বিশ্বকাপের ভেনুতে পৌঁছাচ্ছেন শান্তির বার্তা

Printed Edition

অনেকটা লাল রঙের পোশাক। সাথে হাতে একটি প্ল্যাকার্ড মুখে দাড়িওয়ালা এই ব্যক্তিকে পাওয়া গেল নিউ ইয়র্ক নিউজার্সির ম্যাটলাইফ স্টেডিয়ামের সামনে। ফ্রান্স-সুইডেন ম্যাচের আগে। যেখানে ম্যাচের টিকিট ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হয় না সেখানেই তিনি। ইংরেজির কিছুই জানেন না। কথা বলতে পারেন স্প্যানিশ ভাষায়। শেষ পর্যন্ত স্প্যানিশ জানা আরেক লোকের সাহায্যে তার সাথে কথা বলা।

৫৫-৬০ বছর বয়সী এই লোকের নাম ইজ্জেকুয়েল জোনাস। বাড়ি তার দক্ষিণ আমেরিকান দেশ পেরুতে। দেশটির রাজধানী লিমাতেই থাকেন। যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন স্টেডিয়ামের সামনে দাঁড়িয়ে ফুটবলের মাধ্যমে শান্তির বার্তা পৌঁছে দিতে। তার এ পর্যন্ত আসাটা নিজের টাকায় নয়। পেরুর একটি জুতা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান তার স্পন্সর। নিজে কাজ করেন একটি স্থাপনা নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানে।

২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলেছিল পেরু। তখন তিনি রাশিয়া গিয়েছিলেন। এ ছাড়া ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপ এবং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সময় এই দুই দেশে গিয়েছিলেন।

তার পাঞ্জাবি কিসিমের পোশাকের ওপর সাদা একটি চাদরের মতো। সেখানে পিন দিয়ে লাগানো কাগজের নোটিশে ইংরেজিতে লেখা আছে তার নতুন নাম। তা ইজ্জেকুয়েল জোনাস। নিজে ফুটবল খেলেছেন। তবে তা পাড়া-মহল্লায়। কিন্তু ফুটবলের অন্ধভক্ত। জানান, ‘আমি দেশে দেশে যাই শান্তির বার্তা পৌঁছে দেয়ার জন্য। ফুটবলের মাধ্যমে এই শান্তির বার্তা। তবে মাঠে বসে বিশ্বকাপের খেলা দেখার সুযোগ হয়নি।

এবার বিশ্বকাপে পেরু নেই। তার আশা আগামীবার পেরু খেলবে বিশ্বকাপে। নিজ দেশ না থাকলেও তিনি ল্যাতিন আমেরিকার যে দেশ খেলে সেই দেশেরই সমর্থক। জানালেন, ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা বুঝি না। যখনই ল্যাতিন আমেরিকার কোনো দেশ খেলে আমি সেই দেশের সমর্থক।

জানতে চাইল আমি কোন দেশের। বাংলাদেশ বলার পর বললেন, কখনই শোনেনি। পাশের দোভাষী জানালেন ভারতের কাছে এশিয়ার মধ্যে। এরপর আমাকে পাল্টা প্রশ্ন- কতক্ষণ লেগেছে বিমানে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসতে। উত্তরে লম্বা সময়ের কথা শুনে বিস্মিত হলেন। কথা শেষে আমাকে ছোট একটা বই উপহার দিলেন। এটা তার কাঁধে ঝোলানো ব্যাগের ভেতর থাকে। যাকে পছন্দ হয় তাকেই দেন এই ছোট বই। আর হাতে রয়েছে একটি পতাকা।