিরোপা জেতা।

গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ দলের লক্ষ্য নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ডুলি বলেন, টুর্নামেন্টে অংশ নেয়ার উদ্দেশ্যই হলো চ্যাম্পিয়ন হওয়া। ফল কী হবে, তা আগে থেকে বলা সম্ভব নয়, তবে জয়ের জন্য নিজের এবং খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চটা দেয়ার ব্যাপারে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মাঠে নেমে প্রতিটি ফুটবলারকে নিজের সবটুকু উজাড় করে দিতে হবে। লড়াইয়ে কোনো ঘাটতি রাখা যাবে না।

হাভিয়ের কাবরেরার স্থলাভিষিক্ত এই মার্কিন কোচ মনে করেন, ২০০৩ সালের পর বাংলাদেশের আর অপেক্ষা করা উচিত নয়। ঘরের মাঠে খেলার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এবারই শিরোপা পুনরুদ্ধারের সময় এসেছে। তবে আত্মবিশ্বাসের সাথে খেলতে হলেও অতিরিক্ত আত্মতুষ্টির বিরুদ্ধে সতর্ক।

জামাল ভূঁইয়া-হামজা চৌধুরীদের কোচ ডুলি বলেন, ‘অবশ্যই চ্যাম্পিয়ন হতে চাই। শেষ পর্যন্ত আমরা জিতব কি না জানিনা, তবে বলতে পারি, জেতার জন্য সাধ্যমতো সবকিছু করার চেষ্টা করছি। আমি খেলোয়াড়দের কাছ থেকেও একই জিনিস চাই, মাঠে নামো, যা আছে তার সবটুকু উজাড় করে দাও এবং যদি প্রতিপক্ষ ভালো খেলে, তাহলে দুর্ভাগ্য। তখন খুঁজে বের করব আমরা কি ভুল করেছি।’

খেলোয়াড়ি জীবনে দু’টি বিশ্বকাপ খেলা ডুলি জানিয়েছেন, প্রতিপক্ষ যেই হোক না কেন, জয়ের মানসিকতা নিয়েই তিনি মাঠে নামতে অভ্যস্ত। সাফে বাংলাদেশকে বিশ্বের পরাশক্তিদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে না; বরং সমমানের বা কাছাকাছি শক্তির দলগুলোর বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে পারলেই শিরোপা জয়ের সুযোগ তৈরি হবে।

ডিফেন্ডার তপু বর্মন বলেন, ‘সেই ২৩ বছর আগে আমরা সাফ জিতেছি। এখন একটা শিরোপা জেতা আমাদের মূল লক্ষ্য। সমগ্র জাতি আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকবে, আমাদের একটা বড় দায়িত্ব আছে, সাফ জিতে আমরা মাঠে সেটা প্রমাণ করতে চাই।’

শেখ মোরসালিনও মনে করেন, ঘরের মাঠে খেলার সুযোগ হাতছাড়া করা যাবে না। কোচের জয়ের মানসিকতা পুরো দলকে অনুপ্রাণিত করছে বলেও জানান তিনি। তার বিশ্বাস, দীর্ঘদিনের শিরোপা খরা কাটানোর এটি অন্যতম সেরা সুযোগ।

হামজা চৌধুরী, শোমিত সোম ও ফাহামিদুল ইসলামের মতো প্রবাসী ফুটবলারদের যোগ হওয়ায় দল আগের তুলনায় আরো ভারসাম্যপূর্ণ হয়েছে। তপু জানান, গত এক বছরে একসাথে খেলার কারণে তাদের মধ্যে বোঝাপড়া অনেক বেড়েছে এবং এসব ফুটবলারের উপস্থিতি পুরো দলকে আরো উজ্জীবিত করে।

১৫তম আসর আগামী ৪-১৭ নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। ২০০৩ সালের পর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ আবারো স্বাগতিক হওয়ায় সমর্থকদের প্রত্যাশাও আকাশছোঁয়া।