উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন

ভুয়া নথিতে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বের করে নেয়া কনটেইনার উদ্ধার

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা চট্টগ্রাম

ভুয়া নথিপত্র ব্যবহার করে গার্মেন্টের কাঁচামাল বোঝাই একটি ডাবল সাইজের কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বের করে নেয়ার পর উদ্ধার করা হয়েছে। ভুয়া অন-চেসিস অনুমতিপত্র, চালান ও গেট পাস ব্যবহার করে কনটেইনারটি বন্দরের সংরক্ষিত এলাকা থেকে বের করে নেয়া হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি অবগত হওয়ার পর বন্দর কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতায় কনটেইনারটি উদ্ধার করে। তবে এ ঘটনায় জড়িত কাউকে আটক করা যায়নি বলে সূত্র জানায়। ঘটনা তদন্তে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

বন্দর সূত্র জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার ওই কনটেইনারটি পাচারের উদ্দেশ্যে জে এস ইন্টারন্যাশানাল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের একটি ভুয়া অন-চেসিস অনুমতিপত্র, চালান এবং গেট পাস ব্যবহার করে এনসিটি ব্যাকআপ ইয়ার্ড থেকে ট্রেইলার নাম্বার-চট্টমেট্রো-ঢ-৮১-২৩৬৪-এ লোড করে সিপিএআর গেট ব্যবহার করে আনুমানিক সাড়ে ৪টায় কনটেইনারটি বের করে নেয়া হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পেরে চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা বিভাগ গোয়েন্দা অনুসন্ধান শুরু করে এবং একপর্যায়ে কনটেইনারটির অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

পরবর্তী সময়ে কনটেইনারসহ ওই ট্রেইলারটি হালিশহরের বারনীঘাট এলাকার শাহজালাল ট্রাক টার্মিনালের পাশে, বিএমডি সাইফুল ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ নামক একটি গ্যারেজ থেকে বন্দরের নিরাপত্তা বিভাগ কর্তৃক বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে আনুমানিক রাত সাড়ে ১১টার দিকে ট্রেইলারসহ কনটেইনারটি আটক করা হয়। এ সময় কনটেইনারটি পাচারের সাথে জড়িতরা পালিয়ে যায়।

সূত্র জানিয়েছে, ফাহিম এটেয়ার অ্যান্ড কম্পোজিট লিমিটেড নামীয় প্রতিষ্ঠানের নামে আমদানিকৃত কনটেইনার নাম্বার-এইচএমএমইউ-৪১৭৫৯৯০, যার এজেন্ট কন্টিনেন্টাল ট্রেডার্স, রোটেশন নাম্বার-২৫/৩৮৭১, ভেসেল-স্বদেশী চিটাগাং। কনটেইনারটি পাচারের অপচেষ্টাকালে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের জোর তৎপরতায় কনটেইনারটি আটক করা হয় বলে সূত্রের দাবি।

বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সাইয়েদ রেফায়েত হামীম জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে তদন্ত কমিটিতে কারা রয়েছেন তাৎক্ষণিক তিনি জানাতে পারেননি। এ ঘটনায় বন্দর থানায় মামলার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি জানান। ওই অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করায় সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি বন্দর কর্তৃপক্ষ কৃতজ্ঞ বলেও তিনি জানান।