নাগরপুরে যমুনায় বিলীন হচ্ছে সলিমাবাদ ইউনিয়ন

Printed Edition
bangla-1
সলিমাবাদ ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়ার ঘরবাড়ি যমুনা নদীতে ধসে যাচ্ছে : নয়া দিগন্ত

তারিকুল ইসলাম নাগরপুর (টাঙ্গাইল)

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার সলিমাবাদ ইউনিয়নে যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে সলিমাবাদ পশ্চিমপাড়া এলাকার অস্তিত্ব এখন হুমকির মুখে। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও বিস্তীর্ণ এলাকা। যমুনার পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে ভাঙন তীব্র রূপ নিয়েছে। মাত্র কয়েক দিনে পশ্চিমপাড়ার অর্ধশতাধিক বাড়িঘর, একটি কুয়েতি মসজিদ, বহু গাছপালা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। বর্তমানে হুমকিতে রয়েছে স্থানীয় পাকা রাস্তা, স্কুল, মাদরাসা ও হাটবাজার।

সরেজমিন দেখা যায়, যমুনার প্রবল স্রোতে চোখের পলকে ধসে পড়ছে নদীর তীর। শেষ সম্বলটুকু বাঁচাতে নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্র নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিচ্ছেন। বাস্তুভিটা হারিয়ে অনেক অসহায় পরিবার নিকটাত্মীয়ের বাড়িতে অথবা খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে। গত কয়েক দিনের ভাঙনে ২২ বছরের পুরনো কুয়েতি অর্থায়নে নির্মিত মসজিদটি এবং শত শত বিঘা ফসলি জমি যমুনা গিলে খেয়েছে। বর্তমানে নদীপাড়ের সহস্রাধিক পরিবার চরম ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হক (৫০) জানান, তার একমাত্র ১৩ শতাংশের বসতভিটাটি নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় তিনি এখন পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বাস করছেন। আরেক ভুক্তভোগী সুফিয়ান (৫২) জানান, তার একমাত্র ছাপরা ঘর ও গাছপালা সর্বগ্রাসী যমুনা কেড়ে নিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত শাহ জামাল বলেন, মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে ১০ বিঘা জমিসহ বসতভিটা নদীতে তলিয়ে গেছে, কিছুই রক্ষা করতে পারিনি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষায় ভাঙন দেখা দিলেও স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয় না। পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রতিবার সান্ত্বনাস্বরূপ কিছু বালুর বস্তা (জিও ব্যাগ) ফেললেও তাতে স্থায়ী সমাধান হয় না; বরং এক স্থান বন্ধ হলে অন্য স্থানে ভাঙন শুরু হয়। সরকারি এই উদ্যোগকে তারা স্রেফ অর্থের অপচয় বলে মনে করছেন।

সলিমাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো: মনির হোসেন ভূঁঁইয়া জানান, গত কয়েক দিনে ৩৫টি পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। এখনই জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা না হলে মানচিত্র থেকে পশ্চিম সলিমাবাদ এলাকা মুছে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নাগরপুর ইউএনও এরফান উদ্দিন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে, চূড়ান্ত হলে সরকারি নিয়মানুযায়ী আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে। এ ছাড়া সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, ভাঙন প্রতিরোধে পাঁচটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে কাজ করা হবে।

উল্লেখ্য, যমুনা ও ধলেশ্বরী নদীবেষ্টিত নাগরপুর উপজেলায় এবার সলিমাবাদ ছাড়াও পাইকশা, মাইঝাইল, বলারামপুর ডিজিটাল বাজার এবং নিশ্চিন্তপুর এলাকায় ব্যাপক ভাঙন ও ক্ষয়ক্ষতি দেখা দিয়েছে।