সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম
মন্ত্রিসভার ঋণখেলাপিদের নিয়ে জনগণ সুস্পষ্ট : জবাব আশা করে
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম দাবি করেছেন, এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী বিএনপির প্রায় ৬২ শতাংশ নির্বাচিত সংসদ সদস্যের কোনো না কোনোভাবে ঋণ রয়েছে, যার পরিমাণ ১৮ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রী যখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলেন, তখন তার নিজের মন্ত্রিসভা ও সংসদ সদস্যদের ঋণ পরিশোধের বিষয়ে জনগণ সুস্পষ্ট জবাব পাবে বলে আশা করছি।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নির্বাচন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ঋণ পরিশোধ না করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলা নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। দুর্নীতির প্রতিরোধ নিজের ঘর থেকেই শুরু করতে হবে। আগে নিজের দলের ভেতরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।’
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় নির্বাচন ছিল দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি। আমাদের প্রত্যাশা ছিল, এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পথে অগ্রসর হবে, রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ সম্পন্ন হবে, ফ্যাসিবাদের বিচার নিশ্চিত হবে এবং দুর্নীতিমুক্ত সুশাসনের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। তবে নানা কারণে সেই স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া সুষ্ঠু হলেও ফলাফলে কারচুপি হয়েছে। ‘দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে আমরা ফলাফল মেনে নিয়ে সামনের দিকে এগোতে দিয়েছি। জাতীয় সংসদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদকে কার্যকর করার লক্ষ্যে আমরা শপথ গ্রহণ করেছি,’ বলেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়া জনগণের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে, কারণ সরকারি দল সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেনি। ‘এটি নতুন বাংলাদেশের আকাক্সক্ষার সঙ্গে প্রতারণা,’ মন্তব্য করেন তিনি।
মন্ত্রিসভা গঠন নিয়েও সমালোচনা করেন এনসিপি আহ্বায়ক। তার দাবি, জুলাইয়ের তারুণ্যশক্তির প্রতিফলন বর্তমান মন্ত্রিসভায় দেখা যায়নি। ‘প্রায় ৬২ শতাংশ মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী ব্যবসায়ী। এখানে রাজনীতিবিদ ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের প্রতিনিধিত্ব থাকা উচিত ছিল,’ বলেন তিনি। তার অভিযোগ, এসব ব্যবসায়ীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ঋণখেলাপি।
একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ও হত্যা মামলার এক আসামিকে দায়িত্ব দেয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবসায়িক স্বার্থে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর অভিযোগ রয়েছে এবং দলীয়ভাবে তিনি খুব গুরুত্বপূর্ণ নন। শুধুমাত্র আর্থিক, ব্যবসায়িক ও দুর্নীতির কারণেই তাকে সেই মন্ত্রণালয় দেয়া হয়েছে।