পিচ্চি হেলালের ভাইয়ের আশ্রয়ে লিবার্টি হাসপাতাল ‘দখল’

চাকরিচ্যুত আ’লীগপন্থী কিছু চিকিৎসকও জড়িত থাকার অভিযোগ

আবু সালেহ আকন
Printed Edition

রাজধানীর পরিবাগের মোতালেব টাওয়ারে অবস্থিত ‘লিবার্টি হসপিটাল’ জোরপূর্বক দখল করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে বিগত আওয়ামী লীগ আমলের সুবিধাভোগী একদল চিকিৎসক ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে। হাসপাতালটির বৈধ মালিকদের অভিযোগ, চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি হেলালের ছোট ভাই ওয়াহিদুল হাসান দীপুর আশ্রয়ে এই দখলের ঘটনা ঘটেছে। বিনিময়ে হাসপাতালের মালিকানা বা শেয়ার না থাকা সত্ত্বেও দীপুকে চেয়ারম্যান এবং ডা: শেখ মুজাম্মেল হককে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) করা হয়েছে।

হাসপাতালের প্রধান উদ্যোক্তা, পরিচালক ও সিইও জাহিদুল ইসলাম জানান, ২০২১ সালে নিবন্ধনের পর মোতালেব টাওয়ারের গ্রাউন্ড ফ্লোর ভাড়া নিয়ে তিনি হাসপাতালটির সেবা কার্যক্রম শুরু করেন। শুরু থেকেই স্থানীয় আওয়ামী লীগপন্থী কয়েকজন চিকিৎসক সেটিকে নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যবহারের চেষ্টা চালান। এদের অনেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার মামলায় অভিযুক্ত হয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ/সাবেক পিজি) থেকে চাকরিচ্যুত হয়েছেন। চাকরি হারিয়ে তারা হাসপাতালটি পুরোপুরি দখলে নেয়ার পাঁয়তারা শুরু করেন।

পরিবেশ অধিদফতরের বন্ধের নির্দেশনা অমান্য করে অবৈধ কার্যক্রম চলায় জাহিদুল ইসলাম শাহবাগ থানায় ছয়টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও আদালতে মামলা করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এর জেরে গত ২ সেপ্টেম্বর ওয়াহিদুল হাসান দীপুর নেতৃত্বে পুরো হাসপাতালটি নিয়ন্ত্রণ নেয় দখলদার চক্রটি। বর্তমানে বৈধ মালিক ও মূল পরিচালকদের হাসপাতালে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না এবং নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। স্থানীয় সূত্র ও জাহিদুলের দাবি, বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে পলাতক রাজনৈতিক নেতাদের আনাগোনা থাকে এবং খালি বেডগুলো তাদের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

দখলকৃত এমডি পদে বসা ডা: শেখ মুজাম্মেল হক সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা প্রফেসর ডা: আবুল কালাম চৌধুরীর দীর্ঘদিনের সহকারী ছিলেন। অন্য দিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ- দীপুর বিশাল বহর নিয়ে যাতায়াত এবং চার পাশের ব্যানার-ফেস্টুনের কারণে পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ডা: শেখ মুজাম্মেল হক মালিকানার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, “অভিযোগগুলো সঠিক নয়, আমি অস্ত্রোপচার কক্ষে (ওটি) আছি, পরে কথা বলব।” ওয়াহিদুল হাসান দীপুর মুঠোফোনে চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়া দিগন্তকে জানান, হাসপাতালটির নিয়ন্ত্রণ ও ব্যানার ছিঁড়াকে কেন্দ্র করে ঝামেলা হওয়ার কথা তিনি শুনেছেন; তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেনি।