১১ দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী কর্নেল (অব:) অলি আহমদ

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ড. কর্নেল (অব:) অলি আহমদ বীর বিক্রম।

গতকাল রাজধানীর মিন্টুরোডের বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা: শফিকুর রহমান।

বৈঠকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে আসন্ন নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সর্বসম্মতভাবে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সভাপতি, সাবেক মন্ত্রী ও ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যতম শীর্ষ নেতা ড. কর্নেল (অব:) অলি আহমদ বীর বিক্রমের নাম চূড়ান্ত করা হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব:) অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আব্দুল কাইয়্যুম সোবহানী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা: মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক সাবেক এমপি ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন, এবি পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজী, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার, জাগপার মহাসচিব অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, বিডিপির মহাসচিব নিজামুল হক নাঈমসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, গণতন্ত্রের সৌন্দর্যের জন্য আমরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব। সবক্ষেত্রে রাজনীতি স্বচ্ছ হওয়া উচিত। আমরা চাই বাংলাদেশে গণতন্ত্রের গতি ও সুস্থধারা ফিরে আসুক। এ জন্য আমরা সর্বসম্মতক্রমে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব:) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রমকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করেছি।

কর্নেল (অব:) অলি আহমদ বলেন, আমি বাংলাদেশের জনগণ ও ১১ দলের সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। সবাই মনে করেছে আমি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে একজন পরীক্ষিত লোক এবং আমার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ নেই। শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নাই। সুন্দরভাবে জীবনযাপন করছি। এ জন্য সবাই আমাকে মনোনীত করেছেন। তিনি আরো বলেন, আমি আমাদের জায়গা থেকে এ জাতির সাথে বেঈমানি করব না। হারবো বা জিতবো সেটি প্রশ্ন না-জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্য এবং মানুষের জন্য যেটা ভালো, সেটার জন্য সবসময় কাজ করব। সেইজন্য আজ একসাথে হয়েছি এবং সবাই আমার নাম প্রস্তাব করেছে।

নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি সরকার জনগণের সাথে দ্বিচারিতা করছে। জুলাই সনদে ক্ষমতার ভারসাম্যের জন্য রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানো ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আমরা আশা করেছিলাম, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে নতুনভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে পারব। কিন্তু সরকার গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করেছে। এই সরকার স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটছে।

মাওলানা মামুনুল হক বলেন, আমরা আনন্দিত আমাদের বিবেচনায় সবচেয়ে যোগ্য একজনকে প্রেসিডেন্ট পদের জন্য মনোনীত করেছি। ১১ দলের পক্ষ থেকে সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশের ইতিহাসে রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদকে মনোনীত করেছি। তিনি জুলাইয়ের চেতনার একজন বলিষ্ঠ ধারক। আমরা আশা করব, ১১ দলের বাইরেও যারা দেশকে ভালোবাসেন তারাও তাকে বিবেচনা করবেন। আমরা প্রত্যাশা রাখি তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশের সফল নেতৃত্ব দেবেন।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামে জন্ম নেয়া অলি আহমদ ১৯৭১ সালে কর্মরত ছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে। এর অবস্থান ছিল চট্টগ্রামের ষোলশহরে। ২৫ মার্চ মধ্যরাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন মুক্তিযুদ্ধে। প্রতিরোধযুদ্ধ শেষে ভারতে আবার সংগঠিত হওয়ার পর নিয়মিত মুক্তিবাহিনীর জেড ফোর্সের অধীনে যুদ্ধ করেন। স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্নেল পদে উন্নীত হয়ে অবসর নেন। পরে রাজনীতিতে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট।

জিয়াউর রহমান বিএনপি গঠন করলে তিনি সেনাবাহিনী থেকে তার চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে যোগ দান করেন। তখন তার আরো ৯ বছর চাকরি ছিল। এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি যোগাযোগমন্ত্রী হন। যমুনা সেতুর কাজ তার সময়েই শুরু হয়। দীর্ঘকাল বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত থাকার পর ২০০৬ সালের ২৬ অক্টোবর তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সাথে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) গঠন করেন। পরে বদরুদ্দোজা চৌধুরী এলডিপি থেকে বের হয়ে যান। তার দল এলডিপি ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সাথে নির্বাচন করেন।

প্রসঙ্গত গত ৬ আগস্ট ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচনী কর্তার কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র বাছাই ১৬ আগস্ট। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট। সংসদ অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ ২০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

গত ২৪ জুলাই ২২তম রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে ইসি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কেবল সংসদ সদস্যরা ভোট দিয়ে থাকেন। সম্প্রতি তাদের নিয়ে ৩৪৯ জন ভোটারের একটি তালিকাও প্রকাশ করেছে ইসি। এদের মধ্যে সংসদের সাধারণ আসনের সদস্য ২৯৯ জন। আর সংরক্ষিত আসনের ৫০ জন। চট্টগ্রাম-৪ আসন এ তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। কারণ উচ্চ আদালত ওই আসনের জয়ী প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করেছেন।