সরকারি বেতন বাড়লেও শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ হয়নি : আতিকুর রহমান

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

নবম পে-কমিশনকে কেন্দ্র করে বাজারে পণ্যের দাম বাড়লেও শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি এখনো নির্ধারণ করা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান। তিনি শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের দাবি জানান।

গতকাল বুধবার ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত দ্বিমাসিক সেক্রেটারিয়েট বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকে শ্রমিকদের মজুরি, কর্মসংস্থান, শিল্পকারখানায় গ্যাস-বিদ্যুৎ সঙ্কট ও শ্রমিক ছাঁটাইসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও এর সুফল সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ সমানভাবে পাচ্ছেন না। সাম্প্রতিক সময়ে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। অথচ তাদের আয় সেভাবে বাড়ছে না। তিনি বলেন, সরকার প্রায় ৫০টি পেশা বা সেক্টরে মজুরি নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সাথে দেশের সব শ্রমিকের জন্য একটি গ্রহণযোগ্য ন্যূনতম মজুরির মানদণ্ড থাকা দরকার। গার্মেন্ট শ্রমিকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিন বছর আগে তাদের ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। নতুন করে মজুরি নির্ধারণের সময় হয়ে এলেও এখনো মজুরি বোর্ড গঠনের দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই।

শ্রমিকদের অবদানের কথা তুলে ধরে আতিকুর রহমান বলেন, দেশের বিভিন্ন সঙ্কট ও দুর্যোগে শ্রমিকরা সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাই তাদের জীবনযাত্রার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া সরকারের দায়িত্ব।

ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লসকর মো: তসলিমের সঞ্চালনায় বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহসভাপতি গোলাম রাব্বানী, সহসাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসাইন, দফতর সম্পাদক নুরুল আমিন, ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক সোহেল রানা মিঠুসহ কেন্দ্রীয় সেক্রেটারিয়েট পর্যায়ের নেতারা।