গুমের শিকার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরকারকে আহ্বান

“অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, গুমের সাথে জড়িত অনেকেই এখনো আগের চেয়ারে বসে আছেন।”

নিজস্ব প্রতিবেদক
Printed Edition
গুমের শিকার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরকারকে আহ্বান
অধিকারের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম | নয়া দিগন্ত

  • এখনো বহাল তবিয়তে গুমের সাথে জড়িতরা
  • হাসিনার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অভিযোগ দাখিল আজ

গুমের শিকার প্রতিটি অসহায় পরিবারের পাশে সরকারকে দাঁড়াতে হবে। একই সাথে এই ঘটনাগুলোর সাথে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, গুমের সাথে জড়িত অনেকেই এখনো আগের চেয়ারে বসে আছেন।

গতকাল শনিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার আয়োজিত আন্তর্জাতিক গুম সপ্তাহ উপলক্ষে ‘গুমের সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে বিচার কর’ শীর্ষক এক আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। অধিকারের সভাপতি তাসনিম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, সাবেক সচিব ও রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান, দৃক-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহিদুল আলম, মীর মোহাম্মদ বিন কাশেম আরমান, সাংবাদিক ফাইজুল হাকিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শরিফুল ইসলাম, সাংবাদিক শহীদুজ্জামান, গুম পরিবারের সদস্য নাসরিন জামান প্রমুখ।

আন্তর্জাতিক আদালতের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, রোববারের মধ্যে সর্বোচ্চ অপরাধীর (শেখ হাসিনা) বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করা হতে পারে। জুনের মধ্যে ১০ থেকে ১২টি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, আমরা রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছি। তবে ট্রাইব্যুনালকে আন্তর্জাতিক আইন মেনেই কাজ করা উচিত। এতে করে একটি যৌক্তিক সময়ের প্রয়োজন হয়। বিগত সরকারের মতো বিচারের নামে যাতে অবিচার না হয়, কোনো অন্যায় বা তামাশা না হয়, তার জন্য এই যৌক্তিক সময় দিতে হবে। আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক থেকে কাজ করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, অভিযুক্ত অনেকে এখনো গ্রেফতার হয়নি। তাদের গ্রেফতারেও সময়ের প্রয়োজন রয়েছে। তবে আমরা এমনভাবে কাজ করার চেষ্টা করছি যাতে করে আর কোনোদিন এই গুমের সংস্কৃতি ফিরে না আসে। শতাব্দীতে এমন সুযোগ একবারই আসে। এটাই সেই সুযোগ। এই সুযোগেও যদি বিচারকাজ সম্পন্ন করতে না পারি, তবে আর পাওয়া যাবে না। তিনি ৫ আগস্ট একটি দানব শক্তিকে বিতাড়িত করে ছাত্র-জনতা যে আলো জ্বালিয়েছে সেই আলো যাতে নিভে না যায় সে জন্য সজাগ দৃষ্টির রাখার আহ্বান জানান।

ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ বিন কাশেম আরমান বলেন, গুম হওয়ার পর সেখানে কেমন ছিলাম তা অনেক জায়গায় বলেছি; কিন্তু গুমের শিকার পরিবারগুলোর যে দুরাবস্থা হয় সেটি কখনো বলা হয়নি। পরিবারের প্রতিটি সদস্য কী নিদারুণ কষ্টের মধ্যে দিন-রাত পার করেন তা শুধু তারাই উপলব্ধি করতে পারেন। আমাদের মা, স্ত্রী ও শিশুরা প্রতিটি ক্ষণ কী যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে ছিল তা বলে বোঝানো যাবে না। আমার পরিবারের সদস্যরা কোন অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন এলে দৌড়ে রিসিভ করতেন, যদি আমার সংবাদ পাওয়া যায়। কোনো মানবাধিকার সংগঠন বিবৃতি দিলে তাদের কাছে ছুটে যেতেন। তিনি বলেন, এই উপলব্ধি আমি প্রতিটি গুমের শিকার পরিবারের মাঝে দেখতে পাই। সব চেয়ে কঠিন অবস্থায় থাকতে হয় গুম পরিবারের শিশুদের। যখন কেউ জানতে চায় তোমার বাবা কোথায় আছেন? তখন ওই শিশু কোনো উত্তর দিতে পারে না। কোনো স্ত্রীকে যদি বলা হয় আপনার স্বামী কোথায়, ওই স্ত্রী কী বলবেন? তিনি বলেন, আমি একজন ব্যারিস্টার, আইন পেশার সাথে রয়েছি। আমার মাথার ওপর ছাদ আছে, আমার বাজার করার চিন্তা করা লাগছে না; কিন্তু গুমের শিকার অন্য পরিবারগুলোর মধ্যে চাপা কষ্ট বিরাজ করছে। তারা অভাবের কথা মুখ ফুটে কাউকে বলতে পারছেন না, সহ্যও করতে পারছেন না। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষমদের হারিয়ে চরম অর্থকষ্টে ভুগছেন। তাই তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। তাদের ন্যূনতম মাসিক ব্যয় বহনের দায়িত্ব নিতে হবে। শিশুদের লেখাপড়ার খরচসহ তারা কেমন চলছে সরকারের এই বিষয়টি খোঁজ নেয়া উচিত। গুটিকয়েক পরিবারের দায়িত্ব নেয়ায় সরকারের অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। তাদের পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনে কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা নেয়া দরকার। তিনি বলেন, ড. ইউনূস অত্যন্ত বড় ধরনের মানুষ। আমরা জানি আপনার সরকার অনেক কাজ করছে। গুমের শিকার পরিবারের জন্য অন্তত এই কাজটুকু করুন।

দৃক-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহিদুল আলম বলেন, সাত বছরের শিশু সাফা যখন মায়ের গর্ভে তখন তার বাবা গুমের শিকার হন। সাত বছর পর এই সাফা তার বাবার ছবি নিয়ে মায়ের সাথে বিভিন্ন জায়গায় ছোটাছুটি করেছে। তারই একটি ফটো আমাদের এক্সিবিশনে প্রথমস্থান অধিকার করে। এর পর থেকে র‌্যাব আমাকে দিনে-রাতে সময়ে অসময়ে ফোন করতে থাকে। গুমের শিকার পরিবারের সদস্যরাই কেবল জানেন এর বেদনা। মাইকেল চাকমার পরিবার তাকে আর ফিরে পাবে না বলে শেষকৃত্য করে ফেলেছিল। কতটা বেদনা নিয়ে তারা লাশ না পেয়েও শেষকৃত্য করেছিলেন! তিনি বলেন, এই র‌্যাব, ডিজিএফআই যারা গুম খুন ব্যাংক লুটের মতো কাজের সাথে জড়িত, তারা যদি এখনো ক্ষমতায় থাকে তাহলে দেশের কী পরিবর্তন ঘটেছে? এখনো গুমের কোনো বিচার না হওয়া ন্যক্কারজনক কাজ। সরকারের উচিত গুমের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করা।

সাবেক সচিব ও রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান বলেন, শেখ মুজিবের রক্ষীবাহিনীর সদস্যরা এ দেশে গুমের প্রচলন শুরু করে। তাদের হাতে প্রায় ৩০/৪০ হাজার মানুষ হত্যার শিকার হয়। ২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বর ডিজিএফআই আমাকে তুলে নিয়ে যায়। আমার বাসায় যারা অভিযান চালিয়েছিল তাদের মধ্যে তিনজন হিন্দিতে কথা বলতেন। তারা আমার কম্পিউটারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট ধ্বংস করে ও নিয়ে যায়। ১৬ মাস গুম করে রাখার সময় যারা আমার সাথে কথা বলতে আসতেন তাদের মধ্যে কেউ কেউ হিন্দিতে কথা বলতেন। তিনি আরো বলেন, এ দেশে যতগুলো জঙ্গি অভিযান হয়েছে তার ৯৯ পারসেন্ট ভুয়া। শেখ হাসিনার সাথে ভারতের ‘র’-এর কিছু গোপন চুক্তি হয়। ওই চুক্তির একটি ছিল জঙ্গি নাটক। গুমের পর আমাদের যারা অত্যাচার করেছে তারা এখনো চাকরি করছে। তাহলে অত্যাচারের শিকার মানুষগুলো কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে। গুমসংক্রান্ত কমিশন শুধু গুলশানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রতিটি বিভাগে ছড়িয়ে দেয়া উচিত বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মারুফ জামান বলেন, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ফ্লাই করার পর আমরা ডিজিএফআই অফিস ঘিরে ফেলি। ওই দিনের মধ্যে ভেতরে গুম হয়ে থাকা সবাইকে মুক্ত করতে বলি। তারাও আমাদের কথায় একমত হন। একজন বলেন, এখানে যারা আছে তাদের ছেড়ে দেয়া হবে। তবে যারা দেশের ওপারে রয়েছে তাদের ব্যাপারে আমরা কিছু বলতে পারব না। তিনি বলেন, শুধু ডিজিএফআই নয়, র‌্যাবের প্রতিটি অফিসে একটি করে লোহার খাঁচা ছিল। যেখানে গুমের শিকার ব্যক্তিদের রাখা হতো। অথচ সরকার এই ১০ মাসে তাদের কিছুই করতে পারল না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর শরিফুল ইসলাম বলেন, যেখানে দীর্ঘ দিন নির্যাতন চলতে থাকে সেখানে একসময় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড শুরু হয়। একসময় এই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড যখন স্টাবলিস্ট হয়ে যায় তখনই সেখানে গুমের শিকার শুরু হয়। আমরা দেশে গুম হবে এটা আগে থেকেই অনুমান করতে পেরেছিলাম; কিন্তু এর প্রতিকারের জন্য কেউ রুখে দাঁড়াতে পারিনি। এটা আমাদের ব্যর্থতা। তিনি বলেন, হিন্দুত্ববাদ শেখ মুজিবকে কেন্দ্র করে দেশে একটি কাল্ট তৈরি করেছিল। এই কাল্টের অনুসারীরা গণহত্যাকেও অস্বীকার করতে শুরু করে। হিন্দুত্ববাদীরা আমাদের দেশে কাল্ট তৈরি করতে পারলেও পাকিস্তানে সেটি বাস্তবায়ন করতে পারেনি। কারণ যে দেশে সেনাবাহিনী শক্ত থাকে সে দেশে এটা সম্ভব নয়। তবে সেই সেনাবাহিনী নয়, যার প্রধান দেশের জনগণের ওপর আঙুল উঁচু করে কথা বলেন। তার আঙুল উঁচু থাকবে বহিঃশত্রুদের জন্য।

শরিফুল ইসলাম আরো বলেন, গুমকে প্রতিষ্ঠিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও ব্যবহার করা হয়েছে। হিন্দুত্ববাদ দখল করেছে কবি, শিল্পীদেরও। বাদ পড়েনি মিডিয়াগুলোও। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লব ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। কারণ এখানে প্রধানমন্ত্রীসহ ৩০০ সংসদ সদস্য একসাথে পালিয়ে গেছেন। এমনকি তাদের অনুসারী মসজিদের ইমাম পর্যন্ত পালিয়েছেন।

গুমের শিকার আবদুল বাতেনের স্ত্রী নাসরিন জাহান বলেন, গুমের শিকার ৯০ ভাগ সদস্যই জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির নেতাকর্মী। বিএনপি নেতাদের অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে গুম হওয়া ব্যক্তিকে খুঁজতে সহায়তা করার কথা ছিল; কিন্তু তাদের ভূমিকা কী? যে দলের জন্য এরা গুম হলো সেই দল আমার খোঁজ না নিয়ে নির্বাচন নির্বাচন নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করছে। তিনি আরো বলেন, পর্যাপ্ত ডকুমেন্টস থাকার পরও গুমের সাথে জড়িতরা আগের চেয়ারেই বসে আছে। এটা কিভাবে সম্ভব? একটা গুম কমিশন করা হয়েছে, অথচ তার হাত-পা বাঁধা। যার কারণে ওই কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। কান্নাজড়িত কণ্ঠে নাসরিন বলেন, হয় গুমের সাথে জড়িতদের বিচার করুন, না হয় সতীদাহ প্রথা চালু করুন। আমরা আর নিতে পারছি না।

অন্য বক্তারা বলেন, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশে গুমের ভয়াবহ এবং সুসংগঠিত ধারা লক্ষ করা গেছে। এই সময়ে রাজনৈতিক কর্মী, ভিন্নমতাবলম্বী, মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক এবং ‘ইসলামিক জঙ্গি’ ট্যাগ দিয়ে বহু মানুষকে গুম করা হয়। এ সময় বেশ কিছু ব্যক্তিকে ভারতে গুম করে রাখা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, আয়নাঘর বা জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলসহ গোপন বন্দিশালার অনেক আলামত ৫ আগস্টের পর নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। গুমের বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্যই তা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অধিকার ২০০৯ সাল থেকেই গুমের ঘটনাগুলোর ডকুমেন্টেশন করতে থাকে। ডকুমেন্টেশন অনুযায়ী ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট পর্যন্ত ৭৩০ জন ব্যক্তি গুম হয়েছেন বলে জানা যায়। এদের মধ্যে ৮৩ জনকে গুমের পর বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং ১৬২ জনকে আজ পর্যন্ত ফেরত পাওয়া যায়নি। অধিকার সবসময় ধারণা করেছে যে, এই সংখ্যা আরো অনেক বেশি হতে পারে। কারণ হাসিনার আমলে সৃষ্ট ভয়ের সংস্কৃতির কারণে অনেক ভিক্টিম এবং পরিবার গুমের ঘটনা রিপোর্ট করেনি।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে অধিকার-এর বেশ কিছু দাবি রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে, গুমের শিকার যেসব ব্যক্তি ফেরত আসেননি তাদের ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করা এবং তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা জনগণকে জানানো। যেসব গুমের শিকার ব্যক্তি এখনো ফিরে আসেননি, তাদের স্ত্রী-সন্তানরা যাতে গুম হওয়া ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব পরিচালনা এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির অধিকার পেতে পারেন সেই ব্যবস্থা করা। গুমের পর কিছু ব্যক্তিকে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং পরে তাদের পাওয়া গেছে। তাই ভারতে আরো গুমের শিকার ব্যক্তি আছেন কি না সে বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভারত সরকারের সাথে কূটনৈতিক পর্যায়ের যোগাযোগ স্থাপন করে ব্যবস্থা নেয়া। যেসব ব্যক্তি গুমের পর ফেরত এসেছেন, তাদের অনেকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এমনকি কাউকে কাউকে মিথ্যা সাক্ষ্যের ভিত্তিতে নির্যাতন করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী আদায় করে নিম্ন আদালতকে ব্যবহার করে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। এসব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে এবং কারাগার থেকে ভিক্টিমদের মুক্তি দিতে হবে। গুমের সাথে জড়িত সব ব্যক্তিকে আইনের আওতায় এনে তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচার করতে হবে।