আমিরাতই শেষ ভরসা জ্যোতিদের
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ম্যাচটা তখন বাংলাদেশের হাতের মুঠোয়। শ্রীলঙ্কার স্কোর ৯.৩ ওভারে ৫ উইকেটে ৪৪ রান। বাংলাদেশের দেয়া মাত্র ১১৫ রানের লক্ষ্যও তখন লঙ্কানদের কাছে পাহাড়সম মনে হচ্ছিল। মারুফা আক্তার একের পর এক আঘাত হানছেন, সুলতানা খাতুনও তুলে নিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তখন জয়ের স্বপ্ন দেখছিল বাংলাদেশ নারী দল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি। একটি ক্যাচের সুযোগ হাতছাড়া, সাথে হার্শিতা সামারাবিক্রমার দুর্দান্ত ব্যাটিং-এই দুইয়ে বদলে গেল পুরো ম্যাচের গল্প। ৩৭ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় অপরাজিত ৪৮ রান করে শ্রীলঙ্কাকে ৪ বল হাতে রেখে ৪ উইকেটের জয় এনে দেন হার্শিতা। আর বাংলাদেশকে দাঁড়িয়ে থাকতে হলো পুরনো আক্ষেপ নিয়েই। এক জয়, এক হারে বাংলাদেশ ব্যকফুটে। আজ সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ম্যাচটিই হয়ে রইল জ্যোতিবাহিনীর শেষ ভরসা।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হারের পর আক্ষেপই ফুটে উঠেছে সোবহানা মোস্তারির কথায়। ‘১৮তম ওভার পর্যন্ত ম্যাচটা আমাদের হাতেই ছিল। ওই ওভারে ডিপ মিডউইকেটে একটা ক্যাচ মিস করেছি। ক্যাচটা নিতে পারলে হয়তো জিততে পারতাম। তবে এই রানটা যথেষ্ট ছিল না, কারণ আমাদের লক্ষ্য ছিল ১৪০-এর বেশি। মাঝের ওভারগুলোতে একটু ধীর হয়ে গিয়েছিলাম, আর শেষ তিন-চার ওভারও ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারিনি।’
আক্ষেপটা সেখানেই। কারণ ১১৪ রান করেও একটা সময় বাংলাদেশ যে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফেলেছিল, সেটিই প্রমাণ করে বোলাররা নিজেদের কাজটা প্রায় নিখুঁতভাবেই করেছিলেন। ১১৫ রানের লক্ষ্য তাড়ায় প্রথম ওভারেই শ্রীলঙ্কাকে ধাক্কা দেন মারুফা আক্তার। নিজের দ্বিতীয় ওভারে ইমিশা দুলানিকেও ফেরান মারুফা। এরপর পাওয়ার প্লের মধ্যেই সুলতানা খাতুনের শিকার সানজানা কাভিন্দি। সুইপ করতে গিয়ে বলের লাইন মিস করে বোল্ড হন তিনি। রিতু মনির বলে ভিশমি গুনারতেœ ক্যাচ দিলে শ্রীলঙ্কার বিপদ আরও বাড়ে। এরপর ফাহিমা খাতুনের সরাসরি থ্রোতে রানআউট কাভিশা দিলহারি।
স্কোর তখন ৯.৩ ওভারে ৫ উইকেটে ৪৪ রান। নিলাক্ষী ডি সিলভা ও হার্শিতা সামারাবিক্রমা ষষ্ঠ উইকেটে ৪১ বলে ৩৩ রানের জুটি গড়ে শ্রীলঙ্কাকে ম্যাচে ফেরান। ১৭তম ওভারের দ্বিতীয় বলে নিলাক্ষীকে ১৮ রানে বোল্ড করে আবারও বাংলাদেশের আশা জাগান মারুফা। তখন শ্রীলঙ্কার হাতে মাত্র চার উইকেট, শেষ ২২ বলে দরকার ৩৩ রান। শেষ পর্যন্ত ৩৭ বলে ৪৮ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয় এনে দেন। মারুফা ৪ ওভারে ২১ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েও ম্যাচ জেতাতে পারলেন না। এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ ২০ ওভারে ৮ উইকেটে করে ১১৪ রান।
বাংলাদেশকে হারিয়ে তিন ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘বি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা। ফলে তাদের সেমিফাইনাল নিশ্চিত। অন্যদিকে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পয়েন্ট ২ করে। তাই আজ দুবাইয়ে বাংলাদেশ-সংযুক্ত আরব আমিরাত ম্যাচটি এখন আর সাধারণ গ্রুপ ম্যাচ নয়; কার্যত অলিখিত কোয়ার্টার ফাইনাল! শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টানা সাতটি টি-২০ ম্যাচ হারল বাংলাদেশ। তবে সেই হতাশার চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে সামনে থাকা একটি ম্যাচ। ৪৪ রানে ৫ উইকেট তুলে নিয়েও যে জয় হাতছাড়া হয়েছে, তার আক্ষেপ নিয়ে পড়ে থাকার সুযোগ নেই! আমিরাতের বিপক্ষে ঝলক দেখানো ছাড়া কোনো উপায় নেই টাইগ্রেসদের।