রমজানের শুরুতেই নিত্যপণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি, বাজারে অস্থিরতা

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

পবিত্র মাহে রমজানের প্রথম দিনেই দেশের বিভিন্ন স্থানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে সবজি, মাছ ও মুরগির দামে ৩০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। চাল-ডাল, ভোজ্যতেল ও অধিকাংশ মসলার দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও বেগুন, শসা, লেবু, কাঁচামরিচ, ছোলা ও পেঁয়াজের বাজার চড়া। এতে সাধারণ মানুষের নিত্যখরচে বাড়তি চাপ পড়েছে।

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা জানান, দামুড়হুদা ও দর্শনা বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, রমজানের আগ পর্যন্ত বাটা, তেলাপিয়া ও পাঙাস মাছ ১২০-১৫০ টাকায় বিক্রি হলেও প্রথম রোজার দিন তা বেড়ে ২২০-২৫০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। মাঝারি আকারের রুই-কাতলায়ও ৬০-১০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্রয়লার মুরগি ১৫০-১৭০ টাকা থেকে বেড়ে ২২০ টাকা কেজি হয়েছে। দেশী মুরগি ৫৪০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা মোকামে দাম বৃদ্ধি ও পরিবহন ব্যয় বাড়ার কথা বললেও ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজানকে কেন্দ্র করে চাহিদার সুযোগ নেয়া হচ্ছে।

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি জানান, ঝিনাইদহ শহরের নতুন হাটখোলা ও ওয়াপদা কাঁচাবাজারে বেগুন ১২৯ টাকা, শসা ৮০ টাকা, কাঁচামরিচ ১৪০-১৬০ টাকা ও পেঁয়াজ ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও এসব পণ্যের দাম ছিল অনেক কম। তবে আলু, শিম, টমেটো ও অধিকাংশ সবজি এখনো ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে রয়েছে। খেজুর, চিনি ও ছোলার দামও কিছুটা বেড়েছে।

চিতলমারী (বাগেরহাট) সংবাদদাতা জানান, চিতলমারীতে রমজানের শুরুতেই লেবু, শসা ও কাঁচামরিচের দামে বড় ধরনের লাফ দেখা গেছে। এক হালি লেবু ১০০ টাকা, শসা ১০০ টাকা ও কাঁচামরিচ ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষ প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানোর কথা জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি রোধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে ক্রেতাদের দাবি, রমজানজুড়ে কঠোর তদারকি না থাকলে বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরানো কঠিন হবে।