কুয়েটে ভিসির পদত্যাগ দাবি

আমরণ অনশনে শিক্ষার্থীরা, সমাধানের চেষ্টায় শিক্ষকরা

এরশাদ আলী, খুলনা ব্যুরো
Printed Edition
back-3
কুয়েটে সাধারণ শিক্ষক ও পরিচালক আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন প্রফেসর ড. মো: আব্দুল্লাহ ইলিয়াছ আক্তার : নয়া দিগন্ত

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আমরণ অনশন শুরু করেছেন। শিক্ষকদের আলোচনায় বসার আহ্বান সত্ত্বেও পূর্বঘোষণা অনুযায়ী বিকেল ৩টা থেকে কুয়েটের ছাত্র কল্যাণ পরিষদ ভবন চত্বরে অনশন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

এর আগে দুপুর ১২টায় একই স্থানে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন কুয়েটের নতুন ছাত্র কল্যাণ পরিচালক প্রফেসর ড. মো: আব্দুল্লাহ ইলিয়াস। তিনি সেখানে বলেন, আমরা ছাত্রদের সাথে কথা বলছি। আবারো আলোচনায় বসবো, যা কিছু হোক, আমরা আলোচনার টেবিলে বসে সমস্যার সমাধান করব। সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র কল্যাণ পরিচালক প্রফেসর ড. মো: আব্দুল্লাহ ইলিয়াছ আক্তার বলেন, ছাত্রদের সাথে আলোচনা চলছে। আমরা তাদের নিয়ে বসেছি। তারা তাদের সমস্যার জায়গাগুলো আমাদের জানাবে। তাদের সব সমস্যা যাতে দ্রুত সমাধান করা যায় সে লক্ষ্যেই আলোচনা চলছে। ছাত্ররা আমাদের সন্তানের মতো। তারা কোনো অন্যায় বা ভুল করতে পারে। এমনকি আমরাও ভুলের ঊর্ধ্বে নই। শিক্ষক হিসেবে আমাদের অগ্রাধিকার সব সময় শিক্ষার্থী। তাদেরকে নিয়ে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। প্রতিটা ছাত্রের যাতে কোনো সমস্যা না হয় সে লক্ষ্যে কাজ করার জন্য আমি বদ্ধপরিকর। আমি একটি বিষয় নিশ্চিত করতে চাই- ছাত্রদের কোনো বিষয়ে কোনো সমস্যা হলে তার সমাধান করা আমার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

তিনি আরো বলেন, ৩৭ জন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এ বহিষ্কার কিন্তু চূড়ান্ত নয়। এখানে ছাত্র শৃঙ্খলা কমিটি বসবে। যেসব ছাত্রকে সাসপেন্ড করা হয়েছে তাদেরকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া হবে। নিরপরাধ কেউ যেন কোনো প্রকার শাস্তির মুখোমুখি না হয় সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

ছাত্র কল্যাণ শাখার সহকারী পরিচালক রাজু আহমেদ জানান, বাইরের এক ব্যক্তি ২২ জন ছাত্রের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। আমরা বলেছি তাদেরকে সম্পূর্ণ আইনগত সহায়তা দেয়া হবে। মামলা প্রত্যাহারের জন্য আমরা চেষ্টা চালাব। মারামারির ঘটনায় আহত ২০ শিক্ষার্থীকে কুয়েটের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে।

ব্রিফিং শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন পরিচালক (ছাত্র কল্যাণ) ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ।

কিন্তু শিক্ষকদের ওই আহবানে সাড়া না দিয়ে শিক্ষার্থীরা অনশন শুরু করেন। পাশাপাশি শিক্ষকরাও তাদের বোঝানোর চেষ্টা করছেন। অনশনের মধ্যেই আলোচনা চলছে। তবে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিতে অনড় রয়েছেন।