কোচ পিটার গেরহার্ড মানেই কি ভিন্ন কিছু
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
আবারো ঢাকায় আসছেন জার্মান হকি কোচ গেরহার্ড পিটার। এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে তাকে ফিরিয়ে আনছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন (বাহফে)। ইতোমধ্যে গেরহার্ডের সাথে সমঝোতা চূড়ান্তও হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দুই মাসের চুক্তিতে দায়িত্ব নিচ্ছেন এই জার্মান কোচ। এশিয়ান গেমসে দলের পারফরম্যান্স সন্তোষজনক হলে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে। সূত্র মতে, গেরহার্ডের কোচিং প্যানেলে থাকবেন চারজন স্টাফ।
ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক আরিফুল হক বলেন, ‘আশা করি, গেরহার্ড এই শুক্রবারই ঢাকায় আসবেন। তার সাথে কথাবার্তা হয়ে গেছে। এরপর দলকে নিয়ে জার্মানিতে যাবেন। সেখানে যুক্ত হবেন আরো চারজন কোচিং স্টাফ-পল লিসেক, অলিভার কার্স, ম্যাথিয়াস ও আকিম মানসেস।’
এশিয়ান গেমসের আগে জার্মানিতে এক মাস কন্ডিশনিং ক্যাম্প করবে বাংলাদেশ হকি দল। ক্যাম্পের অংশ হিসেবে জার্মানির শীর্ষ লিগের কয়েকটি ক্লাবের বিপক্ষেও প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। অতীতে ও সাম্প্রতিক সময়ে ক্রীড়াঙ্গনে কয়েকজন ক্রীড়াবিদ উন্নত দেশে গিয়ে আর ফেরেননি। ইউরোপের মতো উন্নত দেশে এত বেশিসংখ্যক খেলোয়াড় গেলে ফেরত না আসার একটা শঙ্কা থেকেই যায়। এটি কিভাবে বাহফে এবং পিটার সামাল দিবেন সেটিও একটা বিষয়। মোহামেডানের কোচও ছিলেন তিনি।
পিটার এর আগে বিভিন্ন মেয়াদে বাংলাদেশ হকি দলের কোচের দায়িত্বে ছিলেন। ২০০৯ সালের এপ্রিলে প্রথমবার বাংলাদেশ হকি দলের কোচিং পরিচালক হয়ে এসেছিলেন। তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক খন্দকার জামিলউদ্দিন তাকে এনেছিলেন। সেই সময় পিটারের মাধ্যমে খেলোয়াড়রা ইউরোপের লিগে খেলার সুযোগ পেয়েছিল। ২০১৬ পর্যন্ত কাজ করেন বাংলাদেশ জাতীয় দলে এবং ক্লাব পর্যায়ে। তার সময়েই রাসেল মাহমুদ জিমিসহ কয়েকজন খেলোয়াড় ইউরোপে খেলার সুযোগ পান। ২০১৬ সালে মেরিনার্স ইয়াংস ক্লাবকে চ্যাম্পিয়ন করিয়েছিলেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের মে মাসে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্বে ফেরেন গেরহার্ড। তবে সে বছরের সেপ্টেম্বরে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে পদত্যাগ করেন।
এমন গুঞ্জনও অতীতে ছিল যে, পিটার টাকার বিনিময়ে আদম পাচার করেন। তবে তিনি কখনোই এটিকে প্রশয় দেননি, কানেও তোলেননি। যে যাই বলুক পিটারের একটা ভালো দিকও রয়েছে। আগে যারা জার্মানিতে হকি খেলতে গেছেন তাদের একপ্রকার অভিভাবকের দায়িত্ব সামলেছেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ওখানে খেলোয়াড়দের সব ব্যয় সংশ্লিষ্ট ক্লাবই বহন করে। আমি জীবনে কখনো খেলোয়াড়দের কাছ থেকে অর্থ নেইনি; বরং আমার পকেট থেকে খেলোয়াড়দের দিয়েছি, এমনকি আমার বাসায়ও রেখেছি। যতটুকু পেরেছি হেল্প করেছি।’
কোচিং দর্শনে একটু ব্যাতিক্রমই গেরহার্ড পিটার। জানালেন, ‘বাংলাদেশের হকি আমি চিনি। বাংলাদেশ চেষ্টা করলে পাকিস্তানকে ধরতে পারবে। কারণ পাকিস্তানের হকি এখন নিচের দিকে। ভারতকে সম্ভব নয়। কারণ ওরা অলিম্পিক পদক জেতে। আমাদের সামগ্রিক লক্ষ্য হকির উন্নয়ন এবং কিছু ফলাফল; যা সামগ্রিক প্রেরণার উৎস হবে।’
তিনি যোগ করেন, খেলোয়াড়দের বেলায় যেটা হবে, জার্মানিতে গিয়ে খেললে, প্র্যাকটিস করলে সেখানকার দর্শন, অচেনা প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলে নিজেদের কনফিডেন্ট লেভেল গ্রো করাও একটা ছাপ তৈরি হয়। যেটি এশিয়ান গেমসে কাজে দিবে। এ ছাড়া অন্যদের কাছে তাদের অভিজ্ঞতা আদান-প্রদানের মাধ্যমে আরো উন্নতি করবে। চারজন সহকারী থাকবে যারা আমার কোচিং দর্শন নিয়ে কাজ করবে। যেগুলো খেলোয়াড়দের জন্য হবে অধিকতর আস্থার জায়গা।’