যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে পরিবর্তনের বড় কৌশল ট্রাম্পের
Printed Edition
এক্সিওস
ইরান যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক কৌশলগত অবস্থানে বৈপ্লবিক রূপান্তরের লক্ষ্যে এক রূপরেখা নিয়ে কাজ চালাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট মার্কিন কর্মকর্তা ও ওয়াকিবহাল সূত্রের বরাতে জানা গেছে, খসড়া পর্যায়ে থাকা এই বৃহৎ পরিকল্পনার মূল অক্ষ হলো ইরানকে কৌশলগতভাবে কোণঠাসা করা, আঞ্চলিক সুরক্ষা অক্ষ গড়ে তোলা এবং প্রতিবেশীদের সাথে ইসরাইলের আনুষ্ঠানিক কূটনীতি সুদৃঢ় করা। সম্প্রতি জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের সাথে বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে এই অঞ্চল নিয়ে ‘বৃহত্তর কিছু’ বাস্তবায়নের অভিপ্রায় প্রকাশ করার পর যৌথভাবে এই নীলকশায় কাজ করছেন মার্কিন সরকারের বিভিন্ন দফতরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।
প্রস্তাবিত নতুন পররাষ্ট্রনীতির প্রধান তিনটি স্তম্ভ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথমত, মার্কিন নিরাপত্তাবেষ্টনীর অধীনে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের ঐক্যবদ্ধ করে একটি সমন্বিত অক্ষ গঠন করা। একই সাথে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর শুরু হওয়া সার্বিক সঙ্ঘাতের পর পর্যায়ক্রমে গাজা সংক্রান্ত পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়ন, ইসরাইল-সিরিয়া নতুন নিরাপত্তা চুক্তি সম্পাদন ও ইসরাইল-লেবানন বর্তমান চুক্তি পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করার পদক্ষেপ নেয়া হবে। আর তৃতীয় ও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হলো ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এর পরিসর বিস্তৃত করে বহুল আলোচিত ইসরাইল-সৌদি আরব দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিককরণ নিশ্চিত করা, যা বাস্তবায়িত হলে এই মেয়াদে ট্রাম্পের অন্যতম সেরা ভূরাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে পরিগণিত হবে। চলতি বছরের ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন ও পরবর্তী মাস নভেম্বরে হতে যাওয়া মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ওপরও গভীরভাবে নজর রাখছে ওয়াশিংটন। হোয়াইট হাউজের নীতিনির্ধারকদের ধারণা, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তেলআবিবে আগামীর নতুন যে সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে, তারা ওয়াশিংটনের এই মহাপরিকল্পনা অনুসরণে প্রস্তুত থাকবে। তবে ইসরাইলে নতুন করে কোনো রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হলেও যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগ থেমে থাকবে না বলেই মনে করছেন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তারা।
বর্তমানে বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শীর্ষ পর্যায়ে খসড়া রূপরেখা নিয়ে বিশদ পর্যালোচনা চলছে, যা চূড়ান্ত আকার ধারণ করতে আরো কয়েক সপ্তাহ সময় নিতে পারে। পরিকল্পনাটি অঞ্চলটির বহুমুখী সমস্যা ও আঞ্চলিক মেলবন্ধনের বিষয়গুলোকে একক বিন্দুতে যুক্ত করার একটি প্রচেষ্টা হলেও, মধ্যপ্রাচ্যের সব পক্ষ শেষ পর্যন্ত এই বিন্যাসে একমত পোষণ করবে কি না তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা থেকে যাচ্ছে।