রেডব্যাক স্পাইডার
Printed Edition
আবু নেসার শাহীন
রেডব্যাক স্পাইডার বিষাক্ত প্রজাতির মাকড়সাদের মধ্যে আকৃতির বিচারে সব শেষে। লম্বায় মাত্র ০.৪ ইঞ্চি বা একটি দিয়াশলাই কাঠির বারুদের অংশের মতোই। অথচ এটি বিশ্বের সবচেয়ে বিষাক্ত কীটদের মধ্যে অন্যতম। বিষধর প্রজাতির মধ্যে এ মাকড়সার স্থান সবচেয়ে ুউপরে। এটি প্রধানত নিশাচর। একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষকে ধরাশায়ী করার পক্ষে এই মাকড়সার বিষের ১৪ হাজার ভাগের ১ ভাগই যথেষ্ট। রেডব্যাক স্পাইডারের কামড়ে একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষ প্রতিষেধক নেয়ার পর ও প্রায় ২৪ ঘণ্টা আচ্ছন্ন অবস্থায় থাকে। বিষাক্ত এই মাকড়সাটির প্রথম সন্ধান মেলে ১৮৭০ সালে। রেডব্যাক স্পাইডার অস্ট্রেলিয়াজুড়ে বিস্তৃত। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া ছাড়াও নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়ামে এই মাকড়সা দেখতে পাওয়া যায়। এই মাকড়সা ও দ্রুত বংশ বিস্তার করে। বছরে অন্তত দুই-তিনবার ডিম পাড়ে। প্রতিবার প্রায় ২৫০টি করে। রেডব্যাক মাকড়সা সাধারণত মানুষের বাসস্থানের কাছাকাছি পাওয়া যায়। জালগুলো সাধারণত শুষ্ক, অন্ধকার, আশ্রয়স্থলে তৈরি করে। পাথরের মধ্যে, লগ, গাছের ফাঁপা, ঝোপঝাড়, পুরনো টায়ার, চালা, আউট হাউজ, খালি টিন, বাক্স, বাচ্চাদের খেলনা, আবর্জনা বা আবর্জনার নিচে। মানব-পরিবর্তিত বাসস্থানের জন্য রেডব্যাক মাকড়সার সখ্যতা এটিকে আন্তর্জাতিক শিপিং এবং বাণিজ্যের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে দিতে সক্ষম করেছে। রেডব্যাক স্পাইডার অনেক শীতল জলবায়ু ও নাতিশীতোষ্ণ দেশে উপনিবেশ করার ক্ষমতা রাখে। এটি পোকামাকড়, মাকড়সা ও ছোট ছোট মেরুদণ্ডী প্রাণীদের শিকার করে যা জালে আটকা পড়ে। রেডব্যাক মাকড়সা কামড়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শিশুরা মারা যায়। আর পূর্ণ বয়স্ক মানুষ মারা যেতে ৩০ দিন সময় লাগে। ১৯৫৬ সালে এই মাকড়সার বিষের অ্যান্টি ভেনম আবিষ্কৃত হয়েছে। তারপর থেকে এ মাকড়সার কামড়ে গুরুতর অসুস্থ হয়েছে এ কথা ঠিক; কিন্তু কেউ মারা যায়নি বা মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ প্রাণহানির সম্ভাবনা খুবই কম।