কোচ-খেলোয়াড় ছাড়াই সংবাদ সম্মেলন

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

একটি দল কোনো টুর্নামেন্ট খেলতে বিদেশে যাওয়ার আগে বা দেশে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচে খেলতে গেলে সংবাদ সম্মেলন হয়। এর ব্যতিক্রম করেনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। গত রাতেই ঢাকা ছেড়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় ফুটবল দল। তবে উজবেকিস্তানে যাওয়ার আগে বাফুফে আয়োজিত অনূর্ধ্ব-২০ দলের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন না দলের কোনো কোচ বা খেলোয়াড়। এই ব্যতিক্রমী কাজই গতকাল করেছে বাফুফে। ম্যানেজার সামিত কাসেম এবং বাফুফের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর সাইফুল বারী টিটু সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে মিডিয়ার তোপের মুখে পড়েন। এই সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের হেড কোচ জেরার্ড জেন্স বা সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশুর উপস্থিত না থাকার কারণ সপ্তাহখানেক আগে হোটেলে দুইজনের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি। এ নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা। জানা গেছে, বাফুফে দল থেকে বাদই দিতে চেয়েছিল ব্রিটিশ কোচ জেরার্ড জেন্সকে। হেড কোচ করার সিদ্ধান্ত নেয় মিশুকে। পরে মত পাল্টায়। শেষ পর্যন্ত বিবাদে জড়িয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির জন্ম দেয়া জেরার্ড ও মিশু দুইজনকেই পাঠানো হলো দলের সাথে।

সাধারণত এই ধরনের সংবাদ সম্মেলনে কোচ না এলে সহকারী কোচ বা কোচিং স্টাফদের অন্য কারো উপস্থিত থাকার কথা। সাথে অধিনায়ক বা অন্য কোনো ফুটবলার; কিন্তু এদের কারোরই উপস্থিত না থাকার নেপথ্য হিসেবে সামিত কাশেম উল্লেখ করেন, ‘দল লম্বা একটি পথ পাড়ি দিয়ে উজবেকিস্তান যাবে। একই বিমানে টিকিট না পাওয়ায় দুই ভাগে ভাগ হয়ে দুই ভিন্ন দেশে ট্রানজিট নিয়ে উজবেকিস্তান যাচ্ছি। পুরো দল সব কিছু গোছানোতে ব্যস্ত। তাই কোচ-খেলোয়াড় কাউকেই আনা হয়নি এই সংবাদ সম্মেলনে।’

ব্রিটিশ কোচ জেরার্ড জেন্স এ দেশে এসেই নানান অপপ্রচার চালাচ্ছেন। মিশুর সাথে ধাক্কাধাক্কি করে তিনি হোটেলে পুলিশ ডেকেছেন। এরপর নিজের নিরাপত্তা শঙ্কার কথা তার দেশের নিরাপত্তাবাহিনীকে অবগত করেছেন। এমন কোচ শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে কী দেবেন সেটিই প্রশ্ন। কিন্তু বাফুফে তাকে একেবারেই বরখাস্ত করতে পারছে না। কারণ এ জন্য বড় অর্থদণ্ড দিতে হবে। আবার টিমকে যেভাবে তিনি সাজিয়েছেন তাতে যেন ছন্দ পতন না হয় সে কারণেও তাকে দলের সাথে রাখা হয়েছে। এরপর এটা স্পষ্ট মিডিয়া থেকে দূরে রাখতেই কোচ জেরার্ড ও মিশুকে আনা হয়নি সংবাদ সম্মেলনে। দলের মধ্যে যখন এই অবস্থা তখন এর প্রভাব যে বাংলাদেশ দলের উপর পড়বে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। যেখানে বাংলাদেশ দল পাঁচ প্রবাসী ফুটবলারকে নিয়ে এবার কোয়ালিফাই করার জন্য উজবেকিস্তান যাচ্ছে। গ্রুপে প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান, সিরিয়া ও ভারত। এর মধ্যে বাংলাদেশ দল ৩১ আগস্ট প্রথম ম্যাচ খেলবে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে।

টেকনিক্যাল ডিরেক্টর সাইফুল বারী টিটু জানান, আমরা এই যে কোচ ও খেলোয়াড় ছাড়াই সংবাদ সম্মেলন করছি এটা অপ্রত্যাশিত। একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে এটা হয়েছে। এ জন্য আমরা ক্ষমা চাচ্ছি। বলেন, ‘আপানারা জানেন একটি ঘটনা ঘটেছে। এ জন্য ইন হাউজ তদন্ত হচ্ছে। অবশ্য এখানে হেড কোচের উপস্থিত থাকলে ভালো হতো। তিনি তার পরিকল্পনার কথা বলতে পারতেন।’ সামিত কাশেম যোগ করেন, ‘আমাদের সামনে এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ আসর। আমরা মাঠের বাইরের বিষয় থেকে খেলা নিয়েই বেশি ফোকাস থাকতে চাই।’

ম্যানেজার সামিত কাশেমের মতে, অবশ্যই এটা অস্বাভাবিক যে এই সংবাদ সম্মেলনে নেই কোচ বা খেলোয়াড়দের কেউ। তবে এখন দলের মধ্যে এখন কোনো সমস্যা নেই। যদিও গত কয়েক দিনে আমাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা এবং ট্রেনিংয়ে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। পুরো দলের ঐক্য অটুট আছে। আমরা টিম হিসেবেই যাচ্ছি। তথ্য দেন, কোচ জেরার্ড দৃঢ়তার সাথেই জানিয়েছেন,বাংলাদেশ এই আসরে কোয়ালিফাই করার জন্যই যাচ্ছে। আর এই মিশনে প্রথম খেলায় উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের লক্ষ্যেই নামব। এ ছাড়া আমরা সিরিয়ার সাথে ম্যাচের আগে ভারত ও সিরিয়ার ম্যাচটি দেখতে পারব।

দলে পাঁচজন প্রবাসী আছেন। এর মধ্যে স্ট্রাইকার মাহি খানকে নিয়ে বেশ আশাবাদী টিটু।