উন্নতির মানসিকতাই বড় শক্তি : মুশফিক
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের ঐতিহাসিক জয় থেকে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ডারউইনের দাপুটে জয়ের পথচলায় আবেগ আপ্লুত বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে বদলের সাক্ষী মুশফিকুর রহীম! ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে সীমিত ওভারের ক্রিকেট থেকে সরে শুধু টেস্টে খেলা এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার দেখছেন এক আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশকে। ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারানোর পর বাংলাদেশ দলের ড্রেসিংরুমে সতীর্থদের উদ্দেশে কথা বলেন মুশফিক। সেখানে তিনি তুলে ধরেন দলের পরিবর্তন, খেলোয়াড়দের মানসিকতা এবং ভবিষ্যতের পথচলার কথা। ‘বাংলাদেশের লাল বলের দলের এই পথচলা থেকে যদি কিছু সাথে নিয়ে যেতে পারি, সেটিই আমার জন্য অনেক বড় স্মৃতি হয়ে থাকবে। সত্যি বলতে, এই দলকে নিয়ে আমি গর্বিত।’
বর্তমান দলের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে নিজেদের আরো উন্নত করার মানসিকতাকে দেখছেন মুশফিক। তার মতে, একজন খেলোয়াড়ের সামান্য উন্নতিও শেষ পর্যন্ত দলের পারফরম্যান্সে বড় ভূমিকা রাখে। তিনি বলেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকের মধ্যে নিজেদের আরো ভালো করার তাড়না তৈরি হয়েছে। এই মানসিকতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একজন খেলোয়াড় যদি নিজের পারফরম্যান্সে মাত্র ২ শতাংশও উন্নতি করতে পারে, তার প্রভাব কিন্তু শুধু ব্যক্তিগত জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকে না; পুরো দলই তার সুফল পায়। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এমন জয়ও আসলে সেই সম্মিলিত উন্নতিরই ফল।’
বাংলাদেশের বর্তমান স্কোয়াডে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়ার মতো একাধিক ক্রিকেটার থাকাটাকেও বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন মুশফিক। ‘১০, ১৫ কিংবা ২০ বছর আগে হয়তো খেলোয়াড়দের নিজেদের সামর্থ্যরে ওপর বিশ্বাস ছিল, কিন্তু পুরো দলের ওপর একই রকম আস্থা সবসময় দেখা যেত না। এখনকার ১৫-১৬ জনের স্কোয়াডে আমি ৮-৯ জনকে দেখতে পাই, যারা একাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। একজন অধিনায়কের জন্য এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কী হতে পারে!’
এ সাফল্যকে পরের সাফল্যের ভিত্তি হিসেবে কাজে লাগানোর তাগিদ দিয়েছেন মুশফিক। ‘আমরা এর আগেও বড় ম্যাচ জিতেছি। কিন্তু সাফল্য ধরে রাখা এবং নিয়মিত এমন পারফরম্যান্স করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। উন্নতির কোনো শেষ নেই-সীমা আসলে আকাশ পর্যন্ত। এবার ভাবতে হবে, কীভাবে আবারও এমন পারফরম্যান্স করা যায়।’
সাফল্যের পেছনে কঠোর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই-নিজের ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা থেকে সতীর্থদের সেই কথাই মনে করিয়ে দিয়েছেন মুশফিক। তিনি বলেন, ‘এর জন্য কোনো শর্টকাট নেই। পরিশ্রম করতেই হবে, প্রতিদিন একইভাবে লেগে থাকতে হবে। প্রক্রিয়া ঠিক থাকলে ফলাফল একসময় নিজে থেকেই আসবে। দিন শেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে যেন প্রত্যেকে নিজেকে বলতে পারে; আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়েছি।’
ডারউইনের পারফরম্যান্সকে সঙ্গী করে এবার সিরিজ জয়ের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পালা। তবে অস্ট্রেলিয়া যে আসল চেহারা নিয়ে প্রত্যাবর্তন করতে চাইবে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।