উপসাগরীয় দেশগুলোতে রমজান শুরু
যুদ্ধ আর সঙ্কটের আবহে ফিলিস্তিনিদের সিয়াম
Printed Edition
আলজাজিরা
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকাসহ আরব ও মুসলিম দেশে বুধবার পবিত্র রমজান মাস শুরু হয়েছে। অন্য কিছু দেশে এক দিন পর রোজা শুরু হয়েছে। গতকাল বুধবার গাজার বাসিন্দারা যখন সাহরি খেয়ে রোজা পালন শুরু করেছেন, তখন ইসরাইলের অব্যাহত হামলা আর তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতির’ মাঝে তারা খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির জন্য চরম সংগ্রাম করছেন।
দুই বছর আগে যুদ্ধের আগের রমজানে যেসব পরিবারের দস্তরখান খাবারে পূর্ণ থাকত, এখন তাদের পুরো দিন কাটে ত্রাণের অপেক্ষায়। ইসরাইল গাজায় প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও রসদ সরবরাহে বাধা দেয়ায় অনেকেই এখন লঙ্গরখানার খাবারের ওপর নির্ভরশীল। গত অক্টোবরে কার্যকর হওয়া ইসরাইল ও হামাসের মধ্যকার ‘যুদ্ধবিরতি’ চুক্তি অনুযায়ী প্রতিদিন অন্তত ৬০০ ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশের কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে তার চেয়ে অনেক কম ট্রাক ঢুকছে। এ ছাড়া যুদ্ধবিরতি চলাকালেও ইসরাইল প্রায় প্রতিদিন হামলা চালাচ্ছে, যাতে এ পর্যন্ত ছয় শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
এ দিকে অধিকৃত পূর্ব জেরুসালেমের আল আকসা মসজিদে হাজার হাজার মুসল্লি তারাবিহ নামাজে অংশ নিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে দেখা গেছে, নামাজের সময় মসজিদের ভেতরে এবং চত্বরে ইসরাইলি পুলিশ টহল দিচ্ছে। বিশেষ করে ওল্ড সিটি ও আল আকসা চত্বর ঘিরে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে এবং ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও সক্রিয় কর্মীদের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ গণগ্রেফতার চালাচ্ছে। জেরুসালেম প্রশাসনের তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ২৫০-এর বেশি ফিলিস্তিনিকে আল আকসায় প্রবেশে বাধা দেয়ার আদেশ জারি করেছে ইসরাইল। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অধিকৃত পশ্চিমতীর ও পূর্ব জেরুসালেমে ইসরাইল তাদের অভিযান আরো জোরালো করেছে। সেই সাথে ইসরাইলি সেনাদের মদতে উগ্রপন্থী বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক ও তাদের সম্পদের ওপর হামলা বাড়িয়ে দিয়েছে।
উপসাগরীয় দেশগুলোতে রমজান শুরু
সৌদি আরব মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রমজানের চাঁদ দেখার ঘোষণা দেয়ায় সেখানে বুধবার থেকে রোজা শুরু হয়েছে। কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন, ফিলিস্তিন, সুদান, সোমালিয়া ও জিবুতির ধর্মীয় কর্তৃপক্ষও বুধবারকে রমজানের প্রথম দিন হিসেবে ঘোষণা করেছে। ইরাকের সুন্নি ও শিয়া উভয় সম্প্রদায়ই বুধবার থেকে রোজা শুরু করেছে। লেবাননের সুন্নি মুসলিমরাও মুফতি শেখ আবদুল লতিফ দেরিয়ানের ঘোষণা অনুযায়ী বুধবার থেকে সিয়াম পালন করছেন। জ্যোতির্বিজ্ঞানের উন্নতি সত্ত্বেও অনেক মুসলিম দেশ এখনো সরাসরি চাঁদ দেখার চিরাচরিত পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে, যা মহানবী সা:-এর সময় থেকে চলে আসছে।