বিসিবি পরিচালককে ক্ষমা চাইতে বললেন ক্রিকেটাররা

তামিমকে ভারতের দালাল বলায়

Printed Edition
khela-5
বিসিবি পরিচালককে ক্ষমা চাইতে বললেন ক্রিকেটাররা

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ফেসবুকে তামিম ইকবালকে ভারতের দালাল বলে স্ট্যাটাস দিয়েছেন বিসিবি পরিচালক ও অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান এম নাজমুল ইসলাম। আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স বাদ দিয়েছে বাংলাদেশী কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমানকে। এরপর বিসিবি ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারতে শুরু হওয়া টি-২০ বিশ^কাপ খেলতে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। আইসিসিকে অনুরোধ করেছে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করতে। বিসিবির এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন তামিম ইকবাল। এরপরই তামিমের সেই বক্তব্যের জেরে ফেসবুকে তামিমকে ভারতের এজেন্ট বলেন নাজমুল ইসলাম। তার এই স্ট্যাটাসের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ক্রিকেটাররা। এর প্রতিবাদে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব নাজমুলকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বলেছে। তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবিও করেছে কোয়াব। এ ঘটনায় বিসিবির কাছে একটি প্রতিবাদলিপি পাঠিয়েছে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবও।

বাংলাদেশের ভারতে না যাওয়া নিয়ে রীতিমতো তোলপাড়ই চলছে। বিসিবির এই সিদ্ধান্ত নিয়ে পরশু জিয়া আন্তঃকলেজ ক্রিকেটের জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠানে নিজের মতামত জানিয়েছে তামিম ইকবাল। তার বক্তব্যের সারমর্ম হলো, বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবস্থান এবং ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত

বাংলাদেশ দলের সাবেক এই অধিনায়কের মন্তব্যের একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম। ওই পোস্টে নাজমুল লিখেছেন, ‘এইবার আরো একজন পরীক্ষিত ভারতীয় এজেন্টের আত্মপ্রকাশ বাংলার জনগণ দুচোখ ভরে দেখল।’

আরো লিখেছেন, ‘মুস্তাফিজ ইস্যুতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যখন ভারতে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে, মাননীয় ক্রীড়া উপদেষ্টা বিষয়টা আন্দাজ করতে পেরে আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরে বিসিবিকে আইসিসির সাথে আলোচনা করতে বলেছেন। মাননীয় পররাষ্ট্র উপদেষ্টা পর্যন্ত সমর্থন করেছেন ক্রীড়া উপদেষ্টার সিদ্ধান্তকে। এমন এক পরিস্থিতিতে দেশের জনগণের সেন্টিমেন্টের বাইরে গিয়ে ভারতীয়দের হয়ে ব্যাট করেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের জার্সিতে ১৫ হাজার রান করা এক লিজেন্ডারি ক্রিকেটার।’

এ নিয়ে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি তামিম ইকবাল। তবে তার সতীর্থরা সরব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম ফেসবুকে লিখেছেন, সাবেক জাতীয় অধিনায়ক তামিম ইকবালকে নিয়ে বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের বক্তব্যে আমি হতবাক। একজন জাতীয় দলের ক্রিকেটার সম্পর্কে বোর্ড পরিচালকের এমন শব্দচয়ন শুধু রুচিহীনই নয়, তা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং আমাদের ক্রিকেট সংস্কৃতির পরিপন্থী।

এ জন্য নাজমুলকে ক্ষমা চাইতে বলেছেন তিনি। এই বাঁহাতি স্পিনার লিখেছেন ‘এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে আমি দৃঢ়প্রতিবাদ জানাচ্ছি। দায়িত্বশীল একটি পদে থেকে প্রকাশ্য এ ধরনের বক্তব্য দেয়া বোর্ড কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্ব, নৈতিকতা ও আচরণবিধি নিয়েই গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দেয়। এ কারণে সংশ্লিষ্ট পরিচালকের প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনার পাশাপাশি তাকে যথাযথ জবাবদিহিতার আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।’

জাতীয় দলের সাবেক টেস্ট অধিনায়ক মমিনুল হক ফেসবুকে লিখেছেন, ‘সাবেক জাতীয় অধিনায়ক তামিম ইকবালকে নিয়ে বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের মন্তব্য সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং দেশের ক্রিকেট সমাজের প্রতি অপমানজনক। একজন ক্রিকেটারের প্রতি এমন আচরণ বোর্ডের দায়িত্ব ও নৈতিকতার সাথে সাংঘর্ষিক।’

বাঁহাতি ব্যাটার মমিনুল আরো লিখেছেন, ‘একজন সিনিয়র ক্রিকেটারকে ন্যূনতম সম্মানও দেয়া হয়নি; বরং তাকে জনসম্মুখে ইচ্ছাকৃতভাবে অপমান করা হয়েছে। এত বড় দায়িত্বে বসে কোথায় এবং কিভাবে কথা বলতে হয়, তার বেসিক শিষ্টাচারও এ ধরনের মন্তব্যে দেখা যায়নি। আমি এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং সংশ্লিষ্ট পরিচালকের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া ও তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি। বিসিবিকে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’

প্রতিবাদ করেছেন জাতীয় দলের পেসার তাসকিন আহমেদও। ফেসবুকে তার মন্তব্য, ‘ক্রিকেট বাংলাদেশের প্রাণ। সেই ক্রিকেটে বড় অবদান রাখা সাবেক জাতীয় অধিনায়ককে ঘিরে সাম্প্রতিক এক মন্তব্য অনেককেই ভাবিয়েছে। দেশের একজন সাবেক ক্রিকেটারকে উদ্দেশ্য করে এ ধরনের বক্তব্য দেশের ক্রিকেটের স্বার্থে সহায়ক নয় বলেই মনে করি। আশা করি, সংশ্লিষ্ট মহল বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে এবং ভবিষ্যতে আরো দায়িত্বশীল অবস্থান নেবে।’