শহীদ স্মরণে দোয়া ও আলোচনা সভা

গণভোটের রায় উপেক্ষা বিএনপির বড় ভুল : নূরুল ইসলাম বুলবুল

Printed Edition
3rd-6
জুলাই গণ-অভুত্থানে শহীদ, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের স্মরণে জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে আলোচনা সভা : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো: নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেছেন, গণভোটের রায় উপেক্ষা করা বিএনপির রাজনৈতিক বড় ভুল। গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে রাষ্ট্র কর্তৃক কোনো কর্মসূচি ঘোষণা না করায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জুলাইয়ের ভয়াল দিনগুলোতে আওয়ামী লীগ কর্তৃক পরিচালিত নৃশংস গণহত্যা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভিতে তুলে না ধরলে জনগণ বিটিভির অভিমুখে ছুটতে পারে।

গতকাল বুধবার বিকেলে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের মুক্তিযোদ্ধা হলরুমে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচির প্রথম দিনে জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ, আহত, পঙ্গুত্ব বরণকারীদের স্মরণে দোয়া ও আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে বিএনপি ৭০ শতাংশ জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে ফ্যাসিবাদের পথ বন্ধ হয়ে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় দেশ এগিয়ে যাবে এবং একটি জনকল্যাণকর রাষ্ট্র গঠিত হবে। কিন্তু সরকার জুলাই সনদ পাশ কাটিয়ে পুরনো ফ্যাসিবাদের পথে যাত্রা শুরু করেছে। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছেন সেই শহীদ পরিবারকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিতে হবে। আহত জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসন করতে হবে এবং সম্মানজনক ভাতা দিতে হবে। জুলাই ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বন্ধ থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, যেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কারণে সরকার প্রধান নির্বাসিত জীবন থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরে আসার সুযোগ পেয়েছেন, রাজনীতি করতে পারছেন সেই জুলাইকে সরকার অস্বীকার করে জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছে।

তিনি বলেন, চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত প্রত্যেক শহীদ পরিবার এবং আহতদের পাশে দাঁড়িয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

সভায় শহীদ শেখ মেহেদী হাসান জুনায়েদের পিতা শেখ জামাল হাসান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদেরকে গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিতে উৎসাহিত করেছিলেন। কিন্তু বিএনপি সরকার গঠন করে গণভোটের রায় মেনে নেয়নি।

শহীদ জিহাদ হোসেনের পিতা মোশাররফ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, চাঁদার জন্য তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা বারবার তালা মারার চেষ্টা করছে! তিনি বলেন, আমার সন্তান জীবন দিয়েছে বৈষম্যহীন, মানবিক ও ন্যায় বিচারের এক কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের জন্য কিন্তু জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশ সেই পুরনো ধারায় চলছে। যা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

শহীদ ফারহান ফাইয়াজের পিতা মো: শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আশপাশে যারা আছেন তারা অনেক সময় প্রধানমন্ত্রীকে সঠিক তথ্য দেন না। অতীতেও পতিত শেখ হাসিনাকে ভুল তথ্য দিয়ে বিরোধী দলমতকে দমনে উৎসাহিত করা হতো। এখনো প্রধানমন্ত্রী ভুল তথ্য দেয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীকে বলা হচ্ছে আমরা (জুলাই পরিবার) বিরোধী দলের। কিন্তু ‘না’ আমরা কোনো দলের নয়। তবে জুলাই আন্দোলনের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত একমাত্র জামায়াতে ইসলামী আমাদের খোঁজখবর নিয়ে আসছে। অন্য কোনো দল কিংবা রাষ্ট্র সেই দায়িত্ব পালন করেনি।

আরো বক্তব্য রাখেন শহীদ রেজাউল করিমের পিতা আল-আমীন মীর, শহীদ আলিফের পিতা সৈয়দ গাজীউর রহমান, জুলাই যোদ্ধা আহত শাহ আলম গাজী, জুলাই যোদ্ধা আহত কামরুল ইসলাম। তারা জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ কর্তৃক পরিচালিত গণহত্যার বিচার সম্পন্ন করতে এবং গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে সরকারের কাছে দাবি জানান।

কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপির পরিচালনায় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এমপি, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান এবং মো: শামছুর রহমান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি আব্দুস সালাম, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক শাহীন আহমেদ খান প্রমুখ।