আঞ্চলিক নিরাপত্তায় ওয়াশিংটনের ওপর একক নির্ভরতা নয় : কাতার

Printed Edition

এএফপি

উপসাগরীয় অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা কোনো আন্তর্জাতিক জোটের ওপর চোখ বুজে ভরসা করা ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেছে কাতার। সোমবার আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত ‘হিলি ফোরাম’-এ কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানান, নিজ ভূখণ্ডের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গালফ দেশগুলোর নিজেদের পায়ের ওপর দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি।

কাতারি মুখপাত্র উল্লেখ করেন, এই অঞ্চলে আন্তর্জাতিক সামরিক শক্তির অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কৌশলগত অংশীদারত্বের গুরুত্ব অপরিসীম হলেও কেবল তা দিয়ে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত সম্ভব নয়। স্বনির্ভরতাই একমাত্র স্থায়ী সমাধান মন্তব্য করে তিনি জানান, মিত্রদের সহযোগিতা প্রয়োজনীয় হলেও নিরাপত্তার মূল দায় নিজেদেরই নিতে হবে। উল্লেখ্য, ছোট কিন্তু প্রাকৃতিক গ্যাসে সমৃদ্ধ কাতারে মধ্যপ্রাচ্যের সর্ববৃহৎ মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা সত্ত্বেও কাতার সাম্প্রতিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সঙ্ঘাতের সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছে। মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করা সত্ত্বেও কাতারের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোসহ একাধিক স্থাপনায় ইরানের হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত ছয় মাস ধরে চলমান এই সঙ্ঘাত বর্তমানে এক জটিল অচলাবস্থার রূপ নিয়েছে, যেখানে ইরান হরমুজ প্রণালীতে নিজস্ব সুরক্ষাবলয় গড়তে তৎপর আর যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা তেহরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ সৃষ্টিতে চাপ বাড়াচ্ছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই গত মাসে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান আল থানি মধ্যস্থতার তাগিদে তেহরান সফর করেন। এর আগে হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন ইরান ও ওমান একটি সাময়িক নৌ-করিডোর গঠন এবং সমুদ্রসীমায় স্থাপিত মাইন অপসারণের যৌথ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় বসেছিল।