চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডে মির্জা ফখরুল
দেশের ১৮ কোটি মানুষ আওয়ামী লীগকে চায় না
Printed Edition
বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ আওয়ামী লীগকে চায় না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সাথে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে, গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে এবং একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তারা সব পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছিল, শুধু চারটি পত্রিকা রেখেছিল। তখন সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ছিল না। তিনি ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনামুক্ত বাংলাদেশে এবং লাখো শহীদের জন্ম দেয়া সংগ্রামী মাটি চট্টগ্রামে তরুণদের সামনে কথা বলার সুযোগ পাওয়ায় আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানান। এ সময় তিনি জাতীয় ঐক্যেরও ডাক দেন। গতকাল শনিবার বিকেলে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ডে চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা বিভাগের জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের উদ্যোগে তারুণ্যের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন। সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানীর সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন যুবদল সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, বিশেষ বক্তা ছিলেন যুবদল সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন ও ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মো: হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মো: এরশাদ উল্লাহ ও সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান নাজিম প্রমুখ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান ও ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির।
পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা আমাদের পুরো জাতির উপর নির্যাতন চালিয়েছে, ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে, ২০ হাজারের মতো মানুষকে হত্যা করেছে, ১৭০০ মানুষকে গুম করে দিয়েছে। তিনি বলেন, আজকে আমাদের সবচেয়ে প্রিয় নেত্রী, দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে ছয় বছর কারাগারে অন্তরীণ করে রেখেছিল। আমাদের তরুণ নেতা, যার দিকে সোনার বাংলা তাকিয়ে আছে, সেই নেতা তারেক রহমান সাহেব এখনো দেশে ফিরতে পারেননি।
মির্জা ফখরুল দাবি করেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে গেলেও তার রেখে যাওয়া প্রেতাত্মারা এখনো সক্রিয় এবং তারা আওয়ামী লীগের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য ষড়যন্ত্র করছে। তরুণদের এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মাথা ঠাণ্ডা রেখে, সজাগ রেখে, সব চক্রান্ত, ষড়যন্ত্রকে আমাদেরকে ব্যর্থ করে দিতে হবে।
দেশের বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দুর্ভাগ্য আমাদের, যাদেরকে দায়িত্ব দিয়েছি আমাদের দেশকে একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে, তারা সঠিকভাবে এখনো সেই কাজটি করতে পারছেন না। ফলে মাঝে মধ্যে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে আমরা এখানে সমাবেশ করছি। আরেকটা সমাবেশ হচ্ছে নিউ মার্কেট, আরো ঢাকায়। দাবিটা কি, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করা। বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ আওয়ামী লীগকে চায় না। তারা দেশে ফ্যাসিবাদ বাকশাল কায়েম করেছে। প্রথম সংস্কার করেছেন জিয়াউর রহমান, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, অর্থনীতির আজকে যে ভিত্তি গার্মেন্ট সেক্টর সেটাও জিয়াউর রহমানের অবদান। কেয়ারটেকার ব্যবস্থা এনেছেন খালেদা জিয়া। আজকে সবাই সবকিছু ভুলে যায়, বিদেশ থেকে এসে বড় বড় কথা বললে, মানুষ ভুলে যাবে তাই না? তিনি বলেন, আমাদের তরুণরা ব্যবসা চায়, চাকরি চায়। তরুণ সমাজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শান্তি চায়। একটা গণতান্ত্রিক দেশ চায়, যে যার কথা বলবে। আমরা সে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আজকে তারুণ্যের সমাবেশের একটা উদ্দেশ্য, তরুণরা আবার জেগে উঠো। সমস্ত চক্রান্ত ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, জিয়াউর রহমান যুদ্ধ করেছেন গণতান্ত্রিক দেশের জন্য, খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের জন্য কাজ করেছেন। তারেক রহমান আধুনিক বাংলাদেশ করতে চান। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিক্রি করে কিছু চাই না। এ জন্য তারেক রহমান বলেছেন, সবার আগে বাংলাদেশ। তিনি বলেছেন, ফায়সালা হবে রাজপথে, সেটাই হয়েছে। তিনি বলেন, সুন্দর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হবে। যেখানে মানুষ মানুষকে ভালোবাসবে, মাথা উঁচু থাকবে দেশের। বাংলাদেশের পতাকাটা উড়বে পতপত করে। ওয়াসিমের রক্তের বিনিময়ে আমাদের নতুন স্বাধীনতা। তাকে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে এটা আশা করি।
আমির খসরু বলেন, কারো যদি দর্শন থাকে, ভাবনা থাকে, কর্মসূচি থাকে তাহলে তাদেরকে জনগণের কাছে যেতে হবে। কিন্তু কারো স্বার্থের জন্য দেশকে জিম্মি করা যাবে না। মানুষের মধ্যে নতুন যে ভাবনা এসেছে তা বুঝতে হবে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৩১ দফা বাস্তবায়ন করে সে আকাক্সক্ষা বাস্তবায়ন করতে হবে। নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত’র কথা শুনি, ৩১ দফার মধ্যে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত’র কথা অনেক আগে বলেছে বিএনপি। খালেদা জিয়া বলেছেন, তারেক রহমান বলেছেন। খসরু বলেন, ‘বাংলাদেশে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু হয়েছে, এটা কেউ বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। গণতন্ত্রের পথ কেউ যাতে রুদ্ধ করতে না পারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে এগিয়ে যাব, কারো উস্কানিতে পা দেয়া যাবে না। এটা তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত। আমরা নতুন সংস্কৃতি সৃষ্টি করতে চাই, সহনশীল থাকতে হবে সবাইকে।
সমাবেশে জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল বলেন, আমি পলিটিক্যাল কেউ না। আমি একজন স্পোর্টসম্যান। তাই আমি স্পোর্টস নিয়ে কিছু কথা বলব। একসময় মানে চট্টগ্রাম থেকে ৫-৬ জন করে ন্যাশনাল টিমে খেলতো। কিন্তু লাস্ট ১০-১৫ বছর আগে সেরকম প্লেয়ার উঠে আসেনি। তিনি বলেন, আমি চাইব, আগামীতে যেন উঠে আসে। আমরা কেন ন্যাশনাল টিমে যেতে পারিনি তা দেখতে হবে। আর কি করলে আমরা স্পোর্টসে আরো অংশগ্রহণ করতে পারব, অবদান রাখতে পারব তা নিয়ে কাজ করতে হবে।
সমাবেশে চট্টগ্রাম মহানগরীসহ চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা বিভাগের ৯৯টি উপজেলার নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে অংশ নেয়। তীব্র তাপপ্রবাহ উপেক্ষা করে চট্টগ্রাম অঞ্চলের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন বিপুলসংখ্যক ছাত্র-শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার বিএনপি সমর্থকরা।