পটুয়াখালী শহরের বর্জ্যে গ্রামবাসীর নাভিশ্বাস, দুর্গন্ধে ঘরছাড়া পরিবার
Printed Edition
পটুয়াখালী প্রতিনিধি
পটুয়াখালী শহরের বর্জ্য অপসারণের ভার এখন পড়েছে পাশের লোহালিয়া ইউনিয়নের ইদ্রাকপুর গ্রামের ওপর। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩০ টন আবর্জনা ১০-১২টি ট্রাকে করে গ্রামের একটি অস্থায়ী ভাগাড়ে ফেলা হচ্ছে। এতে পুরো এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে, যা স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাপনকে বিপর্যস্ত করে তুলছে।
সরেজমিন দেখা যায়, লোহালিয়া সেতুর উত্তর প্রান্তের অ্যাপ্রোচ সড়কের পাশে পৌরসভার নিজস্ব জমিতে ভাগাড়টি গড়ে তোলা হয়েছে। আংশিকভাবে টিন দিয়ে ঘেরা হলেও বেশিরভাগ অংশ অরক্ষিত। ছালার চট দিয়ে তৈরি সীমানা বাতাসে ছিঁড়ে যাওয়ায় দুর্গন্ধ এবং আবর্জনা আশপাশের বসতবাড়িতেও ছড়িয়ে পড়ছে।
ভাগাড়সংলগ্ন বাসিন্দারা জানান, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন। সুলতান প্যাদা (৪২) বলেন, দুর্গন্ধ সহ্য করতে না পেরে তার স্ত্রী সালমা বেগম ও ১৩ মাস বয়সী সন্তান শাওন হোসেন প্রতিবেশীর বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। শিশুটি কয়েকবার শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হওয়ায় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হয়েছে। একই পরিস্থিতির শিকার পাশের জোমাদ্দার বাড়িটিও। সাতটি ঘরে বসবাসরত প্রায় ৪০ জনের মধ্যে ১৫ জনই শিশু। গৃহবধূ সাবিনা ইয়ামিন ও স্বর্ণা জাহান মারুফা জানান, বিশেষ করে রমজান মাসে পরিস্থিতি ছিল অসহনীয়। রোজা রেখে দুর্গন্ধ সহ্য করতে না পেরে অনেকেই বমি করেছেন। দখিনা বাতাস বইলে পুরো পরিবারকে ঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হয়।
ভাগাড় থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরে অবস্থিত ইদ্রাকপুর আমিনিয়া দাখিল মাদরাসাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সুপার মো: আবদুস সাত্তার লস্কর জানান, দুর্গন্ধের কারণে ৩০০ শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমে গেছে। শিক্ষক-কর্মচারীরাও ঠিকমতো অফিস কক্ষে বসে থাকতে পারছেন না। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এদিকে ভাগাড়সংলগ্ন সড়কের পাশে চায়ের দোকান চালানো ইসমাইল জোমাদ্দার বলেন, দুর্গন্ধের কারণে তার দোকানে ক্রেতা আসা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিনি।
স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা: মোহাম্মদ খালেদুর রহমান মিয়া বলেন, উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য ফেলা হলে শ্বাসকষ্ট, পানিবাহিত রোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয় এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এ সমস্যা সমাধানে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও শোধনাগার স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি। পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক জুয়েল রানা জানান, ইদ্রাকপুরের ভাগাড়টি অস্থায়ীভাবে স্থাপন করা হয়েছে। বিকল্প ভাগাড় নির্মাণ শেষ হলে এখানে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করা হবে। তবে কবে নাগাদ সেই ভাগাড় নির্মাণকাজ শেষ হবে, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।
সব মিলিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে চলমান এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।