বড় উন্নয়ন প্রকল্পে পরিবেশ ও নাগরিক স্বার্থ উপেক্ষিত হচ্ছে
বিআইপির গোলটেবিলে বক্তারা
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পে পরিবেশ ও নাগরিক স্বার্থ উপেক্ষিত হচ্ছে। একই কারণে প্রচুর গাছ কাটতে হয়, সবুজ বিলীন হয়ে যায়, নষ্ট হয় জীববৈচিত্র্য। ‘পান্থকুঞ্জ পার্ক : ফাইট ফর দ্য আরবান কমন্স ইন ঢাকা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে গতকাল পরিবেশবিদ, পরিকল্পনাবিদ, আইনজীবী, এনজিও ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিকসহ নাগরিক সমাজের সদস্যরা বলেন, দূষণের কারণে ঢাকা ক্রমেই বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে এবং পরিবেশ রক্ষায় নাগরিক আন্দোলন জোরদার করা প্রয়োজন। আরবান স্টাডিজ ফাউন্ডেশন (ইউএসএফ) অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’র আওতায় পরিচালিত ‘দ্য ফাইভ সিটি মাস্টারক্লাস সিরিজ : অর্ডিনারি ইকোলজিস অব রিপেয়ার’ এর অংশ হিসেবে বিআইপি, বুয়েট, বাংলাদেশ গাছ রক্ষা আন্দোলন, দুনিয়াদারি আর্কাইভসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে এই বৈঠকের আয়োজন করে।
বিআইপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মু: মোসলেহ উদ্দীন হাসানের সঞ্চালনায় বাংলাদেশ গাছ রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক আমিরুল রাজীব ও নাঈম উল হাসান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তারা পান্থকুঞ্জ এলাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের কারণে উন্মুক্ত স্থান, পরিবেশ ও নাগরিক জীবনের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব তুলে ধরেন।
আমিরুল রাজীব বলেন, বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনে পরিবেশ ও নাগরিক স্বার্থ উপেক্ষিত হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় দুই হাজার গাছ অপসারণের ফলে জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নাঈম উল হাসান পান্থকুঞ্জ আন্দোলনের ১৬৮ দিনের কার্যক্রম, আদালতে রিট, সম্ভাব্যতা সমীক্ষার সীমাবদ্ধতা, প্রকল্প ব্যয় ও পরিকল্পনাগত ত্রুটি তুলে ধরেন। ঢাকার অপরিকল্পিত নগরায়ন, উন্মুক্ত স্থানের সঙ্কট, দূষণ, ভূমিকম্পের সময় নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কাঁঠালবাগানের বাসিন্দা সাদমান সাকিব বলেন, স্থানীয়দের যথাযথভাবে অবহিত না করেই প্রকল্প এগিয়ে নেয়া হয়েছে। ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদ পরিবেশসংক্রান্ত আইনের কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, আদালত পরিবেশ সংরক্ষণের পক্ষে থাকলেও আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত হচ্ছে না। তিনি পরিবেশ ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট আইন কার্যকরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিআইপির সাবেক সহসভাপতি সৈয়দ শাহারিয়ার আমিন বাসযোগ্য নগরের জন্য মাঠ, জলাধার ও উদ্যান সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। পরিকল্পনাবিদ নিয়াজ রহমান পরিকল্পনা প্রক্রিয়ায় জবাবদিহিতা ও বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর আহ্বান জানান। লেখক ফিরোজ আহমেদ পরিকল্পনায় নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। বুয়েটের অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসীব চৌধুরী জনস্বার্থভিত্তিক আইন ও নীতিমালা সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। স্থপতি নিকলাউস গ্র্যাবার স্থানীয় চাহিদাভিত্তিক সমন্বিত নগর পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দেন। বিআইপির উপদেষ্টা পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ বলেন, ‘আরবান কমন্স’ সংরক্ষণ রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বিআইপির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান পান্থকুঞ্জে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের র্যাম্প নির্মাণের সিদ্ধান্ত তদন্ত ও প্রকল্প পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে বিআইপির সহসভাপতি শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান বলেন, গবেষণা ও প্রমাণভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সামনে আনাই এ আয়োজনের উদ্দেশ্য। তিনি ঘটনাপ্রবাহ ও তথ্য-উপাত্ত সংরক্ষণে যৌথ এভিডেন্স বুক প্রণয়ন এবং গবেষণা, অ্যাডভোকেসি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।