ন্যাটো সেনা নিয়ে মন্তব্যে ট্রাম্পকে ক্ষমা চাইতে বললেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

Printed Edition
onno-2
কিয়ার স্টারমার

আলজাজিরা ও বিবিসি

আফগানিস্তান যুদ্ধ প্রসঙ্গে ন্যাটো সেনাদের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্যের কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ক্ষমা চাইতে বলেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। ট্রাম্পের মন্তব্য ছিল, যুদ্ধ চলাকালে মার্কিন সেনারা সামনের সারিতে ছিল, আর ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর সেনারা দূরে অবস্থান করছিল। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এ বক্তব্যকে অপমানজনক আখ্যা দিয়ে বলেন, এ ধরনের মন্তব্য মিত্রদের অবদানকে খাটো করে দেখায় এবং সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

একটি সংবাদমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের মন্তব্যের সমালোচনা করে আফগানিস্তানে নিহত হওয়া ৪৫৭ জন সৈন্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তিনি বলেন, ‘আমি তাদের সাহস ও দেশের জন্য আত্মত্যাগের কথা কিছুতেই ভুলব না।’ যুদ্ধে যারা আহত হয়েছেন তাদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান কিয়ার স্টারমার। মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্যকে ‘অপমানজনক’ ও ‘ভয়ঙ্কর’ দাবি করে তিনি বলেন, ‘এই মন্তব্যে হতাহত সৈন্যদের পরিজন-সহ দেশকে আঘাত করেছে।’

প্রসঙ্গত, এই প্রথম নয়, এর আগেও কিয়ার স্টারমার তার দফতর থেকে বিবৃতি দিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যের বিরোধিতা করেছিলেন। ২০১১ সালে ৯/১১ কাণ্ডের পর ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তানে হামলা করেছিল। ২০২১ পর্যন্ত আফগানিস্তানই ছিল তাদের ‘ঠিকানা’। ২০১০-২১ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তানে ছিলেন ন্যাটোর প্রায় এক লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি সৈন্য। নিহত হয়েছিলেন অন্তত তিন হাজার ৪৮৬ জন। এর মধ্যে ন্যাটো বাহিনীর মার্কিন ও ইংল্যান্ডের নিহত সৈন্যদের সংখ্যা যথাক্রমে দুই হাজার ৪৬১ ও ৪৫৭ জন।

ট্রাম্পের মন্তব্যে প্রিন্স হ্যারির প্রতিক্রিয়া : আফগানিস্তান যুদ্ধে অংশ নেয়া ন্যাটো সেনাদের নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন ব্রিটিশ রাজপুত্র প্রিন্স হ্যারি। তিনি বলেন, ন্যাটো সৈন্যদের আত্মত্যাগ নিয়ে সত্য ও সম্মানের সাথে কথা বলা উচিত। প্রিন্স হ্যারি আরো জানান, ‘আমি সেখানে কাজ করেছি। সেখানে আমি আজীবন বন্ধু পেয়েছি এবং একই সাথে বন্ধুদের হারিয়েছি।’

শুক্রবার আফগান যুদ্ধে নিহত ৪৫৭ ব্রিটিশ ন্যাটো সেনার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রিন্স হ্যারি বলেন, ‘২০০১ সালে, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে ন্যাটো। এর অর্থ ছিল আমাদের যৌথ নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি মিত্র দেশ আফগানিস্তানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়াতে বাধ্য। মিত্ররা সেই আহ্বানে সাড়া দিয়েছিল।’ তিনি আরো বলেন, ‘(আফগান যুদ্ধে) হাজার হাজার জীবন চিরতরে বদলে গেছে। মা-বাবা ছেলেমেয়েদের কবর দিয়েছেন। সন্তানরা বাবা-মা হারিয়েছেন। পরিবারগুলোকে আজও এর মূল্য বহন করতে হচ্ছে।’

যুক্তরাজ্য ছাড়াও বিভিন্ন দেশের সরকারের মন্ত্রীরাও ট্রাম্পের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন। পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাডোস্লা সিকোরস্কি, যিনি নিজেও আফগানিস্তানে ফ্রন্টলাইনে কাজ করা ৩৩ হাজার পোলিশ সৈন্যের মধ্যে ছিলেন, তিনি বলেছেন, ‘আমাদের সৈন্যদের সেবা নিয়ে উপহাস করার অধিকার কারো নেই।’

কানাডার জাতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডেভিড জে ম্যাকগিন্টি বলেছেন, ‘কানাডিয়ান পুরুষ ও মহিলারা শুরু থেকেই (এই যুদ্ধে) মাঠে ছিলেন। এ জন্য আমরা বাধ্য ছিলাম তা নয়; বরং এটি সঠিক কাজ ছিল।’ তিনি বলেন, আফগানিস্তানের কান্দাহার প্রদেশে ন্যাটো মিত্রবাহিনীর নেতৃত্বে তাদের ১৫৮ জন সৈন্য ‘চড়া মূল্য পরিশোধ করেছে’।