আড়াই বছরে অষ্টম কোচ তিউনিসিয়ার

Printed Edition

ক্রীড়া ডেস্ক

গত আড়াই বছরে তিউনিসিয়া জাতীয় ফুটবল দলের কোচ বদলের হিড়িক একরকম মিউজিক্যাল চেয়ার খেলায় পরিণত হয়েছে। ২০২৪ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত মোট আটজন কোচ বদল করেছে তিউনিসিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (এফটিএফ)। যা দলটির ভঙ্গুর ও হওয়ামুখী ফুটবল ব্যবস্থাপনার স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ১০ ম্যাচে একটিও গোল হজম করেনি যে দল, বিশ্বকাপে তাদের জালে ১২ গোল ঢুকেছে তিন ম্যাচেই! আর তাতেই অস্থিরতা আরো বেড়ে যায় তিউনিসিয়ান ফুটবলে। এই চরম বিশৃঙ্খলার অবসান ঘটাতে এবার দেশটির ফুটবল ফেডারেশন ২০৩০ সাল পর্যন্ত প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে মুইন শাবানিকে।

২০২৪ সালে জালাল কাদেরির বিদায়ের পর থেকেই ডাগআউটে শুরু হয় অস্থিরতা তিউনিসিয়ার। এই সময়ে মন্তাসের লুহিশি ও কাইস ইয়াকৌবির মতো কোচরা সংক্ষিপ্ত দায়িত্ব পালন করেন। চলতি বছর জানুয়ারিতে সামি তারাবেসিকে বরখাস্ত করে সাবরি ল্যামৌচিকে দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সুইডেনের কাছে ৫-১ গোলের শোচনীয় হারের পর ল্যামৌচিকে মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় বরখাস্ত করা হয়। এরপর ল্যামৌচির স্থলাভিষিক্ত হন ফরাসি কোচ হার্ভে রেনার্ড। সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে পরের দুই ম্যাচে জাপানের কাছে ৪-০ ও নেদারল্যান্ডসের কাছে ৩-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়ার পর রেনার্ডও দ্রুত দায়িত্ব ছেড়ে দেন।

এই চরম বিশৃঙ্খলার অবসান ঘটাতে এফটিএফ ২০৩০ সাল পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন মুইন শাবানিকে। এসপেরান্সে ও মরক্কোর ক্লাব ফুটবলে সফল শাবানি প্রথমবারের মতো কোনো জাতীয় দলের দায়িত্ব নিলেন। সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া আফ্রিকা কাপ অব নেশন্স (অ্যাককন) ২০২৭-এর বাছাইপর্ব তার জন্য প্রথম বড় পরীক্ষা।

খেলোয়াড়ি জীবনে ছয়বার তিউনিসিয়ার শীর্ষ লিগ জিতেছিলেন শাবানি। পরে তার কোচিংয়ে তিনবার লিগ জিতেছে এসপারেন্স দু তিউনিস ক্লাব, দু’বার করে জিতেছে তিউনিসিয়ান সুপার কাপ ও সিএএফ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। সর্বশেষ তিনি ছিলেন মরক্কোর ক্লাব এএস বারকানের দায়িত্বে। তার কোচিংয়ে মরক্কোর শীর্ষ লিগ ও সিএএফ কনফেডারেশন কাপ জয় করে বারকান।