মাশরাফির জেলার কুস্তির রানীরা

Printed Edition

রফিকুল হায়দার ফরহাদ

মাশরাফি বিন মর্তুজা আর এস এম সুলতান। নড়াইল জেলা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববাসীর কাছে পরিচিতি পেয়েছিল এই দুই ব্যক্তিত্বের কল্যাণে। মাশরাফি ছিলেন ক্রিকেটার। আর মরহুম সুলতান চিত্রশিল্পী। এ ছাড়া দেশের ক্রীড়াঙ্গনে একসময় প্রচুর টেবিল টেনিস খেলোয়াড় উপহার দিয়েছে এই নড়াইল জেলা ক্রীড়া সংস্থা। তবে এখন এই জেলা থেকে উঠে আসছে নারী কুস্তিগীররা। সাথে পুরুষ কুস্তিগীরও। গতকাল শেষ হয়েছে ৩০তম জাতীয় জুনিয়র কুস্তি। এতে বালিকা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে নড়াইল জেলা। তাদের মেয়েরা পাঁচটি স্বর্ণ জয় করেছে এই আসর থেকে। এ ছাড়া এক রৌপ্যপদক গলায় তুলেছেন তাদের অপর নারী কুস্তিগীর। ২০২২ সালে কোচ রবিউল ইসলামের হাতে যাত্রা শুরু নড়াইলের কুস্তির। পরের বছরই তারা জাতীয় জুনিয়র কুস্তিতে বালক ও বালিকা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়। মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব খর্ব হলেও এবার বালিকা বিভাগে তা পুনরুদ্ধার।

বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মিকু। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশসের সাবেক এই উপ মহাসচিবের নির্দেশেই ২০২২ সালে নড়াইলে কুস্তি শুরু করেন রবিউল। যদিও তিনি কখনো কুস্তি লড়েননি। ছিলেন কাবাডি খেলোয়াড়; কিন্তু নড়াইল জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিকুর নির্দেশ পেয়েই কাজে নেমে পড়েন রবিউল। জানান, আমি ইউটিউবে কুস্তির বিভিন্ন কৌশল রপ্ত করেছি। এরপর মেয়েদের সেভাবে তৈরি করেছি। এই গরিব ঘরের মেয়েরা যদি ভালো নার্সিং পায়, ভালো কোচের অধীনে মাসব্যাপী কোচিং দেয়া যায় তাহলে আগামীতে দেশের নামও উজ্জ্বল করতে পারবে।’

এবারের জুনিয়র কুস্তিতে নড়াইলের মেয়েরা পাঁচটি স্বর্ণ ও একটি রৌপ্যপদক পায়। স্বর্ণ জয় করা মেয়েরা হলেন, ৪৯ কেজিতে ফাতেমা, ৫৭ কেজিতে নুরশাদ, ৫৩ কেজিতে ফাতেমা, ৬১ কেজিতে তাহমিনা এবং ৬৫ কেজিতে অর্পিতা বিশ্বাস। এ ছাড়া ৪৩ কেজিতে রৌপ্যপদক গলায় তোলেন শিল্পী খাতুন। বালকদের মধ্যে ৪৮ কেজিতে সাব্বির স্বর্ণ জয় করেন। আর ব্রোঞ্জ জিতেছেন ৬৫ কেজিতে হাবিবুল্লাহ। ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের কেন এত বেশি সাফল্য। কোচ রবিউলের মতে, মেয়েরা নিতান্তই গরিব পরিবার থেকে উঠে এসেছে। এ ছাড়া তারা আমার কথা প্রচণ্ড রকম আগ্রহভরে শোনে। তাদের ইচ্ছেটাও প্রবল। তাই তারা ভালো করছে। অবশ্য ছেলেরাও কথা শোনে।

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহায়তায় এতদূর আসা নড়াইলের। কোচের আশা যথাযথ সহায়তা পেলে আগামী জাতীয় জুনিয়র কুস্তিতেও চ্যাম্পিয়ন হবো আমরা। রবিউল আরো জানান, মিকু স্যার আমাকে বলেছিলেন তুমি কুস্তি দল গঠন করো। ভালো করার সুযোগ আছে। এরপর ছেঁড়া ম্যাটে শুরু হয় কুস্তি প্রশিক্ষণ। প্রথমে মায়েরা তাদের মেয়েদের কুস্তিতে আসতে দিতে চাইতো না। এরপর তাদের বাবা-মাকে বুঝিয়ে মেয়েদের কুস্তিতে এনেছি। বর্তমানে আমার কাছে ৩০ জন ছেলে ও মেয়ে কুস্তিগীর আছে।’

এই ছেলেমেয়েরা নড়াইল সদরে বাসা ভাড়া করে থাকে। একেক জনের বাড়ি জেলা সদর থেকে ৩০/৪০ মাইল দূরে। শুধু নড়াইলের মেয়েই নয় অন্য জেলার মেয়েরাও রবিউলের কাছে কুস্তি শিখতে আসে। কোচের দেয়া তথ্য, তাহমিনার বাড়ি কিশোরগঞ্জে। সে কাবাডি খেলতো। সে আমার কাছে এসে জানায় কুস্তিতে আগ্রহের কথা। এরপর তাকে কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল কালিদাস স্যারের অনুমতি নিয়ে কলেজ হোস্টেলে রেখেছি। এ ছাড়া ডিএসএর সদস্যসচিব আল আমিনের সহায়তা ছিল দল গঠনে। রবিউলের গড়া কুস্তিগীররা বিভিন্ন বাহিনীতে চাকরি করছেন। রিংকু বিশ্বাস বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে আছেন। ফাতেমা, অর্পিতা, নুসরাত ফারিয়ারা বাংলাদেশ আনসারের কাছে থেকে ভাতা পাচ্ছেন।