তাবকা ও বৃহত্তম বাঁধ দখল করে রাক্কার দিকে অগ্রযাত্রা সিরীয় সেনাদের
Printed Edition
আলজাজিরা
সিরীয় সেনাবাহিনী ফোরাত নদীর তীরে কৌশলগত শহর তাবকা ও সামরিক বিমানঘাঁটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। রাক্কা প্রদেশে দ্রুত অগ্রযাত্রার অংশ হিসেবে এ দখল নিশ্চিত হয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। সিরিয়ার তথ্যমন্ত্রী হামজা আল-মুস্তাফা গতকাল রোববার সকালে জানান, সরকারি বাহিনী তাবকা ও সিরিয়ার সবচেয়ে বড় ফোরাত বাঁধ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এ সময় কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে)-সংশ্লিষ্ট যোদ্ধাদের বিতাড়িত করা হয়।
সিরিয়া সরকার অভিযোগ করেছে, তাবকায় কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরীয় ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) ও পিকেকে-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলো বন্দীদের হত্যা করেছে। এ ঘটনাকে তারা জেনেভা কনভেনশনের অধীনে পূর্ণাঙ্গ অপরাধ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। পিকেকে তুরস্ক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত। আলজাজিরার সাংবাদিক জেইন বাসরাভি জানিয়েছেন, উত্তর সিরিয়ায় লড়াইয়ের গতি হঠাৎ বেড়ে গেছে। আলেপ্পোতে মাত্র দুই সপ্তাহ আগে সংঘর্ষ হলেও এখন রাক্কার দিকে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে সেনারা। তিনি বলেন, ‘সবকিছু যেন রাতারাতি ইতিহাস হয়ে গেল।’ সিরীয় সেনারা আলেপ্পো থেকে রাক্কার দিকে অগ্রসর হয়ে এসডিএফ নিয়ন্ত্রিত এলাকায় প্রবেশ করছে। তাবকার ভেতরে লড়াইয়ের খবর পাওয়া গেছে, যেখানে সেনারা অভিযান চালাতে প্রস্তুত।
আরব অধ্যুষিত শহরগুলোতে সেনারা দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে, যেখানে এসডিএফের প্রতি স্থানীয় সমর্থন সবসময় ছিল না। এসডিএফ এখন আলেপ্পো ও রাক্কা প্রদেশজুড়ে বিরাট চাপের মুখে পড়ে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে যাচ্ছে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, এসডিএফ একটি সামরিক হাসপাতাল খালি করছে। শহরের দক্ষিণ প্রবেশপথে লড়াই তীব্র হয়েছে। রাক্কা ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ইসরাইলপন্থী আইএসআইএলের (আইএসআইএস) স্বঘোষিত রাজধানী ছিল। শহরটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় এবং আইএস শাসনে ব্যাপক লাশ পড়ে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি বিস্ফোরণে প্রধান পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাক্কার পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, এসডিএফ ইউফ্রেটিসের ওপর পুরনো সেতুটি উড়িয়ে দিয়েছে। সেনারা জানিয়েছে, তারা মানসুরা বাঁধ ও আশপাশের কয়েকটি শহর নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এতে তারা রাক্কার পশ্চিম প্রবেশদ্বার থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। পরে সেনারা জানায়, মানসুরা এলাকায় ঘেরাওয়ের পর ৬৪ জন এসডিএফ যোদ্ধা আত্মসমর্পণ করেছে।