নির্বাচন কমিশনকে আরো ১০৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ

বেঁধে দেয়া হয়েছে ৮ শর্ত

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে নির্বাচন কমিশনকে এক হাজার ৭০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ছাড় করেছে অর্থমন্ত্রণালয়।

এ জন্য মোট আটটি শর্ত মেনে চলতে হবে। গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারের অপ্রত্যাশিত খাতের অব্যয়িত অর্থ থেকে এ টাকা দেয়া হবে। অনুমোদিত অতিরিক্ত অর্থ চারটি সমান কিস্তিতে ধাপে ধাপে দেয়া হবে। গতকাল অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রথম কিস্তির অর্থ ছাড় করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, অতিরিক্ত এ বরাদ্দ নির্বাচন কমিশন সচিবালয় বিশেষ কার্যক্রম ‘১০৬০১০১-১২০০০০২০০ নির্বাচন’-এর ১৮টি কোডে বিভিন্ন খাতে ব্যয় করবে।

সূত্র জানায়, নির্বাচন পরিচালনার জন্য চলতি বাজেটে নির্বাচন কমিশনের অনুকূলে মোট দুই হাজার ৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর অর্ধেক অর্থাৎ এক হাজার ৪০ কোটি টাকা আগেই ছাড় করা হয়েছে। এবার দ্বিতীয় দফায় অবশিষ্ট অর্ধেক এক হাজার ৪০ কোটি টাকা এবং অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রথম কিস্তির ২৬৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা এক সাথে অর্থাৎ মোট এক হাজার ৩০৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ছাড় করা হয়েছে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে নির্বাচন প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ায় মূল বরাদ্দের অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ অবমুক্ত করার পাশাপাশি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সাথে গণভোট আয়োজন, নির্বাচনে প্রবাসী ভোটারদের এবং নির্বাচনের সাথে জড়িত দেশের অভ্যন্তরীণ ভোটারদের ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের চাহিদাকৃত অতিরিক্ত এক হাজার ৭০ কোটি টাকা বরাদ্দের যৌক্তিকতা রয়েছে।

অর্থ বিভাগ জানায়, চলতি অর্থবছরে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জন্য মোট বরাদ্দের পরিমাণ হচ্ছে দুই হাজার ৭২৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে শুধু নির্বাচন বাবদ বরাদ্দ ছিল দুই হাজার ৮০ কোটি টাকা। এর বাইরে অবশিষ্ট অর্থ দ্বারা অতিরিক্ত চাহিদার সঙ্কুলান হবে না। এ পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত চাহিদার অর্থ ‘অপ্রত্যাশিত খাত’-এর অব্যয়িত অর্থ থেকে প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ে অর্থ বিভাগ ৮টি শর্ত বেঁধে দিয়েছে। এগুলো হচ্ছে-

এ অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে ‘পাবলিক প্রকিউমেন্ট অ্যাক্ট ২০২৬’ এবং ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস ২০২৫’ অনুসরণসহ যাবতীয় আর্থিক বিধি-বিধান ও নিয়মাচার যথাযথ অনুসরণ করতে হবে; যে খাতে ব্যয়ের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেয়া হলো- সে খাত ছাড়া অন্য কোনো খাতে এ অর্থ ব্যয় করা যাবে না।

মূল মোট বরাদ্দ ও অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রথম কিস্তির প্রকৃত ব্যয়ের ভিত্তিতে অতিরিক্ত বরাদ্দের অবশিষ্ট দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ কিস্তির অর্থর ছাড় করা যাবে।

বরাদ্দকৃত অর্থের বিস্তারিত বিভাজনের সরকারি আদেশ (জিও) জারিপূর্বক পৃষ্ঠাঙ্কনের জন্য অর্থ বিভাগে পাঠাতে হবে।

অতিরিক্ত বরাদ্দ চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে প্রতিফলন ঘটাতে হবে।

নির্বাচন সংক্রান্ত অন্যান্য যাবতীয় ব্যয় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের বাজেট থেকে ব্যয় করতে হবে।

অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম উদঘাটিত হলে ব্যয়কারী কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবেন এবং অব্যয়িত অর্থ (যদি থাকে) আগামী ৩০ জুনের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।

এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে সরকার বদ্ধপরিকর। তাই আর্থিক কোনো ব্যাপার যাতে নির্বাচন আয়োজনে কোনো ব্যঘাত সৃষ্টি করতে না পারে সে বিষয়ে আমাদের নির্দেশনা দেয়া আছে। তাই যখন নির্বাচন কমিশন আমাদের কাছে অর্থ চেয়েছে তা আমরা ছাড় করে দিয়েছি।