বান্দরবানে তামাক চাষের বিস্তার হুমকিতে খাদ্যনিরাপত্তা

Printed Edition
bangla-3
লামায় একটি তামাকের ক্ষেত : নয়া দিগন্ত

মমতাজ উদ্দিন আহমদ আলীকদম (বান্দরবান)

বান্দরবানের লামা উপজেলা ও আলীকদম উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলি জমিতে চার দশকের বেশি সময় ধরে চলা তামাক চাষ এখন কৃষি, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। চলতি মৌসুমে প্রায় ১০ হাজার একর জমিতে তামাক আবাদ হওয়ায় বোরো ও রবি মৌসুমের বৈচিত্র্যময় ফসল প্রায় বিলুপ্তির পথে।

এক সময় মাতামুহুরী নদীর পলিবাহিত উর্বর জমিতে ধান, সরিষা, আলু, বেগুন, টমেটো, মরিচ, শিম, ডাল ও মসলাজাত ফসলের সমারোহ ছিল। স্থানীয় কৃষকেরা নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় সবজি সরবরাহ করতেন। বর্তমানে সেই জমিগুলো একফসলি তামাক চক্রে বন্দী।

স্থানীয় কৃষক সৈয়দ হোসেন বলেন, আগে চরাঞ্চলজুড়ে নানা জাতের সবজি চাষ হতো, এখন চোখে পড়ে শুধু তামাক ক্ষেত। কৃষিবিদদের মতে, তামাক চাষে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারে মাটির উর্বরতা কমে যায় এবং উপকারী অণুজীব ধ্বংস হয়। দীর্ঘমেয়াদে জমি অনুর্বর হয়ে পড়ে, ফলে অন্য ফসলের উৎপাদন কমে যায়। তামাক প্রক্রিয়াজাতে জ্বালানি কাঠের ব্যবহার স্থানীয় বন ও জীববৈচিত্র্যের ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে।

তামাক গাছ মাটির পুষ্টি উপাদান দ্রুত শোষণ করায় পরবর্তী মৌসুমে বিকল্প ফসল আবাদ কঠিন হয়ে পড়ে। এতে কৃষি ব্যবস্থা একমুখী ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, চুক্তিভিত্তিক চাষের মাধ্যমে বিভিন্ন কোম্পানি কৃষকদের আকৃষ্ট করলেও ঋণ ও উপকরণের শর্তে অনেকেই ঋণচক্রে জড়িয়ে পড়ছেন। এলাকাজুড়ে জাপান টোব্যাকো, ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আওতায় তামাক চাষ সম্প্রসারিত হচ্ছে বলে জানা গেছে।

তামাকের বিস্তারে স্থানীয় খাদ্যশস্য উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারনির্ভরতা বেড়েছে। আগে যেখানে কৃষকের ঘরে ধান-ডাল মজুদ থাকত, এখন অনেক পণ্য বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। এতে খাদ্যনিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোহেল রানা জানান, তামাক চাষ নিরুৎসাহিত করতে সচেতনতা কার্যক্রম ও বিকল্প ফসলের প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, লাভজনক বিকল্প ফসলের বাজার নিশ্চিতকরণ ও কার্যকর নীতিমালা ছাড়া এ সঙ্কট থেকে উত্তরণ কঠিন।