মাদকস্পট বন্ধে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন

Printed Edition

- সহায়তাকারী অধিদফতরের প্রভাবশালী সদস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

অনুমোদনবিহীন ‘সিসা লাউঞ্জ’ নামের মাদক স্পট বন্ধ, জড়িত সরকারি কর্মকর্তা শনাক্তকরণ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন এক আইনজীবী।

গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু এ আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, রাজধানীর বনানী, গুলশানসহ সারা দেশে অনুমোদনবিহীন “সিসা লাউঞ্জ” নামের আড়ালে মাদকের শ্রেণীভুক্ত দ্রব্য সেবন ও বেচাকেনা পরিচালিত হচ্ছে এমন গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এসব কার্যক্রম যুবসমাজকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে এবং সমাজব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে তিগ্রস্ত করছে।

পুলিশ কমিশনার সাজ্জাত আলী এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ডিজি মারুফ হোসেনের নির্দেশনায় ইতঃপূর্বে বনানী, গুলশানসহ সারা দেশে অভিযান পরিচালনা করে বহু মাদকস্পট বন্ধ ও প্রভাবশালী মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, মাঠ প্রশাসনের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে পুনরায় এসব মাদকস্পট চালু করে দিচ্ছে। ফলে পূর্ববর্তী অভিযানের সুফল বিনষ্ট হচ্ছে।

আবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ মাদক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে মন্তব্য করেছেন যে মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত অপরাধ দমনে আইন প্রয়োগে কোনো প্রকার শৈথিল্য গ্রহণযোগ্য নয় এবং আইনগত কোনো বাধা নেই। সিসা বা হুক্কা মাদকদ্রব্য, তা অবশ্যই আইনের আওতাভুক্ত হবে।

এ ছাড়াও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মাদক উৎপাদন, পরিবহন, সংরণ, সরবরাহ ও সেবন সবই দণ্ডনীয় অপরাধ এবং কঠোর শাস্তির বিধান বিদ্যমান। অতএব, সিসা লাউঞ্জের আড়ালে পরিচালিত মাদক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনায় কোনো আইনগত বাধা নেই।

এ দিকে অভিযোগ উঠেছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ঢাকা মেট্রো অঞ্চলের (উত্তর) একজন কর্মকর্তা মাদক কারবারে সহায়তা করছেন। অধিদফতরের উপ-পরিচালক শামীম আহমেদ নামে ওই কর্মকর্তার দুর্নীতি, অনিয়ম, অবৈধ অর্থ উপার্জনসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন এসব অভিযোগ উঠলেও তিনি রয়ে গেছেন বহাল তবিয়তে। এ বিষয়ে অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপরে আশু হস্তপে কামনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ রয়েছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মতাসীনদের আশীর্বাদ পুষ্ট হয়ে শামীম আহমেদ ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল ছিলেন। সে সময় অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে ওঠা অনুমোদনহীন রেস্টুরেন্ট, বার, সিসা লাউঞ্জসহ বিভিন্ন স্পট থেকে তিনি অতি গোপনে অবৈধ উপায়ে কোটি টাকা উপার্জন করছেন।

সূত্র জানায়, শামীম আহমেদ উপ-পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর গুলশান-বনানী এলাকার অভিজাত হোটেল, সিসা লাউঞ্জ ও বার থেকে অভিযানের ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের মিশনে নামেন। তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি টিম বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে। ভয়-ভীতির পরে চাহিদা অনুযায়ী অর্থ না মিললে কখনো কখনো অভিযান চালিয়ে কাক্সিত অর্থ হাতিয়ে নেন।

সূত্র জানায়, গত বছরের ১৪ জুনে শামীম আহম্মেদের অপসারণ চেয়ে শাহবাগে মশাল মিছিল হয়। রাত ৮টার দিকে ‘সচেতন ছাত্র জনতা’র ব্যানারে মশাল মিছিলটি শাহবাগ মোড় হয়ে আশপাশের এলাকা প্রদণি করে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা দাবি করেন, শামীম আহম্মেদ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ঢাকা মহানগর উত্তর কার্যালয়ের উপ-পরিচালকের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে এই কার্যালয়ের আওতাধীন মিরপুর, মোহাম্মদপুর, গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি, রমনা, বাড্ডা ও রামপুর এলাকায় প্রকাশ্যে ইয়াবা, গাজা ও ফেনসিডিলসহ সব ধরনের মাদকে এলাকাগুলো সয়লাব হয়ে গেছে।

সে সময় শামীম আহমেদ নিজেকে নির্দোষ এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বা অন্যায়ের সাথে নেই দাবি করে বলেন, একটি মহল অন্যায় ও অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে আমার বিরুদ্ধে এসব প্রচার-প্রচারণা বা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।

এ দিকে আবেদনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে চারটি দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি উচ্চপর্যায়ের স্বাধীন বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা। বনানী, গুলশানসহ সারা দেশে অনুমোদনবিহীন সিসা লাউঞ্জ ও সকল মাদক স্পটের বিরুদ্ধে তাৎণিক ও ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা। প্রভাবশালী মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা। মাদক ব্যবসায় সহায়তাকারী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ও পুলিশ বাহিনীর জড়িত কর্মকর্তা/সদস্যদের শনাক্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযান-পরবর্তী কঠোর মনিটরিং ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, যাতে পুনরায় কোনো মাদক স্পট চালু না হতে পারে।