গাজায় গণহত্যা
জার্মানির ইন্ধনের অভিযোগ নিয়ে আইসিজেতে শুনানি
Printed Edition
এপি
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযান পরিচালনায় অস্ত্রসহ সার্বিক সহায়তা দেয়ার অভিযোগে জাতিসঙ্ঘের সর্বোচ্চ আদালত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে চায় জার্মানি। সোমবার হেগের আদালতে এ সংক্রান্ত শুনানিতে মামলাটির আইনি এখতিয়ার আদৌ আদালতের রয়েছে কি না সে বিষয়ে জার্মানির তোলা প্রশ্ন নিয়ে যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়।
নিকারাগুয়া হেগের আদালতে বার্লিনের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যা কনভেনশন’ এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে এই মামলা দায়ের করে। মামলাটির মূল বিবাদি জার্মানি হলেও এর পেছনে গাজায় পরিচালিত ইসরাইলের সামরিক কর্মকাণ্ডের বিষয়টিই প্রধান অনুঘটক। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি হামলায় বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনির প্রাণহানী ঘটেছে এবং গাজা উপত্যকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি হলেও ইসরাইলি হামলা থামেনি, যাতে আরো ১,৩০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং পাঁচজন ইসরাইলি সেনার প্রাণহানী ঘটেছে। যদিও ইসরাইল সর্বদা গণহত্যার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পর ইসরাইলের সবচেয়ে বড় সামরিক সহায়তা প্রদানকারী দেশ জার্মানি নিকারাগুয়ার এসব দাবি পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে। বার্লিনের আইনি প্রধান তানিয়া ফন উসলার-গ্লাইশেন আগের শুনানিতে বলেন, এই মামলা আইনের দৃষ্টিতে ভিত্তিহীন। মাঝে গাজায় ব্যবহারযোগ্য সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ বন্ধ রাখলেও পরে আবার সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় বার্লিন। ২০২৪ সালে জার্মানির সামরিক সহায়তা অবিলম্বে স্থগিতের যে জরুরি আবেদন নিকারাগুয়া করেছিল, আইসিজে তা খারিজ করলেও জার্মানির দায়ের করা সম্পূর্ণ মামলা খারিজের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে ১৬ বিচারকের বেঞ্চ।
এর আগে ২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকাও ইসরাইলের বিরুদ্ধে একই আদালতে গণহত্যার মামলা করে, যার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আইসিজে গাজায় ধ্বংস ও গণহত্যা রোধে ইসরাইলকে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দেয়। পরে গাজায় খাদ্য, পানি, জ্বালানিসহ মানবিক সহায়তা নিশ্চিতে স্থলপথ উন্মুক্তের আদেশও দেন বিচারকরা। অন্য দিকে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত (আইসিসি) ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যাল্যাান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। বেসামরিকদের ওপর হামলা ও অনাহারকে ‘যুদ্ধের হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহারের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা দেয়া হয়। ইসরাইল এই আদেশ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির ৯ জন বিচারকসহ ১৮ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।