আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় নেইমারের

Printed Edition
khela-2
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় নেইমারের

ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্ব ফুটবলের এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের সমাপ্তি। আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলে দিলেন ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার জুনিয়র। সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ হয়ে থাকল তার। সেই ম্যাচে ২-১ গোলে হারের পর আবেগঘন মুহূর্তে তিনি জানিয়েছিলেন, ব্রাজিলের জার্সিতে এটাই ছিল তার শেষ ম্যাচ। ফাইনাল বাঁশি বাজার পর এই তারকা জাতীয় দল থেকে অবসরের ইঙ্গিত দিলেও এ বিষয়ে তখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেননি। সংবাদমাধ্যমে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেছিলেন, ‘আমি চেষ্টা করেছি। এখানেই আমার শুরু হয়েছিল, এখানেই শেষ হলো। এখন সব শেষ।’

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ২০১০ সালে ব্রাজিলের জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল নেইমারের। একই মাঠে বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচ শেষে অবসরের বিষয়ে ৩৪ বছর বয়সী এ তারকা স্পষ্ট করে কিছু না বলায় সমর্থকদের মনে একটু ক্ষীণ আশা থেকে গিয়েছিল। হয়তো ব্রাজিলের হয়ে আবার দেখা যাবে নেইমারকে! তবে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটালেন কোপা সুদামেরিকানায় গত পরশু ভেনেজুয়েলার ইউনিভার্সিদাদ সেন্ট্রালের বিপক্ষে সান্তোসের ৪-২ গোলের জয়ের ম্যাচ শেষে। এই ম্যাচ শেষেই ব্রাজিল জাতীয় দল থেকে অবসরের কথা নিশ্চিত করেছেন নেইমার। ভিলা বেলমিরোর মিক্সড জোনে সান্তোসের এই তারকা বলেছেন, বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব থেকে আরো একবার বাদ পড়ার পর ব্রাজিলের জার্সি আর পরবেন না তিনি।

নেইমার বলেন, ‘জাতীয় দলের সাথে আমার সময় শেষ। আমি ইতিহাস গড়েছি, আমি খুব খুশি ছিলাম, আমি আমার রক্ত, আমার জীবন দিয়েছি, আমি সবসময় সেলেকাওয়ের জন্য লড়াই করেছি এবং সংগ্রাম করেছি, কিন্তু এখন আমি আর তা করতে চাই না।’

ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে ১৩০ ম্যাচে ৮০টি গোল এবং ৫৮টি অ্যাসিস্ট করে নেইমার তার ক্যারিয়ার শেষ করেন। ব্রাজিলের সিনিয়র দলের হয়ে তার একমাত্র শিরোপা ছিল ২০১৩ সালের কনফেডারেশন্স কাপ। তিনি ২০১৬ অলিম্পিকেও একটি স্বর্ণপদক জিতেছিলেন, তবে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে। ব্রাজিলের হয়ে নেইমারের শেষ ম্যাচটি ছিল ২০২৬ বিশ্বকাপের রাউন্ড অফ সিক্সটিনে। নরওয়ের কাছে ২-১ গোলের হারের ম্যাচে জাতীয় দলের হয়ে অতিরিক্ত সময়ে ব্রাজিলের সান্ত¡নাসূচক গোলটিই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ গোল।

নেইমারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার ছিল গৌরবময়, যদিও বিশ্বকাপ শিরোপা তার অধরাই থেকে গেছে। ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে অভিষেকের পর থেকেই নেইমারকে ব্রাজিল ফুটবলের ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখা হতো। ২০১৩ কনফেডারেশন্স কাপ জয়ে তিনি ছিলেন দলের প্রধান নায়ক। ২০১৪ বিশ্বকাপে চোটের কারণে সেমিফাইনাল মিস করা, ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে হতাশাজনক বিদায় এবং ২০২৬ বিশ্বকাপে আবারো স্বপ্নভঙ্গ- সব মিলে জাতীয় দলের ক্যারিয়ার ছিল সাফল্য ও আক্ষেপের মিশেল। নেইমারের বিদায়ের মাধ্যমে ব্রাজিল ফুটবলে একটি যুগের অবসান হলো। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে তিনি ছিলেন দলের মুখ, অধিনায়ক এবং সবচেয়ে বড় তারকা।

জাতীয় দলকে বিদায় জানালেও ক্লাব ক্যারিয়ার এখনো শেষ হয়নি নেইমারের। তিনি ক্লাব ফুটবলে খেলা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। ফলে সমর্থকরা এখনো তাকে মাঠে দেখার সুযোগ পাবেন। তবে হলুদ জার্সিতে তার আবেগ, গোল উদযাপন এবং জাদুকরী মুহূর্তগুলো এখন থেকে শুধুই স্মৃতির অংশ হয়ে থাকবে।