মিনা-আরাফায় বিক্ষিপ্তভাবে তাঁবু বরাদ্দ
এ বছর হজে বাংলাদেশীদের সেবা বিঘেœর আশঙ্কা
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
এ বছরের হজে মিনা ও আরাফায় বাংলাদেশীদের সেবায় ঘাটতির আশঙ্কা করছে বেসরকারি হজ এজেন্সি মালিকদের সংগঠন হাব। একটি এজেন্সির হাজীদের বিভিন্ন তাঁবুতে রাখার ব্যবস্থা করায় এ ঘাটতি দেখা দেবে বলে মনে করছে সংগঠনটি। বিষয়টির সমাধানে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সৌদি আরবের বাংলাদেশ হজ অফিসের কাউন্সিলরকে চিঠি দিয়েছে হাব। এ বিষয়ে ধর্মমন্ত্রী ও সচিবকেও জানিয়েছে তারা। হাব এ ব্যাপারে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দ্রুত উদ্যোগ আশা করছে।
হাব মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার নয়া দিগন্তকে বলেন, প্রতি বছর হজে মিনা ও আরাফায় সব দেশের হাজীরা মিলিত হন। সেখানে সৌদি আরবের উদ্যোগে তাঁবু ও খাবারের ব্যবস্থাপনা করা হয়। বাংলাদেশ থেকে সরকারিভাবে ছাড়াও বেসরকারিভাবে এজেন্সিগুলোর ব্যবস্থাপনায় অনেক হাজী যান। প্রতি বছর এক এজেন্সির হাজীদের একসাথে রাখা হয়; কিন্তু এবার এক এজেন্সির হাজীকে বিভিন্ন জায়গায় রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে এজেন্সি মালিকদের সব হাজীকে সঠিকভাবে সেবা দেয়া দুরূহ হয়ে যাবে। এ জন্য বিষয়টি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। আমরা সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ বিষয়ে হাবের সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার বলেন, এ বছর রাজকীয় সৌদি সরকারের নতুন পদ্ধতিতে মিনায় প্রত্যেক এজেন্সিকে পাঁচ/সাত বা ততোধিক স্থানে তাঁবু বরাদ্দ নিতে হয়েছে। এজেন্সিগুলো যথাসময়ে পছন্দ অনুযায়ী তাঁবু বুকিং করলেও অনেক ক্ষেত্রে কোনো রকম কারণ ছাড়াই সেগুলো বাতিল হয়ে যায় এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে তাঁবু বুকিং দিতে হয়। এতে করে মিনা ও আরাফায় এক এজেন্সির হজযাত্রীরা পাঁচ/সাতটি ক্যাম্প অপারেটরে বিভক্ত হয় এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের হজযাত্রীদের সাথেও তাঁবু বরাদ্দ পাওয়া যায়। এতে করে হজের মূল সময় ও স্থানে অর্থাৎ মাশায়েরে হজযাত্রীদের যথাযথ সেবা বিঘিœত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, বিষয়টি হাবের পক্ষ থেকে রাজকীয় সৌদি সরকারের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের সাথে অনলাইন মিটিংয়ে উত্থাপন করা হলে তারা লিখিতভাবে মন্ত্রণালয়-মিশন থেকে চিঠি পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছেন। আগেও এরকম বিচ্ছিন্ন তাঁবুকে একই গুচ্ছে নিয়ে আসার নজির রয়েছে জানিয়ে হাব সভাপতি বলেন, এ জন্য আমরা সৌদি আরবের বাংলাদেশ হজ অফিসের কাউন্সিলরকে চিঠি দিয়েছি। বিষয়টি আমরা নবনিযুক্ত ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ এবং ধর্ম সচিব কামাল উদ্দিনকেও জানিয়েছি। আশা করছি তারা এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন। না হলে এবার হাজীদের সেবায় বিঘœ ঘটার আশঙ্কা করছি আমরা।