সম্পত্তি হস্তান্তর বিল পাসের প্রতিবাদে শুক্রবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাবা-মায়ের সুরক্ষার নামে প্রণীত সম্পত্তি হস্তান্তর বিল, ২০২৬ সংসদে পাসের প্রতিবাদে আগামীকাল শুক্রবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ওই দিন বাদ জুমা বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।
গতকাল বুধবার বিকেলে রাজধানীর পুরান পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংগঠনের যৌথসভায় এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। সভায় সভাপতিত্ব করেন তিনি। সভা পরিচালনা করেন যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, বাবা-মায়ের সুরক্ষার কথা বলে এমন একটি বিল সংসদে পাস করা হয়েছে, যা মুসলিম সমাজের উত্তরাধিকারব্যবস্থা, ফরায়েজ এবং বিশেষ করে নারীদের প্রাপ্য অধিকারকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমরা এই বিল মেনে নেব না। অবিলম্বে এটি বাতিল করতে হবে।’
তিনি বলেন, বাবা-মা আগে থেকেই চাইলে সন্তানকে হেবা বা বৈধ উপায়ে সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারতেন। এ ছাড়া বাবা-মায়ের ভরণপোষণ নিশ্চিত করার জন্য দেশে ২০১৩ সালের পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন রয়েছে। তাহলে নতুন করে সম্পত্তি হস্তান্তরের সুযোগ কেন আরো বিস্তৃত করা হচ্ছে, সরকারকে তার জবাব দিতে হবে।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, মুসলমানের উত্তরাধিকার কোনো সামাজিক রীতি বা পারিবারিক সমঝোতার বিষয় নয়; এটি আল্লাহ তায়ালার নির্ধারিত বিধান। জীবিত অবস্থায় সম্পত্তি হস্তান্তরের প্রবণতা এমন পর্যায়ে গেলে যে মৃত্যুর পর ফরায়েজ বণ্টনের জন্য সম্পত্তিই অবশিষ্ট না থাকে, তাহলে আইনগতভাবে ফরায়েজ বহাল থাকলেও এর বাস্তব প্রয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে।
তিনি বলেন, যে সমাজে মেয়েরা নানা কৌশলে ফরায়েজের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়, সেখানে জীবদ্দশায় সম্পত্তি একজন সন্তানের হাতে তুলে দেয়ার প্রবণতা বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হলে মেয়েরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাবা-মায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, তবে মেয়েদের আল্লাহপ্রদত্ত অধিকার ক্ষুণœ করে নয়।
শরিয়াহর বিধানকে রাষ্ট্রীয় আইনের ঐচ্ছিক বিকল্প হিসেবে উপস্থাপনের প্রবণতা উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইসলাম কোনো ‘অপশন’ নয় এবং আল্লাহর বিধান কোনো ‘মেনু’ নয় যে রাষ্ট্রীয় আইনের কাঠামোর মধ্যে মানুষ ইচ্ছামতো তা গ্রহণ বা বর্জন করবে।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, সংসদে পাস হওয়া বিলটি ইসলামী আইন, ফরায়েজ ও সম্পত্তি আইনের বিশেষজ্ঞ আলেম-উলামা ও আইনজ্ঞদের মাধ্যমে আবার পর্যালোচনা করতে হবে। প্রয়োজন হলে সংশোধন করতে হবে। আর এতে শরিয়াহ ও মুসলিম উত্তরাধিকারব্যবস্থার সাথে সাংঘর্ষিক কোনো বিষয় থাকলে সম্পূর্ণ বিলটি বাতিল করতে হবে।
রাষ্ট্রপতির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের ধর্মীয় অধিকার ও মুসলিম উত্তরাধিকারব্যবস্থার সাথে সাংঘর্ষিক কোনো বিলে স্বাক্ষর করা উচিত হবে না। ইসলামবিরোধী কোনো বিল রাষ্ট্রীয় অনুমোদন পেলে তা দেশের জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি করবে এবং এর দায় সরকারকে বহন করতে হবে।
আগামীকাল শুক্রবারের বিক্ষোভ মিছিলে আলেম-উলামা, ধর্মপ্রাণ মুসলমানসহ সর্বস্তরের জনগণকে শান্তিপূর্ণভাবে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় আরো বক্তব্য দেন নায়েবে আমির মাওলানা মাহবুবুল হক, মাওলানা কুরবান আলী কাসেমী, যুগ্ম মহাসচিব মুফতি শরাফত হোসাইন ও মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী, মাওলানা ফয়সাল আহমদ, মাওলানা আবু সাঈদ নোমান, প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা হারুনুর রশীদ ভূঁইয়া, অফিস সম্পাদক মাওলানা রুহুল আমীন খান, আইনবিষয়ক সম্পাদক মাওলানা শরীফ হোসাইন, সহ-প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা নুর মুহাম্মাদ আজীজ, সহকারী বায়তুলমাল সম্পাদক কারি হোসাইন আহমদ, নির্বাহী সদস্য মাওলানা ছানাউল্লাহ আমিনী, মাওলানা আনোয়ার রাজী, মাওলানা রাকিবুল ইসলাম, মাওলানা মুর্শিদুল আলম সিদ্দীক ও মাওলানা জাহিদুজ্জামান এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের সহসভাপতি মাওলানা এহসানুল হক প্রমুখ।