সেনাবাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি করার চেষ্টা হচ্ছে : তারেক রহমান

বিশেষ সংবাদদাতা
Printed Edition
1st-2
ঢাকার লেডিস ক্লাবে বিএনপি মিডিয়া সেল আয়োজিত ইফতার মাহফিলে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখছেন তারেক রহমান : নয়া দিগন্ত

সেনাবাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি করিয়ে দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এর পেছনে নিশ্চয়ই কোনো ষড়যন্ত্র আছে। গতকাল সোমবার রাজধানীর লেডিস ক্লাবে বিএনপির মিডিয়া সেল আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন। দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের জন্য এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে বিএনপির মিডিয়া সেল।

দেশে নতুন করে ষড়যন্ত্র হচ্ছে মন্তব্য করে এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘কয়েক দিন আগেও আমরা দেখেছি, সংস্কার এবং নির্বাচনকে মুখোমুখি দাঁড় করানো হচ্ছে, ঠিক একইভাবে সেনাবাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি করানোর চেষ্টা। এর পেছনে নিশ্চয়ই কোনো ষড়যন্ত্র আছে।’

বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেছেন, কোথাও কেউ কিছু একটা হয়তো করার চেষ্টা করছে। সেনাবাহিনী ও জনগণকে মুখোমুখি করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে । আপনি একজন সাংবাদিক হিসেবে এবং আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে এতটুকু বুঝি, এটির পিছনে নিশ্চয়ই কোনো ষড়যন্ত্র আছে। আমরা সবাই মিলে যদি সচেতন তাহলে অবশ্যই আমরা এই ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে সক্ষম হব।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘১৯৭১ সালে সার্বভৌমত্বের লড়াইয়ে এবং বিগত ১৬-১৭ বছরের গণতান্ত্রিক উত্তরণের লড়াইয়ে যারা গুম-খুনের শিকার হয়েছেন, তাদের ত্যাগ যেন বৃথা না যায়, তা নিয়ে কাজ করি।’ তিনি সব বিষয়ে সাংবাদিকদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি সূক্ষ্মভাবে বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।

বিএনপির পক্ষ থেকে উত্থাপিত সংস্কার প্রস্তাবের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সে সময়ে যেভাবে সাংবাদিকরা আমাদের পাশে ছিলেন এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণে বাংলাদেশের পাশে ছিলেন, তাদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা।’ আগামী দিনেও তিনি সাংবাদিকদের বিএনপির পাশে থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘বিগত ১৫ বছর আমরা বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে যে বিষয়গুলো আমরা আমাদের আশপাশে দেখেছি, প্রত্যেকটা মানুষ বাংলাদেশে চায়- এর একটা পরিবর্তন হোক। আমাদের আহ্বান থাকবে, এ ব্যাপারে বাংলাদেশের মানুষকে রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের যার করার, সেই সহযোগিতা করতে সক্ষমত হবেন। আমাদের এই ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হবে। আমি মনে করি, এখানে আপনাদের (সাংবাদিক) বিরাট ভূমিকা আছে।’ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিভিন্ন বিষয় বিতর্কিত করা হচ্ছে। আপনারা (সাংবাদিক) যদি এই বিষয়গুলো আপনাদের অবস্থান থেকে সত্যভাবে জাতির সামনে তুলে ধরেন তাহলে আমরা এই ষড়যন্ত্র থেকে বাঁচতে পারি। আর জুলাই-আগস্ট মাসে বাংলাদেশের যেসব নাগরিক স্বৈরাচারকে বিদায় করার জন্য, গণতন্ত্র ও নিজেদের অধিকারকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য জীবনকে উৎসর্গ করেছেন- তাদের এই প্রতিটা মানুষের এই উৎসর্গ যেন সার্থক হয়, তার জন্য আমাদের সবাইকে এক প্ল্যাটফর্মে এসে দাঁড়াতে হবে। আমাদের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। আমাদের সবাইকে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে যার যার ভূমিকা পালন করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে জাতির পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। আজ তাদের আবার বিতর্কিত করার হীন প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। অত্যন্ত সুনিপুণভাবে একটি নতুন চক্রান্ত শুরু হয়েছে। চক্রান্ত হচ্ছে বাংলাদেশকে আবার অস্থিতিশীল করার, আবার বিপদে নিমজ্জিত করার জন্য। বাংলাদেশের যে প্রতিষ্ঠানগুলো রয়েছে, যে প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তাদেরকেও বিতর্কিত করে ফেলা হচ্ছে। বিশেষ করে সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করে ফেলা হচ্ছে। এটার পিছনে কোন মহান উদ্দেশ্য থাকতে পারে না, এটার উদ্দেশ্য একটাই, ঠিক অতীতে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে যেভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করা হয়েছে।’

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এবং মিডিয়া সেলের সদস্যসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ আলমগীর হোসেন। উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, নয়া দিগন্তের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সালাহউদ্দিন মো: বাবর, নির্বাহী সম্পাদক মাসুমুর রহমান খলিলী, সংগ্রাম সম্পাদক আজম মীর শাহীদুল আহসান, সাংবাদিক নেতা কাদের গণি চৌধুরী, এম আবদুল্লাহ, শহীদুল ইসলাম, খুরশিদ আলম, বাছির জামাল, ডিবিসি নিউজের সম্পাদক লোটন একরাম, মিডিয়া সেলের সদস্য অধ্যাপক মোরশেদ হাসান খান, আতিকুর রহমান রুমন, শাম্মী আকতার, শায়রুল কবির খানসহ গণমাধ্যমে কর্মরত বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিকরা।