দাঁড়িপাল্লা ও জামায়াতকে ’৭১ সালেই আমরা দেখেছি : মির্জা ফখরুল
Printed Edition
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
বিএনপি মহাসচিব এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনে দলটির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আপনাদের সামনে নতুন একটা মার্কা এসেছে না? নাম জানেন? তার নাম দাঁড়িপাল্লা। এই দাঁড়িপাল্লা ও জামায়াতকে ১৯৭১ সালেই আমরা দেখেছি। এরা আমাদের স্বাধীনতাবিরোধী ছিল। আজ তারা এদেশের মানুষের কাছে ভোট চায়। এরা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করেছে। আমাদের মা-বোনদেরকে পাকিস্তানিদের হাতে তুলে দিয়েছিল। এটা ঐতিহাসিক সত্য কথা। যাদের হাতে বাংলাদেশ নিরাপদ না, তাদের হাতে আমরা দেশকে তুলে দিব না। এখন আপনারাই সঠিক সিদ্ধান্ত নিবেন। গতকাল রোববার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের ফারাবাড়ি চেরাডাঙ্গী বাজার মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্যদানকালে তিনি এসব কথা বলেন ।
হিন্দু ও অন্য সম্প্রদায়ের লোকেদের উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল বলেছেন, হিন্দু ভোটারদের নিয়ে বিগত সময়ে নোংরা রাজনীতি করা হয়েছে। আমরা সবাই বাংলাদেশের মানুষ, কেউ সংখ্যাগরিষ্ঠ না, কেউ সংখ্যালঘু না। আমরা সব সময় আপনাদের সাথে আছি। আপনারা যাদের ভোট দিয়েছেন, তারা জিতলেও আপনারা মার খান হারলেও মার খান। সব সময় আপনাদের ব্যবহার করা হয়েছে। আমরা ক্ষমতায় যেতে চাই আপনাদের নিরাপত্তা দিতে। আমরা ক্ষমতায় গেলে আপনারা শান্তিতে থাকবেন, আপনারা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে যাকে খুশি তাকে ভোট দেবেন। আপনাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব আমাদের। বিএনপি মহাসচিব বলেন, এখন আমাদের সামনে দায়িত্ব এসেছে একটি সুন্দর দিন তৈরি করা। হানাহানি না করা, হিংসা না করা, পাল্টা মামলাবাজি না করা। এই কথাগুলো সবাই মনে রাখবেন। ওরা মামলাবজি করছে দেখে যেন আমরা মামলাবাজি না করি। এই পথটাই সবচেয়ে সুন্দর। রাসূলুল্লাহ সা: আমাদের সে কথাটাই শিখিয়েছেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমি ’৯১ সাল থেকে আপনাদের এলাকায় রাজনীতি করছি। বহুবার জেলে গেছি। একবার ঢাকার বাসা থেকে আমাকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। সে সময় আমার স্ত্রী খুব অসুস্থ। ডাক্তার বলেছেন অপারেশন করতে হবে কিন্তু তবুও আমাকে জেল থেকে মুক্তি দেয়নি। জেলে থাকা অবস্থায় আমার স্ত্রীকে অপারেশন করতে হয়েছে। সে সময় আমার স্ত্রী সন্তানরা আমাকে পায়নি। অনেক অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করেছি। তবে মাথা কখনো নত করি নাই।
তিনি আরো বলেন, রাজনীতি করে আমি বা আমার পরিবারের কেউ সম্পদ করিনি। আমরা কোনোদিন আপনাদের বিক্রি করে সম্পদ বানাইনি। আমরা বাপ-দাদার জমি জমা বিক্রি করে রাজনীতি করি।
সারসঙ্কট নিয়ে ইউনূস সরকারকে দায়ী করে তিনি বলেন, আমাদের এ কৃষিপ্রধান দেশে কৃষকরাই আমাদের প্রাণ। তাদের ভালো রাখলে দেশ ভালো থাকবে। আজ কৃষকরা সময়মতো সার পায় না। সারের সঙ্কট। সারের এ সঙ্কটের জন্য ইউনূস সরকার ও সরকারের লোকেরা দায়ী। আমরা ক্ষমতায় গেলে কৃষকদের সময়মতো ন্যায্যমূল্যে সার ও ফ্যামিলি কার্ডের সাথে ভাতা প্রদান করা হবে।
নির্বাচনী প্রচারণায় ভোট চেয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, এখন আমার বয়স হয়েছে। এটাই আমার শেষ নির্বাচন। তাই আমার জীবনের শেষ নির্বাচনে আপনারা আমাকে ভোট দিলে আপনাদের অসম্পূর্ণ কাজগুলো আমি সম্পন্ন করবো ইনশাআল্লাহ।
এ সময় নির্বাচনী প্রচারণায় দলের অন্যান্য নেতাকর্মীরা তার সাথে ছিলেন। এরপর বরুনাগাঁও দাখিল মাদরাসা মাঠ, গড়েয়া ইসকন মন্দিরসহ কয়েকটি স্থানে নির্বাচনী সভা করেন মির্জা ফখরুল ।