নির্বাচন-উত্তর সহিংসতা
মুন্সীগঞ্জে বিএনপি নেতা গুলিবিদ্ধ, খুলনায় সংঘর্ষে আহত ১০
Printed Edition
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি ও খুলনা ব্যুরো
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সংঘাত ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে মুন্সীগঞ্জ ও খুলনায় পৃথক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। মুন্সীগঞ্জে এক বিএনপি নেতা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং খুলনায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ১০ জন। মুন্সীগঞ্জে নির্বাচন-পরবর্তী বিরোধের জেরে মো: বশির উদ্দিন (৫২) নামে এক বিএনপি নেতা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বুধবার বেলা ৩টার দিকে শহরের গুদারাঘাট এলাকায় ইসলামী ব্যাংকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত বশির পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
আহত বশির জানান, নির্বাচনে তিনি ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছিলেন। অন্য দিকে, ফুটবল প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থক চঞ্চল মিয়ার সাথে তার বিরোধ তৈরি হয়। বুধবার বিকেলে চঞ্চলের নেতৃত্বে একদল যুবক তার পথরোধ করে পিস্তল দিয়ে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার চেষ্টায় একটি গুলি তার হাতে লাগে। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান। মুন্সীগঞ্জ সদর থানার এসআই আতাউর রহমান জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অন্য দিকে খুলনার তেরখাদা উপজেলায় বিএনপির দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নে এই সংঘাতের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম এবং মধুপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম মোড়লের অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষ বাধে। এতে গুরুতর আহতদের খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
তেরখাদা থানার ওসি মো: শহীদুল্লাহ জানান, পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। উভয় জেলাতেই এই ঘটনার পর থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মুন্সীগঞ্জ ও খুলনার সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে নতুন করে সংঘাত এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।