গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী না হলে ফ্যাসিবাদ ফেরার ঝুঁকি : বদিউল আলম

Printed Edition
back-3
সিলেটে গণ-অভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষা, রাষ্ট্র সংস্কার ও নির্বাচনী ইশতেহার শীর্ষক বিভাগীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সুজনের সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী ড. বদিউল আলম মজুমদার : নয়া দিগন্ত

সিলেট ব্যুরো

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য অপরিহার্য হলেও তা এককভাবে যথেষ্ট নয়। গণতন্ত্রকে টেকসই ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে গভীর আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার কাঠামো রেখে গেছেন। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী না হলে এবং সংস্কারকার্যক্রম থেমে গেলে ভবিষ্যৎ সরকারও ফ্যাসিবাদী দানবে পরিণত হতে পারে। এতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষা ব্যর্থ হবে এবং বিপুল প্রাণহানি অর্থহীন হয়ে পড়বে। তাই রাষ্ট্র সংস্কারের স্বার্থে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

রোববার সকালে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ‘গণ-অভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষা, রাষ্ট্র সংস্কার ও নির্বাচনী ইশতেহার’ শীর্ষক বিভাগীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সিলেট জেলা সুজনের সভাপতি শিরিন আক্তারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংলাপে সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সুজন নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী, এনজিও প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটলেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এখনো শেষ হয়নি। নির্বাচনব্যবস্থার সংস্কার, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কারের মধ্য দিয়েই একটি সাম্যভিত্তিক ও ন্যায়বিচারপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

তিনি নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে নির্বাচন ও রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন, টাকার অশুভ প্রভাব, নির্বাচন কমিশনের অকার্যকারিতা, নাগরিক সমাজের নিষ্ক্রিয়তা, নির্বাচনকালীন সরকারের পক্ষপাতদুষ্টতা এবং ক্ষমতার অতিমাত্রায় কেন্দ্রীকরণকে চিহ্নিত করেন। তার মতে, অতীত অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে যে দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এজন্য নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের গুরুত্ব অপরিসীম।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী, স্বাধীন ও দায়বদ্ধ করতে হবে। একইসাথে রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র নিশ্চিত করা, আর্থিক স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং দুর্বৃত্তদের রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। নাগরিক সমাজকে ‘ল্যাপ ডগ’ নয়, বরং ‘ওয়াচ ডগ’-এর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

সংলাপে গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, শক্তিশালী স্থানীয় সরকারব্যবস্থা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণ বন্ধের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি ‘ফাউন্ডেশনাল ইলেকশন’। এই নির্বাচনের মাধ্যমে শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, বরং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে। সংলাপে উপস্থিত থেকে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী ও সংগঠকরা।