কাজাখস্তানের বিপক্ষেও বড় জয়ের আশা বাংলাদেশের

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

জুনিয়র এশিয়া কাপে বাংলাদেশের মেয়েদের শুরুটা যেন ঝড়ের মতো। চায়নিজ তাইপেকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দেয়ার পর পাকিস্তানের বিপক্ষেও ৫-১ গোলে জয়। দুই ম্যাচে ১২ গোল, বিপরীতে হজম মাত্র একটি। এমন দাপুটে সূচনার পর স্বপ্নটা এখন আর শুধু ভালো খেলার মধ্যে আটকে নেই; লাল-সবুজের মেয়েদের চোখ আরো দূরের ঠিকানায়। সাম্প্রতিক ম্যাচের ফলও দেখাচ্ছে, দলটি আত্মবিশ্বাসের সঠিক জায়গাতেই আছে।

শুরুটা ছিল সাত গোলের ঝড়। এরপর পাকিস্তানের বিপক্ষে পাঁচ গোলের আরেকটি দাপুটে প্রদর্শনী। জুনিয়র এশিয়া কাপে বাংলাদেশের মেয়েরা যেন প্রতিপক্ষের জন্য একের পর এক কঠিন প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে, আর মাঠে তার উত্তরও দিচ্ছে গোল দিয়ে। দুই ম্যাচে ১২ গোল করে আইরিন আক্তার রিয়া, শারিকা রিমনদের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। সামনে কাজাখস্তান, এরপর হংকং- জয়রথ সচল রাখার সুযোগও তাই হাতের নাগালেই।

আজ সকাল ৯টায় বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ কাজাখস্তান। নামের ভারে কিংবা র‌্যাংকিংয়ের হিসাব-নিকাশে প্রতিপক্ষকে এগিয়ে রাখা হলেও মাঠের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে বাংলাদেশই ছন্দে। চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে ৭-০ এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫-১ জয় শুধু বড় ব্যবধানের জয় নয়, দলের সামগ্রিক সামর্থ্যরেও প্রমাণ। আক্রমণে ধার, মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ আর রক্ষণে শৃঙ্খলা- তিন বিভাগেই নিজেদের সামর্থ্যরে জানান দিয়েছে মেয়েরা।

কাজাখস্তান অবশ্য সহজ প্রতিপক্ষ নয়। তাই ম্যাচটিতে শুরু থেকেই মনোযোগ ধরে রাখা জরুরি। বড় জয় পাওয়ার পর আত্মতুষ্টির সামান্য সুযোগও বিপদ ডেকে আনতে পারে। বিশেষ করে প্রথম দিকে গোল না এলে ধৈর্যধরে পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলাটাই হবে বাংলাদেশের বড় পরীক্ষা। তবে দুই ম্যাচে যে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে, সেটিই হতে পারে লাল-সবুজের সবচেয়ে বড় শক্তি। এরপর পরশু হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচ; অর্থাৎ পরপর দুই ম্যাচে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার সুযোগ বাংলাদেশের সামনে। লক্ষ্য একটাই- চ্যালেঞ্জার্স পুলে নিজেদের অবস্থান আরো শক্ত করা এবং শেষ পর্যন্ত সেরা জায়গায় পৌঁছানো।

এই দলের সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক দিক, তারা শুধু ফলের জন্য খেলছে না; প্রতিটি ম্যাচে নিজেদের উন্নতিও দেখাচ্ছে। আর এই পথচলায় আইরিন আক্তার রিয়াদের মতো তরুণদের পারফরম্যান্স আলাদা করে নজর কাড়ছে। সুযোগ পেলে তারা যে বড় মঞ্চেও নিজেদের মেলে ধরতে পারে, তারই ইঙ্গিত মিলছে প্রতিটি ম্যাচে। বাংলাদেশ জিতলে প্রথম চ্যালেঞ্জার্স পুলে খেলবে আইরিন আক্তার রিয়ারা, আর সেটি হবে আরো বড় স্বপ্নের পথে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া। জুনিয়র পর্যায়ের এই দলটির সামনে তাই এখন শুধু দুটি ম্যাচ নয়; নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের দু’টি বড় মঞ্চ।

বাংলাদেশের মেয়েদের জয়রথ এরই মধ্যে গতি পেয়েছে। এখন অপেক্ষা শুধু দেখার- কাজাখস্তান ও হংকংয়ের বিপক্ষেও সেই গতি অটুট থাকে কি না। তবে প্রথম দুই ম্যাচের বার্তা পরিষ্কার- লাল-সবুজের মেয়েরা এসেছে লড়াই করতে, আর সুযোগ পেলে ইতিহাস লিখতেও।