তালতলীতে ভাসছে ৩২ ফুটের মৃত তিমি উপকূলে চাঞ্চল্য
Printed Edition
বরগুনা জেলা প্রতিনিধি
বরগুনার তালতলীতে আন্দারমানিক নদীর তীরে ভেসে এসেছে প্রায় ৩২ ফুট দীর্ঘ একটি মৃত তিমি। বুধবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বড়বগি ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের কাছে নদীর তীরে স্থানীয় বাসিন্দারা বিশাল আকৃতির এই সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীটিকে দেখতে পান। বরগুনা জেলায় এই নিয়ে চতুর্থবারের মতো সমুদ্র থেকে মৃত তিমি ভেসে আসায় পুরো এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তালতলী বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান জানান, কলাপাড়া ও তালতলীর সীমান্তবর্তী এলাকায় ভেসে থাকা মৃত তিমিটিকে নিশানবাড়িয়ার দিকে নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে। পচে পরিবেশ দূষিত হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় তথ্য ও নমুনা সংগ্রহ শেষে প্রাণীটিকে মাটিচাপা দেয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বঙ্গোপসাগরে চলাচলকারী জাহাজের আঘাত, জালে আটক পড়া, প্লাস্টিক বা রাসায়নিক বিষক্রিয়া কিংবা অসুস্থতার কারণে তিমিটির মৃত্যু হতে পারে। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী জানান, ছবি দেখে এটি ‘বেলিন’ বা ‘ব্রাইডস’ প্রজাতির তিমি বলেই মনে হচ্ছে। প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে সরেজমিন পরীক্ষা আবশ্যক। তিনি গবেষণার স্বার্থে মৃতদেহের নমুনা সংগ্রহ ও কঙ্কাল সংরক্ষণের ওপর জোর দেন।
উপকূলে বারবার তিমি ও ডলফিনের মৃতদেহ ভেসে আসাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলছেন পরিবেশকর্মীরা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধু কুয়াকাটা উপকূলেই ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ১৬টি ডলফিন ও চারটি তিমির মৃতদেহ ভেসে এসেছে।
১৯৯১ সালে তালতলীতে ভেসে আসা ৪৮ ফুট লম্বা একটি তিমির কঙ্কাল উদ্ধার করে ঢাকা জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৪ ও ২০২৪ সালেও একই উপকূলে তিমি ভেসে আসার ঘটনা ঘটেছিল। সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিশেষজ্ঞরা এখন জাতীয় ডলফিন ও তিমি ডাটাবেজ তৈরির দাবি জানাচ্ছেন।