এটিই আমার ক্যারিয়ারে সেরা সাফল্য
Printed Edition
রফিকুল হায়দার ফরহাদ
আগের ম্যাচে ইলিয়াস আহমেদ স্মৃতি সংসদকে হারানো। যা প্যারাগন ডেইরি দ্বিতীয় বিভাগ লিগের রানার্সআপ হওয়াটা নিশ্চিত করে পূর্বাচল পরিষদের। সেটিই ছিল পূর্বাচল পরিষদের শেষ ম্যাচ। ফলে দুইদিন আগে বিকেএসপি এবং খিলগাঁও ফুটবল অ্যাকাডেমির শেষ ম্যাচে দর্শক হিসেবেই মাঠে আসা পুরো পূর্বাচল পরিষদ টিমের। এই দর্শক হিসেবে উপস্থিত থাকার নেপথ্য ছিল বাফুফে সভাপতির কাছ থেকে রানার্সআপ ট্রফি গ্রহণ। এই ট্রফি গ্রহণ শেষে পূর্বাচল পরিষদের কোচ আরমান হোসাইন জানান, ‘এ পর্যন্ত আমি ১৫ বার বিভিন্ন দলকে ওপরের ডিভিশনে তুলেছি। তবে এর মধ্যে এবারের দ্বিতীয় বিভাগ লিগে পূর্বাচলকে রানার্সআপ করানোটাই আমার কোচিং ক্যারিয়ারে সেরা সাফল্য।’
দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবলের আগে তার বড় সাফল্য আছে সিনিয়র ডিভিশন ফুটবল লিগে। সেখানে তিনি ২০১৮-১৯ সিজনে কারওয়ান বাজার প্রগতি সংঘ, এবং ২০২৫-২৬ মৌসুুম যাত্রাবাড়ি ক্রীড়া চক্রকে চ্যাম্পিয়ন করিয়েছেন। ২০২২-২৩ সালে দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবলে যাত্রাবাড়ি ঝটিকা সংসদকে চ্যাম্পিয়ন করিয়েছেন। কিন্তু এবারের রানার্সআপ ট্রফিটা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ আরমানের কাছে? পুরান ঢাকার এই কোচ জানান, ‘লিগ শুরুর পরপরই আমার দল থেকে ১০ ফুটবলারকে বাফুফে নিয়ে নেয় অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় দলের ক্যাম্পের জন্য। একটি টিম যদি দলের ১০ জন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারকে হারায় তাহলে তারা কিভাবে লিগ খেলবে? সেখানে আমরা নতুন ১০ ফুটবলার নিয়ে এবং আগে থেকে থাকা বাকি খেলোয়াড়দের নিয়ে রানার্সআপ হয়েছি, দলকে সিনিয়র ডিভিশনে তুলেছি এটা বিশাল বড় ব্যাপার।’ যোগ করেন, ‘আমাদের প্রস্তুতিটা ছিল সবার আগে। এ ছাড়া ১০ জন চলে যাওয়ার পর বাকি যারা ছিল তারা ক্লিক করার ফলেই আমাদের এই সাফল্য। তাই এই সাফল্যকেই আমি আমার কোচিং ক্যারিয়ারে সেরা সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করছি।’ ক্লাবেব এক কর্মকর্তা জানান, ‘আমরা জেলায় জেলায় গিয়ে ট্রায়াল দিয়ে ফুটবলার সংগ্রহ করেছি। যে কারণে ভালো ফুটবলার নেয়া সম্ভব হয়েছে।’
সদ্য সমাপ্ত দ্বিতীয় বিভাগ লিগে শিরোপার রেসে ছিল পাঁচ দল। এই দল গুলো হলো-
বিকেএসপি, পূর্বাচল পরিষদ, গৌরীপুর স্পোর্টিং ক্লাব, টঙ্গী ক্রীড়া চক্র এবং চক বাজার কিংস। এই রিজার্ভ ফুটবলারদের নিয়েই চ্যাম্পিয়ন বিকেএসপিকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে পূর্বাচল। গৌরীপুর স্পোর্টিং ক্লাবের বিপক্ষেও ৩-০ গোলের জয়। এ ছাড়া ১-১ এ ড্র করেছিল চকবাজার কিংসের সাথে। অবশ্য হেরেছিল টঙ্গী ক্রীড়া চক্রের কাছে। ১৩ খেলায় ৮ ম্যাচে জয় তাদের। কোচ আরমানের মতে, বাংলাদেশের উঠতি ফুটবলারদের মধ্যে একমাত্র বিকেএসপি ও যশোরের শামস উল হুদা অ্যাকাডেমিকে খেলোয়াড়দের ফুটবলীয় অ্যাকাডেমিক শিক্ষা দেয়া হয়। অন্যরা এই অ্যাকাডেমিক শিক্ষার বাইরে। তাই গ্রাম গঞ্জে থাকা উঠতি এই ফুটবলারদের যদি ক্যাম্পে রেখে দীর্ঘ ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে যথাযথভাবে তৈরি করা হয় তাহলে বাংলাদেশের ফুটবল আরো এগিয়ে যাবে। তার মতে, যদি আমি আমার সেরা ১০ ফুটবলারকে পেতাম তাহলে চ্যাম্পিয়নই হতাম।