স্থানীয় নির্বাচনে সবার সহযোগিতা চাইলেন ইসি সানাউল্লাহ

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো আগামী স্থানীয় নির্বাচনে সবার সহযোগিতা চাইলেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) আবুল ফজল মো: সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত অনেক সুপারিশ পেয়েছি। এসব পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ও আলোচনা করে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে পারব আশা করি। সব সুপারিশ পর্যালোচনা করে সামনের নির্বাচনে সংস্কার অগ্রাধিকার ও বাস্তবায়নে চেষ্টা করা হবে।

গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে দুই দিনব্যাপী সংলাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। সংলাপের বিভিন্ন সেশনে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ, মো: আনোয়ারুল ইসলাম সরকারসহ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত থাকবেন।

ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন করার পর ইসি বর্তমানে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতিতে কাজ করছে। বিধি সংস্কারে অংশীজনদের মতামত নিচ্ছে ইসি। এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনেক সংস্থা। এরই মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আনফ্রেল, কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দল তাদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে। এরই ধারাবাহিকতায় অংশীজনদের সাথে পর্যবেক্ষণ সুপারিশ নিয়ে এই সংলাপের আয়োজন। স্থানীয় পর্যবেক্ষক, সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশন, নির্বাচন কর্মকর্তাসহ অর্ধশতাধিক প্রতিনিধি ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্র্যাসি (ইপিডি) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেকটোরাল সিস্টেমের (আইএফইএস) যৌথ উদ্যোগে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত সুপারিশ, সংস্কারের অগ্রাধিকার এবং বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এ সংলাপে অংশ নিচ্ছেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে ইসি আবুল ফজল মো: সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচনের আগে ও পরে অবজারভার গ্রুপ এবং অংশীজনদের মতামত নিয়েছি, সবার সহযোগিতা পেয়েছি। এ সংলাপের মাধ্যমে নির্বাচন কিভাবে আরো অন্তর্ভুক্তিমূলক করা যায় সে সুপারিশ আসবে আশা করি। গণতন্ত্রের উত্তরণে এটি চলমান প্রক্রিয়া। তিনি বলেন, নির্বাচনের পরে যেসব সুপারিশ এসেছে তা আমরা মূল্যায়ন করছি, যেন এ ধারাবাহিকতা এগিয়ে নিতে পারি। দুই দিনের অংশীজন সংলাপে পাওয়া সুপারিশও আমরা কাজে লাগাব। সামনে স্থানীয় নির্বাচন রয়েছে, সবার সহযোগিতা কামনা করি।

অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার নির্বাচনের আগে-পরে নির্বাচন কমিশনের সাথে নানা ধরনের আলোচনা, সহায়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এরই মধ্যে আমাদের রিপোর্টে সুনির্দিষ্ট ১৯টি সুপারিশ তুলে ধরেছি। এই কর্মশালার মাধ্যমে আলোচনা করে আরো সুপারিশ আসবে আশা করি। এরপর অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে সেগুলো কাজে লাগাতে হবে। তিনি বলেন, অংশীজনরা গণতান্ত্রিক নির্বাচনে ভূমিকা রেখেছে। নির্বাচন কমিশন সামনের দিনগুলোতে পর্যবেক্ষণ-সুপারিশ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আশা করি।

ইপিডির মাইকেল লিডাউয়ের বলেন, এরই মধ্যে অনেকে তাদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে। সবাইকে একত্রে নিয়ে এই কর্মশালা থেকে প্রাপ্ত সুপারিশ ভবিষ্যতের কর্মপন্থা তৈরিতে সহায়তা করবে, যা স্থানীয় নির্বাচনে কাজে লাগবে।