৩ জেলায় প্রাণ গেল সেনাসদস্যসহ ৬ জনের : আহত ১৫
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
ময়মনসিংহ, সিলেট ও নওগাঁয় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় এক সেনাসদস্যসহ অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন।
ময়মনসিংহ অফিস ও ফুলপুর সংবাদদাতা জানান, ময়মনসিংহের ফুলপুরে যাত্রীবাহী বাস ও সেনাবাহিনীর ট্রাকের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সেনাবাহিনীর ট্রাকের চালক সার্জেন্ট রেজাউল, বাসের চালক মো: বাসেত ও একজন পথচারী রয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের স্থানীয় হাসপাতালসহ ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে ফুলপুর পৌরসভার বালিয়া মোড় সংলগ্ন কাকলি রাইস মিলের সামনে ময়মনসিংহ-হালুয়াঘাট সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ফুলপুর ক্যাম্প থেকে সেনাবাহিনীর একটি দল ট্রাকযোগে ময়মনসিংহের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। পথে বালিয়া মোড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা শেরপুরগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের সাথে ট্রাকটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাস ও ট্রাকের সম্মুখভাগ দুমড়েমুচড়ে যায়। দুর্ঘটনায় এক পথচারীও প্রাণ হারান। তবে তার নাম পরিচয় জানা যায়নি।
গোলাপগঞ্জ (সিলেট) সংবাদদাতা জানান, সিলেটের গোলাপগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী, দিনমজুরসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- বিয়ানীবাজার উপজেলার তিলপাড়া ইউনিয়নের মাটিজুরী গ্রামের মৃত আব্দুর রউফের ছেলে ফরহাদ হাসান (২৪) একই উপজেলার মোস্তার আলীর ছেলে কামাল উদ্দিন (৪০)। তিনি পেশায় দিনমজুর ছিলেন।
জানা গেছে, দিনমজুর কামাল আহমদ গোলাপগঞ্জে ব্যাটারি চালিত রিকশায় করে কাজে যাওয়ার সময় উপজেলার খাগাইল এলাকায় আসামাত্র একটি ড্রামট্রাকের চাপায় রিকশাটি খাদে পড়ে গেলে তিনি ঘটনা স্থলে নিহত হন।
অপর দিকে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিয়ানীবাজার উপজেলার মাটিজুরী গ্রামের আব্দুর রউফের ছেলে সিলেট শহর থেকে মোটরসাইকেল (সিলেট ল-১২-৭১৬৪) বাড়ি ফেরার পথে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ি ইউপির সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের হিলালপুর (পাঁচমাইল) ড্রিমল্যান্ড পার্কের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় তার লাশ দেখতে পান স্থানীয়রা। এ সময় সড়কের মধ্যে একস্থানে হেলমেট অপর স্থানে মোটরসাইকেল ও ফরহাদ হাসানের রক্তাক্ত লাশ পাওয়া যায়। স্থানীয়রা বলেছেন মোটরসাইকেলে কোনো দুর্ঘটনার চিহ্ন দেখা যায়নি। তবে কিভাবে সড়কে ফরহাদ হাসান নিহত হলেন সেটি জানা যায়নি।
সংবাদ পেয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ ও কুশিয়ারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা পৃথক ঘটনাস্থল থেকে নিহত দু’জনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠান।
মহাদেবপুর (নওগাঁ) সংবাদদাতা জানান, মহাদেবপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মাইক্রোবাসে থাকা নারীসহ পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত পৌনে ১২টার দিকে মাইক্রোবাসের চালক মারা গেছেন। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নওগাঁ টু মহাদেবপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের মহাদেবপুর থানার চৌদ্দমাইল নামক স্থানে।
নিহত মাইক্রোবাস চালক নওগাঁর ধামুরহাট উপজেলার ফতেপুর গ্রামের ইসমাইলের ছেলে আব্দুস সামাদ। আহতরা হলেন, পতœীতলা উপজেলার পার্টি আমলাই গ্রামের সাইদুর রহমান ও স্ত্রী মাহমুদা বেগম একই গ্রামের রফিকুলের ছেলে রাব্বি এবং ধামুরহাট উপজেলার সিঙ্গারু গ্রামের গনির ছেলে রফিকুল।