দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেয়া হবে না : প্রধানমন্ত্রী

Printed Edition
first-3
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রামের বাশখালীর জনসভায় বক্তব্য রাখেন : পিএমও

বাঁশখালী ও হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর ছিনিমিনি খেলতে দেয়া হবে না। যারা রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলেছেন তিনি। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের হাটহাজারী পার্বতী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, কয়েকটি রাজনৈতিক দল রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তারা মানুষকে বিভ্রান্ত করে মিথ্যা কথা বলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘যেভাবে তারা স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, যেভাবে তারা ৮৬ সালের জাতীয় বেঈমানদের সাথে মিলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল, ৯৬ সালে দেশের মানুষের সাথে গাদ্দারি করে স্বৈরাচারের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নির্বাচন করেছিল আজকে আবার সেই গুপ্ত বাহিনী মানুষকে বিভ্রান্ত করছে, মানুষের সামনে মিথ্যা কথা বলছে। তারা বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে।’

দেশের মানুষের অবস্থার পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার একে একে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে।

চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, এ অঞ্চলে দেশী-বিদেশী অনেক বিনিয়োগ রয়েছে এবং বিভিন্ন কলকারখানা গড়ে উঠেছে। চট্টগ্রামের মানুষ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্যের সাথে জড়িত। তিনি বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা ও বিনিয়োগ বাড়াতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ প্রয়োজন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকলে বিদেশীরাও বিনিয়োগে আগ্রহী হবে এবং ব্যবসা সম্প্রসারিত হবে। এর ফলে বেকার যুবক ও নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, মানুষের আয় বাড়বে এবং দেশের মানুষের ভাগ্যের চাকা ঘুরবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে একটি রাজনৈতিক দল দেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমান বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশের মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, এই বিশৃঙ্খলাকারী যারা রাজপথে এসে রাজপথ বন্ধ করে দিতে চায়, যারা মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আমরা কী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

তিনি আরো বলেন, ‘আর বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেয়া যাবে না। এখন সময় হচ্ছে দেশ গড়ার সময়, এখন সময় হচ্ছে জাতির ভাগ্য বদলের সময়।’ দেশের জনশক্তিকে উৎপাদনশীল কাজে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দেশের মানুষের শ্রমকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।

স্বাস্থ্যসেবার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের কাছে ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে হাটহাজারী উপজেলাসহ দেশের সব ক’টি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা হবে। শিক্ষার বিষয়েও নতুন পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। দেশের অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী স্কুলের পোশাক কিনতে পারে না উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, প্রথম শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই দেয়ার পাশাপাশি স্কুলের পোশাকও বিনামূল্যে দেয়া হবে।

সমাবেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনসহ বিএনপি ও সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিভ্রান্তকারীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বিগত কিছুদিন ধরে কিছু মানুষ বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যেন তারা কোনোভাবে বিশৃঙ্খলা বা বিভ্রান্তি সৃষ্টির সুযোগ না পায়। বিভ্রান্তকারীরা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে নিজেদের মতো চলে যাবে, কিন্তু দিনশেষে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের জনগণ।’

গতকাল চট্টগ্রামের বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে চট্টগ্রাম জেলার সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আয়োজিত ‘গৃহ হস্তান্তর, অনুদান ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থা নিয়ে গুটিকয়েক মানুষ বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত সময়ে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থা গুটিকয়েক মানুষকে সুবিধা দিয়েছিল। জনগণের স্বার্থে পরিকল্পনা করতে সময় প্রয়োজন। আমরা সেই কাজে হাত দিয়েছি। আগামী দশ বছরের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থা নিয়ে পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপন করা হবে। বিষয়টা নিয়ে গুটিকয়েক মানুষ কিছুদিন ধরে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তাদের উদ্দেশে বলছি, বিএনপি সরকার পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপন করবে। আপনাদের পরিকল্পনা থাকলে জনগণের কাছে উপস্থাপন করুন। কিন্তু বিভ্রান্তিকর কথা বলে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করবেন না। দেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পার হয়ে গেছে। এখন জনগণের জন্য ও দেশ গঠনে কাজ করার সময়। আমাদের পরে স্বাধীন হলেও পরিশ্রম করার মাধ্যমে অনেক দেশ এগিয়ে গেছে। আর পিছনে থাকা যাবে না। জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও দেশের ভাগ্য উন্নয়ন করতে হবে। যেই পরিকল্পনা আমরা গ্রহণ করেছি, তা জনগণের পক্ষে তাই সমর্থন অব্যাহত রাখতে হবে। বিএনপির কাছে সব ক্ষমতার উৎস জনগণ। জনগণ সাথে থাকলে সব কর্মসূচি বাস্তবায়ন সম্ভব। ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত শ্রমিকের হাতে পরিণত করে কর্মসংস্থান করা হবে। প্রত্যেক মানুষ কাজের মাধ্যমে নিজের পরিবারের ভাগ্য উন্নয়ন করতে পারবেন। সেই বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাই। ফসল উৎপাদন করে, শিল্প কারখানা গড়ে তুলে দেশে শিল্পবিপ্লব ঘটাতে হবে।’

চলতি অর্থবছরেই দেশের ৪১ লাখ নারীকে ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে বন্যায় এই এলাকায় ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। আমরা প্রাথমিকভাবে সরকারের পক্ষ থেকে ১০০ পরিবারে নতুন ঘর হস্তান্তর করছি। বিএনপি সরকারকে আপনারাই নির্বাচিত করেছেন। তাই সরকারের দায়িত্ব আপনাদের পাশে থাকা। আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম, সরকার গঠন করতে পারলে ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করব। সরকার গঠনের পর এক মাসের মধ্যেই আমরা সেই কাজ শুরু করেছি। পুরুষের পাশাপাশি নারীদের স্বাবলম্বী করতেই সরকারের এই উদ্যোগ। চলতি অর্থবছরে দেশের ৪১ লাখ নারীকে ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে। এই বাঁশখালী উপজেলার বারো হাজার পরিবারও ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। এই কার্যক্রম চলমান থাকবে। শুধু ফ্যামিলি কার্ড নয়, কৃষক কার্ডের ব্যবস্থাও আমরা করছি। কৃষকদের পাশাপাশি লবণ চাষিরাও কৃষক কার্ড পাবেন। এখানে লবণের দাম নিয়ে কথা বলা হয়েছে। লবণের দাম আলোচনা করে নির্ধারণ করা হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই দামটা জানিয়ে দেয়া হবে।’

চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকা নিয়ে মেগাপ্রকল্প হাতে নেয়ার ইঙ্গিত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের পাশে যেই সমুদ্র আছে তা দেশের সম্পদ। এই সমুদ্র ব্যবহার করে দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা সম্ভব। আমি আজ মাতারবাড়ি গিয়েছিলাম। হেলিকপ্টার থেকে মীরসরাই থেকে মাতারবাড়ি পর্যন্ত আমি দেখেছি। এই এলাকায় কলকারখানা গড়ে তুলে ব্যবসা বাণিজ্যের ব্যবস্থা করার জন্যই আমি দেখতে এসেছি। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় আমরা চায়নাকে কিছু জায়গা দিয়েছি। সেখানে তারা শত শত কলকারখানা গড়ে তুলবেন। তাতে চট্টগ্রামের মানুষের কর্মসংস্থান হবে, বেকারত্ব দূর হবে, বৈদেশিক মুদ্রা আয় হবে। বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে গড়ে তোলা হবে। দেশী-বিদেশী বিনিয়োগের জন্য শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখাটা পূর্বশর্ত। তাই শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টকারীদের ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে জনগণ।’

গুরুত্বপূর্ণ দু’টি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে চট্টগ্রামের দুই রাজনীতিবিদ আছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘যেই এলাকার সন্তান দু’টি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের (অর্থ মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) দায়িত্বে আছেন, সেই এলাকার উন্নয়ন কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবেন না। এই এলাকার বেড়িবাঁধ আমাদের মূল পরিকল্পনার অংশ। সেই কাজ শুরু হবে। কাজ শুরু হলে আমি আবার আসব।’ এর আগে প্রধানমন্ত্রী সভাস্থলের নিকটস্থ এক উপকারভোগীর বাড়িতে গিয়ে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেন।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পার সভাপতিত্বে সাবেক মেয়র কামরুল ইসলাম হোসাইনীর সঞ্চালনায় এ সময় বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, স্থানীয় সংসদ সদস্য মাওলানা জহিরুল ইসলাম, সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, সরওয়ার জামাল নিজাম, এনামুল হক এনাম, শাহজাহান চৌধুরী, সাচিং প্রু জেরি, জসীম উদ্দীন আহমেদ, বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী প্রমুখ।

মাতারবাড়ী পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

কক্সবাজার অফিস জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ও দক্ষ ব্যবহার, প্রকল্প পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত জ্বালানি পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

গতকাল দুপুরে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিদর্শনকালে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সাথে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎচাহিদা পূরণের পাশাপাশি জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সাথে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বৃহৎ অবকাঠামো পরিচালনার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সক্ষমতা, পরিবেশগত প্রভাব এবং জনগণের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প অবকাঠামোর সমন্বিত উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন। এসব অবকাঠামোর পরিকল্পিত ও কার্যকর ব্যবহার দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, শিল্পায়ন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে অবস্থিত ১,২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন মাতারবাড়ী আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

প্রধানমন্ত্রী সকালে হেলিকপ্টারে মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন। পরে তিনি প্রকল্পের প্রশাসনিক ভবনে যান।

প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত ব্রিফিং গ্রহণ করেন। এ সময় প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্তমান অবস্থা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিচালন কার্যক্রম, উৎপাদন সক্ষমতা, জ্বালানি সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা, প্ল্যান্টের পরিচালন দক্ষতা, রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন। একই সাথে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও তার সামনে তুলে ধরা হয়।

ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রী জানতে পারেন, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রটি শতভাগ দেশীয় প্রকৌশলী ও জনবল দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। এতে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দেশীয় প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দক্ষতা ও সক্ষমতার প্রশংসা করে তাদের উৎসাহ প্রদান করেন। এ সময় প্রকল্প এলাকায় প্রধানমন্ত্রী একটি স্মারক নিমগাছের চারা রোপণ করেন।

এরপর প্রধানমন্ত্রী এলপিজি, এলএনজি ও কয়লা টার্মিনাল-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ও প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। এসব প্রকল্পের পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ ব্যবহার সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তিনি বিস্তারিত তথ্য নেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মতামত ও দিকনির্দেশনা দেন।

পরে প্রধানমন্ত্রী কোল জেটি পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে তিনি মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন স্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন। কয়লা পরিবহন ও খালাসের জন্য প্রয়োজনীয় বন্দর অবকাঠামো এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের সাথে এর সমন্বিত কার্যক্রম সম্পর্কেও তাকে অবহিত করা হয়।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামসুল ইসলাম প্রমুখ।

দেশ গঠনে আলেমদের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, জাতীয় সঙ্কট, ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের জের এবং আন্তর্জাতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও দেশ ও জনগণকে রক্ষা করতে সরকার দৃঢ়তার সাথে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সাথে শান্তি, নিরাপত্তা ও মর্যাদাভিত্তিক একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ে তুলতে তিনি দেশের আলেম-ওলামা ও সাধারণ মানুষের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেছেন।

গতকাল চট্টগ্রাম সফরের অংশ হিসেবে ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

নির্বাচন-পরবর্তী নানা চ্যালেঞ্জ ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের পরপরই অগ্রাধিকারমূলক কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ, রমজান মাসের প্রস্তুতি এবং সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক তেল ও জ্বালানি সরবরাহসহ অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হওয়ায় তা সামাল দিতে সরকারকে বিশেষ মনোযোগ দিতে হয়েছে। এসব কারণেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে দেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেম আল্লামা শাহ মহিবুল্লাহ বাবুনগরী হুজুরের কাছে আসতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ ভাবনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, “আমাদের মনে রাখতে হবে, সমস্যা এখনো শেষ হয়ে যায়নি।”

মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর সাথে ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মুহাম্মদ হেলালউদ্দিন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর এবং চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান।

অপর দিকে হেফাজতে ইসলামের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, তার ছেলে মাওলানা মহিউদ্দিন এবং হেফাজতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও হেফাজত আমিরের ছেলে মাওলানা আইয়ুব বাবুনগরী প্রমুখ।