চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে ইজারার ইস্যু
দরকষাকষিতে দেশের স্বার্থ আদায়ের চ্যালেঞ্জ নতুন সরকারের সামনে
Printed Edition
নূরুল মোস্তফা কাজী চট্টগ্রাম ব্যুরো
চট্টগ্রাম বন্দরের সর্ববৃহৎ কনটেইনার টার্মিনাল এনসিটি (নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল)-এ বিদেশী অপারেটর নিয়োগের প্রশ্নটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে আসছে। টার্মিনালটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে ইজারা দেয়ার বিষয়টির সাথে ইতোমধ্যে জড়িয়ে গেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির বিশাল শ্রমবাজার। শিপিং সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি তিনটি সরকারের চলমান আলোচনা এবং দরকষাকষির একটি প্রক্রিয়া। যেহেতু সাত বছর আগে স্বাক্ষরিত জিটুজি এমওইউর আওতায় টার্মিনালটি ইজারার আলোচনা চলছে, ফলে সরকারের সরে আসার সুযোগ নেই। বরং দরকষাকষির এক পর্যায়ে যদি ডিপি ওয়ার্ল্ড তাদের প্রস্তাবনা ফিরিয়ে নেয় তবেই এনসিটি ইজারা থেকে সরে আসা সম্ভব। শিপিং সংশ্লিষ্টদের মতে দেশটিতে বসবাসরত প্রায় ১৩ লাখ শ্রমিকের মধ্যে পাঁচ লাখ অবৈধ শ্রমিকের ভাগ্য এই টার্মিনালের সাথে জড়িয়ে আছে। দরকষাকষিতে তারা যেই হ্যান্ডলিং চার্জ দেয়ার প্রস্তাব করেছে তা আবার বর্তমান আয়ের চাইতে অনেক কম।
অন্তর্বর্তী সরকার দেশের স্বার্থে ছাড় দিতে রাজি না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে সময় চেয়েছে। নতুন সরকারের সাথেও শিগগির দরকষাকষির আলোচনা শুরু করবে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ফলে শ্রমবাজার রক্ষা এবং দরকষাকষিতে টার্মিনালটিতে বিদ্যমান আয়ের সাথে সঙ্গতি রেখে হ্যান্ডলিং চার্জ নির্ধারণই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন শিপিং সংশ্লিষ্টরা।
শিপিং সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এনসিটিতে বর্তমানে হ্যান্ডলিং এবং স্টোরেজ চার্জ মিলিয়ে প্রতি একক কনটেইনারে আয় হয় ১৬০ ডলারের কিছু বেশি। অপারেশনাল ব্যয় বাদ দিলে প্রতি একক কনটেইনারে নিট আয় ৯৭ ডলার বলে সুত্র জানায়। ডিপি ওয়ার্ল্ডের সর্বশেষ প্রস্তাবনা অনুযায়ী আফ্রন মানি (চুক্তি মূল্য) এবং হ্যান্ডলিং চার্জ মিলিয়ে তা সর্বোচ্চ ৮৫ ডলার পর্যন্ত হয়। কিন্তু তাতে রাজি হননি সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
যেহেতু বিদ্যমান আয় প্রতি একক কনটেইনারে ৯৭ ডলার, কাজেই নতুন সরকারের সামনে এরচেয়ে বেশি আদায় করাই এখণ সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। টার্মিনালটি দেশের কৌশলগত অবস্থানে হওয়ায় বিদেশী অপারেটরের হাতে যাওয়ার পর যাতে দেশের কৌশলগত নিরাপত্তা ঝুকিতে না পড়ে সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করছেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা।
বন্দর সুত্র জানিয়েছে, এ ক্ষেত্রে বিডিং প্যারামিটার দু’টি। একটি হলো আফ্রন ফি (এককালীন চুক্তিমূল্য)। অন্যটি প্রতি একক কনটেইনার প্রতি রাজস্ব আয়ের পরিমাণ। বন্দরসংশ্লিষ্টদের মতে, এনসিটির হ্যান্ডলিং ক্যাপাসিটি ১৫ লাখ টিইইউএস। তবে এখণ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১৩ লাখ টিইইউএস হ্যান্ডলিং হয়েছে। দরকষাকষিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ ১৫ লাখ পর্যন্ত হ্যান্ডলিং করলে প্রতি একক কনটেইনার প্রতি কত ডলার দেয়া হবে এবং ১৫ লাখের অতিরিক্ত হ্যান্ডেল করলে প্রতি একক কনটেইনার প্রতি কত ডলার দেয়া হবে সে বিষয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে প্রস্তাবনা চায়। ডিপি ওয়ার্ল্ডের পক্ষ হতে প্রথমে সাড়ে ১২ লাখ পর্যন্ত হ্যান্ডলিং হলে প্রতি একক কনটেইনার প্রতি ৪২ ডলার এবং এর বেশি হলে ৪৭ ডলার দেয়া হবে বলে জানায়। এর বাইরে বন্দর কর্তৃপক্ষ ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ডের ৪০ শতাংশ চলাচলের অধিকারসসহ সিসিটির জন্য বরাদ্দ রেখে বাকি ৬০ শতাংশ ডিপি ওয়ার্ল্ডকে বরাদ্দ দেয়ার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু ডিপি ওয়ার্ল্ড চায় ইয়ার্ডটির শতভাগ।
ডিপি ওয়ার্ল্ডের পক্ষ থেকে চুক্তির মেয়াদ ১৫ বছর হলেও আরো ১৫ বছরের এক্সটেনশন ক্লজ চায়। কিন্তু বন্দর কর্তৃপক্ষ চায় ১৫ বছরেই সীমাবদ্ধ থাকতে।
তা ছাড়া বন্দর কর্তৃপক্ষ এনসিটির ১ নম্বর জেটি পানগাঁও আইসিটির জন্য বরাদ্দ রেখে বাকি চারটি জেটির দায়িত্ব ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দিতে চায়। কিন্তু ডিপি ওয়ার্ল্ড তাতে রাজি নয়।
দরকষাকষির একপর্যায়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ রিভাইজড অফার চায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে। কিন্তু তারা তাতে রেট বাড়ায় মাত্র ৫০ সেন্ট। তা ছাড়া ডিপি ওয়ার্ল্ডের মতে ক্যাপিটাল কস্ট হবে ৬০০ মিলিয়ন ডলার। কিন্তু আইএফসির মতে তা ১২০ মিলিয়ন এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের মতে ৮০ মিলিয়ন ডলারের বেশি হবে না।
সর্বশেষ ডিপি ওয়ার্ল্ড রেভিনিউ শেয়ারিং মডেলের প্রস্তাব করে যেখানে প্রতি একক কনটেইনারে আয় ১১০ ডলারের নিচে হলে তারা বন্দর কর্তৃপক্ষকে ৫২ ডলার এবং আয়ের ভিত্তিতে তা সর্বোচ্চ ১২০ ডলার পর্যন্ত পরিশোধ করতে রাজি হয়। বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন এই মডেলে গড়ে প্রতি একক কনটেইনার প্রতি বন্দরের আয় দাঁড়াবে ৮৫ ডলার। কিন্তু বন্দর কর্তৃপক্ষ বর্তমানে টার্মিনালটিতে প্রতি একক কনটেইনারে আয় করে নিট ৯৭ ডলার। বিষয়টি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে বৈঠক করেন এবং ওই বৈঠকে দেশের স্বার্থে বিন্দুমাত্র ছাড় না দিতে নির্দেশনা দেন। বন্দর কর্তৃপক্ষ রেভিনিউ শেয়ারিং মেথড প্রত্যাখ্যান করার পর নতুন করে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে আরএফপি জমা দিতে বললে ডিপি ওয়ার্ল্ড সময় চেয়ে চিঠি দেয় বলে সুত্র জানায়।
(ডিপি ওয়ার্ল্ডকে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া যেভাবে শুরু)
এনসিটির বর্তমানে বাৎসরিক হ্যান্ডলিং ক্ষমতা ১.৩ মিলিয়ন টিইইউএস। টার্মিনালটির মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের প্রায় ৩৩ শতাংশ রাজস্ব আয় হয়। লজিস্টিক খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণের নামে দেশের ডলার সঙ্কট কাটাতে তৎকালীন শেখ হাসিনার সরকার সংযুক্ত আমিরাতকে চট্টগ্রাম বন্দরের বে টার্মিনালসহ বন্দর খাতে বিনিয়োগের প্রস্তাব দেয়। ওই প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি দুবাইয়ে পিপিপি জিটুজি পদ্ধতিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দুবাই সরকারের পক্ষে ডিপি ওয়ার্ল্ড এবং বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে পিপিপি কর্তৃপক্ষ এর মধ্যে এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়। একই বছরের ১২ ডিসেম্বর ডিপি ওয়ার্ল্ড এবং দুবাই চেম্বারের উদ্যোগে দ্বিতীয় প্লাটফর্ম সভা অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় প্লাটফর্ম সভায় সিদ্ধান্ত অনুসারে ডিপি ওয়ার্ল্ড কর্তৃক কনসেপ্ট নোট অন লজিস্টিক প্ল্যাটফর্ম ইন বাংলাদেশ শীর্ষক প্রস্তাব দাখিল করা হয়।
ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাব বিবেচনার জন্য ২০২২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর তারিখে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করে এবং ৩০ অক্টোবর ওয়ার্কিং গ্রুপ প্রতিবেদন দাখিল করে। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী- পিপিপি জিটুজি পলিসি অনুযায়ী অপারেটর নিয়োগ করতে হলে পিপিপি জিটুজি পলিসি অনুসরণ করতে হবে এবং এজন্য প্রথমে পিপিপি অথরিরিটর অনাপত্তি এবং সিসিইএর নীতিগত অনুমোদন নিতে হবে। ওই প্রতিবেদনে ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাবিত বিনিয়োগ দীর্ঘ মেয়াদে তুলনামূলক অধিক লাভজনক বিবেচিত হলে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে অপারেটর হিসেবে নিয়োগ করার বিষয়টি বিবেচনার করা যাবে মর্মে জানানো হয়। সে জন্য চবকের অর্থায়নে কিংবা পিপিপি অথরিটি পিপিপিটিএফ অর্থায়নে ট্রানজেশন অ্যাডভাইজার নিয়োগ করে ফিজিবিলিটি স্টাডি, বিজনেস মডেল ও আরএফপি (রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল) তৈরি করে তার ভিত্তিতে ডিপি ওয়ার্ল্ডর নিকট হতে প্রস্তাব আহ্বান করে প্রয়োজনীয় নেগোসিয়েশন সম্পন্ন করতে পারে।
ওয়ার্কিং গ্রুপের সুপারিশ অনুযায়ী এনসিটি পিপিপি জিটুজি ভিত্তিতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের মাধ্যমে পরিচালনার জন্য চবক কর্তৃক ২০২৩ সালের ৮ জানুয়ারি প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়। প্রস্তাবটি সে বছরের ২৩ মার্চ অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে নীতিগতভাবে অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়, যা সে বছরের ৩ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক অনুমোদিত হয়। এরপর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ দুবাই তৃতীয় প্ল্যাটফর্ম সভায় প্রকল্প প্রস্তাব প্রেরনের জন্য অনুরোধ জানানো হয়। সে অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ২০২৩ সালের ১৭ মে তৃতীয় প্ল্যাটফর্ম সভায় উপস্থাপনের জন্য দু’টি প্রকল্প প্রস্তাব প্রেরণ করে। একটি হলো- ‘অপারেশন অ্যান্ড মেনটেন্যান্স অব সিপিএস নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বাই প্রাইভেট টার্মিনাল অপারেটর আন্ডার পিপিপি’। অপর প্রকল্প প্রস্তাব হলো- ‘কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড অপারেশন অব বে কনটেইনার টার্মিনাল-২ আন্ডার পিপিপি’। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২৪ মার্চ প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ এবং প্রজেক্ট ডেলিভারি টিম গঠন করা হয়। এর এক মাস পর ২৩ মে ট্রানজেকশন অ্যাডভাইজার হিসেবে আইএফসি-কে নিয়োগ দেয়া হয়। আর সে বছরের জুনে আইএফসির সাথে চবকের চুক্তি হয়।
ট্রানজেকশন অ্যাডভাইজার কর্তৃক ট্রানজেকশন স্ট্রাকচার রিপোর্ট(টিএসআর) প্রদান, সরকার কর্তৃক তা অনুমোদন ও তৎপ্রেক্ষিতে রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল (আরএফপি) এবং খসড়া কনসেশন এগ্রিমেন্ট প্রস্তুত করে ডিপি ওয়ার্ল্ডের নিকট হতে আরএফপিতে প্রস্তাব গ্রহণ, মূল্যায়ন ও নেগোসিয়েশন সম্পন্ন করে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চলছিল।
(অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দরকষাকষিতে গতি)
সূত্র জানিয়েছে, ২০২৪ এর জুলাই আগস্ট আন্দোলনের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেফতার বাংলাদেশীদের ছাড়াতে প্রধান উপদেষ্টা যখন ইউএই আমিরকে ফোন করেন তখন ওই ইস্যুকে কেন্দ্র করে ডিপি ওয়ার্ল্ড এনসিটি ইস্যুতে আবার সক্রিয় হয়ে উঠে। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের অব্যবহিত পরেই ২০২৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান ও সিইও সুলতান আহমেদ বিন সুলায়েম বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টাকে চিঠি দিয়ে সেবছর জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে স্ইাড লাইনের দ্বিপক্ষীয় মিটিংয়ের প্রস্তাব দেন। সে অনুযায়ী ডিপি ওয়ার্ল্ড চেয়ারম্যানের সাথে প্রধান উপদেষ্টার সাইড লাইন মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টাকে ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান এনসিটি প্রকল্পে তাদের আগ্রহ এবং ইতোমধ্যে পতিত সরকারের সময়ে সম্পাদিত জিটুজি এমওইউর কথা স্মরণ করিয়ে দেন বলে সুত্র জানায়। একই সাথে দুবাইয়ের বিশাল শ্রমবাজার এবং সেখানে থাকা প্রায় পাঁচ লাখ অবৈধ শ্রমিকের ইস্যুও সামনে আনা হয়েছে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
ওই বৈঠকের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে চুক্তির প্রক্রিয়ায় জোর দেয়। ইতোমধ্যে আইএফসিও ট্রানজেকশন স্ট্রাকচার প্রতিবেদন জমা দেয়।
চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে সমৃদ্ধ টার্মিনাল নিউমুরিং কনটেনার টার্মিনাল (এনসিটি) নির্মিত হয়েছিল চারদলীয় জোট সরকারের আমলে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া টার্মিনালটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। ইতোমধ্যে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে এই টার্মিনালের পেছনে। সমৃদ্ধ এই টার্মিনালটি পিপিপির আওতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ডকে টার্মিনাল অপারেটর নিয়োগ দিতে পতিত স্বৈরাচারী সরকারের শেষ সময়ে এসে বেশ তোড়জোড় চলছিল। কিন্তু পরে সরকার পতনের পর তা থেমে যায়। সমায় গড়ানোর সাথে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও ডিপি ওয়ার্ল্ডকে আগের সরকারের দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এনসিটি দেয়ার পথেই অগ্রসর হচ্ছিল।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা কথা বলতে রাজি হননি। তবে বিদেশী অপারেটর নিয়োগের বিষয়ে ট্রানজেকশন অ্যাডভাইজর নিয়োগের পাশাপাশি একটি কোর কমিটি কাজ করছে। যেই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন বন্দরের সদস্য হারবার ও মেরিন। তবে একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের (পিসিটি) চুক্তিতে আরএসজিটির সাথে দেশের স্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কাজেই দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই নেগোসিয়েশন হওয়া উচিত।