হাজার কোটি টাকা ব্যয়েও কমেনি মশার উপদ্রব কাটেনি ডেঙ্গুর শঙ্কা

হামিম উল কবির
Printed Edition

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন মশক নিধনে গত এক দশকে হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় করলেও রাজধানীতে মশার ঘনত্ব ও ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব কমানো সম্ভব হয়নি। দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর ৬০ শতাংশের বেশি ঘটে ঢাকাতেই। চলতি বছরসহ গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান প্রমাণ করে, বিপুল বাজেট বরাদ্দ সত্ত্বেও এডিস মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো সাফল্য আসেনি।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে কেবল ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকাতেই মারা গেছেন ৬৩ জন। একই সময়ে সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৪৬ হাজার ৯৩৮ জনের মধ্যে ১২ হাজার ৮২২ জনই ঢাকার। এর আগে ২০২৩ সালে দেশে রেকর্ড তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হন এবং মারা যান এক হাজার ৭০৫ জন।

বিপুল এই স্বাস্থ্যঝুঁকির বিপরীতে ঢাকার দুই সিটির বাজেট বরাদ্দ ও ব্যয় পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০২৩-২৪ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) মশক নিধনে বরাদ্দ ও ব্যয় করেছে ৬৮৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। অন্য দিকে একই সময়ে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) বরাদ্দ রেখেছিল ৩২৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। সদ্যসমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ডিএনসিসি মশক নিধনে ১৮৭ কোটি ৭৫ লাখ এবং ডিএসসিসি ৫৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা বাজেট রাখলেও ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে এটি তেমন ভূমিকা রাখতে পারেনি।

নগরাবাসী ও বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, সিটি করপোরেশনের ছিটানো কীটনাশক মশা কিংবা লার্ভা নিধনে কার্যকর হচ্ছে না। ঢাকাবাসীর মতে, কীটনাশকযুক্ত ধোঁয়া দেয়ার পর মশা কিছুক্ষণের জন্য ঝিমিয়ে পড়লেও পরে আবার উড়ে যায়।

জনস্বাস্থ্যবিদ ডা: ওয়াহিদ জামানের মতে, ঢাকায় কখনোই বৈজ্ঞানিক উপায়ে মশক নিধন করা হয়নি; বরং গতানুগতিক ধোঁয়া (ফগিং) ও তরল কীটনাশকের ওপর নির্ভর করে থাকা হয়েছে। তিনি প্রতিবেশীদের উদাহরণ টেনে বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশ কলকাতার মতো সাফল্য পেতে হলে কীটনাশক প্রয়োগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সচেতন ও যুক্ত করে প্রজননস্থল ধ্বংসের সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।

ব্যয় ও ব্যর্থতার বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমান ফোন কেটে দেন এবং উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী মুঠোফোনে সাড়া দেননি।