দক্ষিণ কোরিয়া-জাপান-যুক্তরাষ্ট্র ‘ফ্রিডম এজ’ মহড়া শুরু

Printed Edition

কোরিয়া হেরাল্ড

দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ে পাঁচ দিনব্যাপী যৌথ সামরিক মহড়া ‘ফ্রিডম এজ’-এর দ্বিতীয় সংস্করণ শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার থেকে জেজু দ্বীপের পার্শ্ববর্তী আন্তর্জাতিক নৌসীমায় সমুদ্র, আকাশ ও সাইবার ত্রিমুখী নিরাপত্তা বলয়ে এই সামরিক অনুশীলন শুরু হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ (জেসিএস) নিশ্চিত করেছে, আগামী শুক্রবার পর্যন্ত জেজু দ্বীপের পূর্ব ও দক্ষিণের আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় এই কার্যক্রম চলবে। তিন দেশের নৌ, বিমান ও সাইবার প্রতিরক্ষা বাহিনীর অংশগ্রহণে আয়োজিত এই অনুশীলনের অফিশিয়াল উদ্দেশ্য উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ঝুঁকি মোকাবিলা ও আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষা। উল্লেখ্য, সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে সিউলের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক দ্বিপক্ষীয় মহড়া ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ডে’র সময়সীমা ১৭ দিন থেকে কমিয়ে মাত্র ৫ দিনে আনা হয়। ট্রাম্প অতিরিক্ত খরচ এবং উত্তর কোরিয়ার প্রধান কিম জং উনের সাথে সম্পর্কের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে এই সিদ্ধান্ত নেন।

তবে দ্বিপক্ষীয় মহড়ার ব্যাপ্তি কমিয়ে ত্রিপক্ষীয় নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দেয়ার এই মার্কিন নীতি সিউলে উদ্বেগ ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের একাংশের ধারণা, ওয়াশিংটন এখন পিয়ংইয়ংকে নিয়ন্ত্রণের চেয়ে বেইজিংকে ঘেরাও করার বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক কৌশলকে প্রাধান্য দিচ্ছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষক সংস্থা ‘আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা প্রজেক্টে’র পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গবেষণা ব্যবস্থাপক লি হান-গিউ জানান, দ্বিপক্ষীয় প্রশিক্ষণ সীমিত করলে উত্তর কোরিয়াকে প্রতিরোধের সক্ষমতা দুর্বল হতে পারে। মার্কিন জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশলে চীনকে প্রতিরোধের অগ্রাধিকারের বিষয়টি টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েনরত মার্কিন বাহিনীকে কোরীয় উপদ্বীপের সুরক্ষার পাশাপাশি চীনের বিরুদ্ধেও ব্যবহারের রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে কি না। অন্য দিকে, ‘কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স অ্যানালাইসেসে’র গবেষক ইউ জি-হুন মনে করেন, কূটনৈতিক হিসাব-নিকাশে মহড়ার আকার পরিবর্তিত হতে পারে; তবে দুই দেশের সমঝোতা বজায় থাকাটাই মূল বিষয়।