সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি : আফ্রিকার হর্নে ইসরাইলের দৃঢ় অবস্থান
এই পদক্ষেপ নেতানিয়াহুর বিস্তৃত সঙ্ঘাত ও প্রভাব বিস্তারের এজেন্ডার অংশ
Printed Edition
আলজাজিরা
সোমালিয়ার বিচ্ছিন্ন অঞ্চল সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ইসরাইল আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলে নতুন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করেছে। ২০২৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন। এর মাধ্যমে ইসরাইল বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দিলো, যা ১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করলেও এতদিন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হয়নি।
ইসরাইলের পদক্ষেপ
ইসরাইলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেয়ন সা’আর জানুয়ারি ২০২৬-এ সোমালিল্যান্ড সফর করেন এবং হরগেইসার প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আব্দিরাহমান আব্দুল্লাহি মোহাম্মদের সাথে বৈঠক করেন। উভয় পক্ষ পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ঘোষণা দেয়। এর মধ্যে রয়েছে দূতাবাস খোলা, রাষ্ট্রদূত বিনিময় এবং নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করা। নেতানিয়াহু বলেন, এই স্বীকৃতি ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে’র চেতনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও কয়েকটি আরব দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ।
প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক
সোমালিল্যান্ডে এই ঘোষণা উদযাপনের মাধ্যমে জনগণ তাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের আনন্দ প্রকাশ করেছে। তবে সোমালিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার এটিকে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছে। মোগাদিশুতে বিক্ষোভ হয়েছে, যেখানে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ছবি পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়।
আফ্রিকান ইউনিয়ন, আরব লীগ এবং উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) ইসরাইলের এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলছে, এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করবে এবং সোমালিয়ার ভৌগোলিক অখণ্ডতা ক্ষতুœ করবে। জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদেও বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্ক হয়েছে। কয়েকটি সদস্য রাষ্ট্র সতর্ক করেছে, এই সিদ্ধান্ত হর্ন অব আফ্রিকার নিরাপত্তা জটিল করে তুলতে পারে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসরাইলের এই স্বীকৃতি মূলত কৌশলগত। হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলটি লোহিত সাগর ও গালফ অব এডেনের সংযোগস্থলে অবস্থিত, যা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও সামরিক কৌশলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সোমালিল্যান্ডে ইসরাইলের উপস্থিতি তাকে এই অঞ্চলে একটি নতুন অবস্থান এনে দিয়েছে। এর ফলে ইরান, তুরস্ক ও আরব দেশগুলোর সাথে প্রতিযোগিতা আরো তীব্র হতে পারে।