এডিপি বাস্তবায়নে দৈন্যতা ভেঙে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা
Printed Edition
- ৮ মাসে বাস্তবায়ন হার মাত্র ৩০.৩১ শতাংশ
- নিজস্ব অর্থও ব্যবহার করতে পারেনি ৭ মন্ত্রণালয়
উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘদিনের দৈন্যতা ও নেতিবাচক অগ্রগতি থেকে বেরিয়ে ইতিবাচক পথে ঘুরে দাঁড়াবার চেষ্টা করা হচ্ছে। যদিও বড় বড় বরাদ্দপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়গুলোর বেশির ভাগই বাস্তবায়নদৈন্যতায় এখনো। তবুও নতুন সরকারের প্রথম মাসে এবং অর্থবছরের আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন হার ৩০.৩১ শতাংশে এসেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কিছুটা বেশি। তবে আগের ৫ বছরের মধ্যে সর্বনি¤œ বাস্তবায়ন হার বলে আইএমইডির প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্য থেকে জানা গেছে। এ ছাড়া এই সময়ে সর্বোচ্চ বাস্তবায়ন হার ছিল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ৭০.৭৪ শতাংশ। নিজস্ব অর্থ গত আট মাসে খরচ করতে পারেনি স্বাস্থ্য শিক্ষা, স্থানীয় সরকার, পরিবেশসহ সাত মন্ত্রণালয়।
পরিকল্পনা কমিশনের আইএমইডির প্রকাশিত এডিপির বাস্তবায়নের হালনাগাদ তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরে এডিপির আকার ছিল মোট দুই লাখ ৮ হাজার ৯৩৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে জিওবি এক লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা এবং প্রকল্প সহায়তা ৭২ হাজার কোটি টাকা। অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) খরচ হয়েছে মাত্র ৬৩ হাজার ৩২৮ কোটি টাকা। যেখানে গত অর্থবছর একই সময়ে ব্যয় হয়েছিল ৬৭ হাজার ৫৫৩ কোটি ২১ লাখ টাকা বা ২৯.৮৭ শতাংশ। এর আগের তিন বছরে গড়ে ৮২ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছিল উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে। এক হাজার ৩৫৯টি বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য এই অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে আগের চার বছরের তুলনায় এই বাস্তবায়ন হার কম। ২০২১-২২ অর্থবছর একই সময়ে ছিল ৩৮.৬০ শতাংশ বা সাড়ে ৮৪ হাজার কোটি টাকার বেশি, ২০২২-২৩ অর্থবছর ৩৪.৭৪ শতাংশ বা ৮২ হাজার কোটি টাকার বেশি, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩৩.৬৫ শতাংশ বা সাড়ে ৮৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়েছিল।
অগ্রগতির হার ৩০.৩১ শতাংশ
দেশের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আগের তুলনায় একটু বেড়েছে। সরকারের ক্ষমতার প্রথম মাসেই এই অগ্রগতি বা ইতিবাচক পরিবর্তন। বছর গেলেই অতীতের বছরের তুলনায় অগ্রগতি যেখানে কম হচ্ছে, সেখানে বিএনপি সরকার ক্ষমতা নেয়ার প্রথম মাসে এসে ইতিবাচক ধারা শুরু হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি আট মাসে মোট বরাদ্দের ৩০.৩১ শতাংশ অর্থ খরচ হয়েছে। এখানে শুধু ফেব্রুয়ারি মাসেই বাস্তবায়ন হার বেড়ে দ্বিগুণ বা ৬.১১ শতাংশ বা ১২ হাজার ৭৭১ কোটি ২৩ লাখ টাকা। যা আগের অর্থবছরের ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৩.৩৯ শতাংশ বা ৭ হাজার ৬৭৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। আর আট মাসে জিওবি অর্থ ব্যয় হয়েছে ৩৪ হাজার ২১৯ কোটি টাকা বা ২৬.৭৩ শতাংশ, পিএ ২৪ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা বা ৩৪.৬০ শতাংশ এবং নিজস্ব অর্থ ৪ হাজার ১৯৪ কোটি টাকা বা ৪৬.৯৩ শতাংশ। এই হার গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে।
সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্তদের হার ৩৭.৪২ শতাংশ
এডিপিতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ প্রাপ্ত ১৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জন্য বরাদ্দ ছিল ৭০.৯৭ শতাংশ অর্থ, যা এক লাখ ৪৮ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা। তাদের বাস্তবায়ন হার ৩৭.৪২ শতাংশ। সর্বোচ্চ ৭০.৭৪ শতাংশ বা ৮ হাজার ৫০৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয় করতে পেরেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। জ্বালানি বিভাগ ৪৯.৩৭ শতাংশ, সেতু বিভাগ ২৪.৬৯ শতাংশ, স্থানীয় সরকার বিভাগ ৪১.৬২ শতাংশ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ৪৩.৪৭ শতাংশ, পানি সম্পদ ৩৮.০৯, সড়ক পরিবহন ২৫.১২ শতাংশ, বিদ্যুৎ বিভাগ ৩৬.৮৮ শতাংশ, নৌ পরিবহন ৩৪.৯০ শতাংশ, স্বাস্থ্য সেবা ২১.০৮ শতাংশ অর্থ খরচ করতে পেরেছে।
বিদেশী সহায়তা খরচে ব্যর্থ : খরচে ব্যর্থ হওয়ার কারণে পাইপ লাইনে বিদেশী সহায়তার অর্থ বছরের পর বছর পড়ে থাকে। বাস্তবায়নে গতিহীনতায় উন্নয়ন সহযোগীরা অর্থছাড় করে না। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আট মাসে তিনটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ প্রকল্প সহায়তার একটি অর্থও খরচ করতে পারেনি। সেগুলো হলো- বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, আইএমইডি, সংসদ বিষয়ক সচিবালয়। আট মাসে ১০ শতাংশও খরচ করতে পারেনি, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, জননিরাপত্তা বিভাগ, পরিকল্পনা বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, আইন ও বিচার বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ।